NarayanganjToday

শিরোনাম

আ.লীগের সম্মেলনে যুবলীগের হামলা ভাঙচুর, কমিটি নিয়ে উত্তেজনা


আ.লীগের সম্মেলনে যুবলীগের হামলা ভাঙচুর, কমিটি নিয়ে উত্তেজনা

সোনারগাঁয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই দলের নেতা মাহফুজুর রহমান কালাম অনুসারি যুবলীগের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীদের উপর এই হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, বন্দর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, আওয়ামী লীগ নেতা বশির মিয়ার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই হামলার ঘটনায় মাহফুজুর রহমান কালামকেই দায়ী করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তার দাবি, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশেই এখানকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হচ্ছে। এখানে যারা হামলা চালিয়েছে। বাধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানায়, পূর্ব নির্ধারিত জামপুর ইউনিয়নের উটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এদিন তিনটার দিকে উপজেলা যুবলীগ বর্ধিত সভার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সাথে একই সময় জামপুর ইউনিয়ণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত। এ নিয়ে সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। তবে, পুলিশ সংঘর্ষের আশঙ্কায় কোনো পক্ষকেই উটমা স্কুলে কোনো সভা করতে দেয়নি।

সূত্র আরও জানায়, জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের স্থান পরবর্তীতে তারা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর বাড়িতে পুলিশী প্রহরায় সম্মেলনের স্থান ঠিক করেন। এই সম্মেলনে আসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর মাহফুজুর রহমান কালাম সমর্থিত ছাত্রলীগ, যবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এছাড়াও তারা উটমা স্কুলে আওয়ামী লীগের স্টেজ, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে বিরুর বাড়িতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সামসুদ্দিন খান আবুকে আহ্বায়কও হাজী শাহজাহান খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে এখনও উত্তেজনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে আরও বড় ধরণের কোনো সংঘর্ষ ঘটতে পারে সেখানে।

এদিকে ওটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার স্টেজ, ব্যানার ফেস্টুন ভাংচুর করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, নিয়ম মেনেই সোনারগাঁয়ে আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁওয়ের সকল ইউনিয়নে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে জামপুর যুবলীগের পক্ষ থেকে উটমা স্কুলে বর্ধিত সভা করার জন্য প্রাশাসনকে জানানো হয়েছে। আমাদের সভা করার কথা শুনে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ আমাদের সভা স্থানে সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়।

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া জানান, জামপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য উটমা স্কুলে স্টেজ ও ব্যানার লাগানো হয়। যুবলীগ এ সম্মেলন বানচাল করার জন্য সভা ডাকে। তবে আমরা সংষর্ষ এড়ানোর জন্য সভাস্থল ত্যাগ করে ডা. বিরুর বাসায় সভা করেছি।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, উটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা করার জন্য আওয়ামী লীগ যুবলীগে কেউ অনুমতি নেয়নি। তবে, দু’পক্ষকেই সহনশীল হয়ে একই স্থানে সভা না করে আলাদা আলাদা স্থানে সভা করার জন্য বলা হয়েছে। সংঘর্ষের আশংকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নেতারা স্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে ঘরোয়া সম্মেলন করেছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে