NarayanganjToday

শিরোনাম

রফিক তার অফিসেই আমাকে রেপ করতে চেয়েছে : প্রিয়তি (ভিডিও)


রফিক তার অফিসেই আমাকে রেপ করতে চেয়েছে : প্রিয়তি (ভিডিও)

এবার রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ণের চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনে রীতি মতো বোমা ফাঁটিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা প্রিয়তি। তিনি একাধারে অভিনেত্রী ও মডেল।

পুরো বিশ^ব্যাপী যখন যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে নারীরা লজ্জা ভেঙে ভদ্রবেশী পুরুষের মুখোশ খুলতে শুরু করেছেন তখন এই ঢেউ এসে লাগে বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যে অনেকেই ফেসবুকে টুকটাক #সবঃড়ড় এর মাধ্যমে তারাও মুখ খুলতে শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা প্রিয়তিও মুখ খুলেছেন তার সাথে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থা নিয়ে। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন তার ফেসবুক একাউন্টে। সেখানে তিনি রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যা রফিকুল ইসলামের একটি ছবিসহ পোস্ট করে জানিয়েছে ২০১৫ সালের মে মাসে তার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা।

সেখানে তিনি লিখেছেন, রফিকুল ইসলাম রফিকের দ্বারা কীভাবে তিনি যৌন হেনস্থা হয়েছেন। আর এই স্ট্যটাস নিয়ে এখন ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। রফিককে নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। কেউ কেউ কায়েতপাড়া ইউনিয়ণ পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের শাস্তিরও দাবি তুলেছেন।

মাকসুদা প্রিয়তি তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেছেন, রফিকুল ইসলাম রফিকদের হাতে গণমাধ্যমগুলোও জিম্মি। তাই এ ব্যাপারে তারা কেউ তাকে নিয়ে লিখবে না। এছাড়া ব্যাপক ক্ষমতাধর রফিক এমনটিও সে তার স্ট্যাটাসে লিখেন। একই সাথে এই স্ট্যাটাসের পর অনেকেই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন এমন আশঙ্কাও করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার পর মুখ না খোলার জন্য বেশ কয়েকবার প্রিয়তিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন রফিক, যা প্রিয়তি তার স্ট্যাটাসেও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ২০১৫ সালের মে মাসে রফিকের অফিসে তিনি গিয়েছিলেন তাদের প্রোডাক্ট প্রমেক্স এর বিজ্ঞাপন এর পেমেন্ট আনতে। তিনি রফিকের রুমেই বসা ছিলেন। একই সাথে বসা ছিলেন রংধনু গ্রুপের জেমরিনা জামানও। তবে, প্রিয়তির সাথে ব্যক্তিগত কথা আছে, এমন জানিয়ে জেমরিনা জামানকে রুম থেকে বের করে দিয়েছিলেন রফিক। এরপরই রফিকুল ইসলাম রফিক তার টেবিল থেকে ওঠে এসে মাকসুদা প্রিয়তির সাথে অসভ্যতা শুরু করেন। করেন যৌন হেনস্থা।

প্রিয়তি তার সেই স্ট্যাটাসে দুজনকে এ ঘটনাটিন সাক্ষী করে ট্যাগও দেন। সেখানে একজন   জেমরিনা জামান আরেকজন খালেদ হোসাইন সুজন। তিনি বলেন, রফিকের রুম থেকে কোনো মতে নিজেকে ছাড়িয়ে নেন এবং বাইরে এসে জেমরিনা জামানকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন এবং তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করেও কেঁদেছিলেন সেদিন। এছাড়াও একই ঘটনা তিনি সুজনকে জানিয়েও কেঁদেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তার স্ট্যাটাসে।

প্রিয়তি আক্ষেপ নিয়ে লিখেন, বাংলাদেশে #সবঃড়ড় এর মুভমেন্ট কিভাবে হবে? এই লোককে নিয়ে কেউ কোন নিউজ করবে না, কারণ গনমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিকদের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশীরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। কিভাবে খুলবে মেয়েরা মুখ? যেখানে জানবে তাদের কিছুই হবে না।

এছাড়া তিনি লিখেন, “এই পোস্টের পর হয়তো আমার নামে মানহানির মামলা হবে, না হয় বলবে অসৎ উদ্দেশ্য আছে আমার ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশের মেয়েরা ততদিন মুখ খুলবে না, #মিথটু ও হবে না, ভারতের মতো যতদিন ওরা অনুভব করবে তাদের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন এবং তাদের পাশে থাকবে সে যত উপরের মানুষ ই হোক না কেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, পুরো ঘটনাটি লজ্জায় লিখতে পারিনি কারণ ঘটনা এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল।”

এছাড়াও মাকসুদা প্রিয়তি আরও একটি স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন তার জীবন এখন হুমকির মুখে। তাকে যে কোনো সময় হত্যা বা খুন করা হতে পারে। আর এ জন্য দায়ি থাকবেন রফিকুল ইসলাম। এমনটি জানিয়ে তিনি লিখেন, “রংধনু গ্রুপের ওয়েবসাইট অলরেডি ওরা উরংধনষবফ করে ফেলেছে। আমার জীবনের যদি কোন ক্ষতি হয় অর্থাৎ প্রানহানী করার ঘটনা ঘটে তাহলে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম দায়ী থাকবেন। কারন তিনি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তিন বছর আগেই, এমনকি আয়ারল্যান্ড এ এসে-ও আমাকে মেরে ফেলা তার জন্য নাকি দুই পয়সার ব্যাপার।”

এছাড়াও প্রিয়তি সর্বশেষ আরও একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেন “দেখুন গিয়ে আজ রাতেই পালিয়ে যাচ্ছে মিঃ রফিক সিঙ্গাপুরে , কারণ তার বৈধ/অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা হয় সিঙ্গাপুর এবং মালয়েসিয়া থেকে আমি যতখানি জানতাম। রংধনু গ্রুপের ওয়েবসাইট উধাও করে ফেলার কারণ কি , তা কি বোঝার আর বাকি আছে কারও? যাতে তাদের কোন ছবি ও ইনফরমেশন না পায়, এই কারণে।”

প্রসঙ্গত, রফিকুল ইসলাম রফিক স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একজন ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একসময় ডিম ও ফলের ব্যবসা করা রফিকুল ইসলাম রফিক হঠাৎ করেই পাল্টে যেতে থাকে অর্থবিত্তির কারণে। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় সে। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে রফিকুল ইসলাম রফিক অঢেল ধনসম্পদের মালিক বনেছেন। তারপরও স্থানীয় পর্যায়ে সে এখনও আন্ডা রফিক হিসেবেই বিভিন্ন মহলে পরিচিত। মোদ্দা কথা, রফিকুল ইসলাম রফিক বললে তাকে মানুষ যতটা না চিনে তার থেকে বেশি চিনে এবং জানেন আন্ডা রফিক হিসেবেই। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেব লীগ কর্মী সুমন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

৩০ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে