NarayanganjToday

শিরোনাম

শীতলক্ষ্যায় বেপরোয়া নৌযানে দুর্ঘটনা, লাগাম টানবে কে?


শীতলক্ষ্যায় বেপরোয়া নৌযানে দুর্ঘটনা, লাগাম টানবে কে?

শীতলক্ষ্যায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত গতির লঞ্চ অথবা জাহাজ কিংবা বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কা ট্রলার ডুবির ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর কিছুদিন হইচই হলেও পরে আবার সেই আগের মতোই অবস্থা দেখা যায়।

বিশেষ করে শীতলক্ষ্যার বন্দর সেন্ট্রাল ঘাট, ৫নং ঘাট, নবীগঞ্জসহ এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এমন দুর্ঘটনা প্রায় ঘটে থাকে। নৌ-পুলিশ বিভাগ থেকেও এসব স্থানগুলোতে গতি কমিয়ে দিয়ে নৌ-যান চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না কেউই।

বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে সঠিক তদারকি না থাকার কারণে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ, বাল্কহেড অথবা লাইটার জাহাজের বেপরোয়া গতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে বেপরোয়া গতির লঞ্চের কারণে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। ডুবে যায় একটি যাত্রীবাহি ট্রলার।

নারায়ণগঞ্জের ফেসবুক গ্রুপ নারায়ণগঞ্জস্থান এ এমনই চিত্র তুলে শামসুল আরেফীন নামে জনৈক ব্যক্তি আক্ষেপ নিয়ে একটি পোষ্ট করেন। তিনি তাঁর পোষ্টে সংসদ সদস্য, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসকসহ সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখেন, “কার কাছে আবেদন রাখবো? মাননীয় সাংসদ? মাননীয় পুলিশ প্রশাসক? মাননীয় জেলা প্রশাসক?

উপরে উল্লেখিত মাননীয় ব্যাক্তিবর্গ সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও সম্মানিত গনমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ২৩/০৮/২০১৮ ইং, দুপুর প্রায় ১২ টায় বন্দর ঘাট দিয়ে নদী পার হচ্ছি। শীতলক্ষ্যা নদীর উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসছিল এমভি সিটি নেভিগেশন -১৩ নামের একটি লাইটারেজ কার্গো ভেসেল।

যে গতিতে আসছিল, সামনে কোনো নৌ-যান পড়লে নিশ্চিত একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো, এমন গতি হঠাৎ আয়ত্তে আনা অসম্ভব। বিগত সময়ে এমন বেপরোয়া গতির কারনে নৌকা, ট্রলার ডুবিতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের ও জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন হুঁশিয়ারি থাকা সত্যেও বালুবাহী ট্রলার ও লাইটারেজ জাহাজগুলোর বেপরোয়া গতি আয়ত্তে আসছে না। যখনই কেউ লাশ হয়, তখনই একটু হৈচৈ, তারপর আবার যে লাউ সেই কদু।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই দেখি নৌ-পুলিশ জলযান থেকে মাসোহারা নিচ্ছে,কিন্তু কখনও কোন সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম না যে, বেপরোয়া গতির কোন নৌ-যান কে তারা সাবধান করছে বা জরিমানা করছে। দায়িত্ব এড়িয়ে চলা কারো পরিবারের সদস্যও হতে পারে দুর্ঘটনার শিকার।

একেকটা জীবন খুবই মূল্যবান। যে পরিবারের যায় তারা সবচেয়ে ভালো বুঝে। তাই, নদী পথে জীবন রক্ষার্থে, নিরাপদ নৌ-যান চলাচল প্রয়োজন। আর এজন্য বেপরোয়া গতির নৌ-যানগুলোকে কঠোর আইন ও নজরদারিতে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

লেখক : শামসুল আরেফীন, সভাপতি, অ্যাসোসিয়েশন অব শিপবিল্ডিং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাসডেব) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি

উপরে