NarayanganjToday

শিরোনাম

যৌন হেনস্থা করেও অপরাধী বুক ফুলিয়ে চলে, নারী হয় বেশ্যা!


যৌন হেনস্থা করেও অপরাধী বুক ফুলিয়ে চলে, নারী হয় বেশ্যা!

একটি মেয়েকে বা নারীকে ‘বেশ্যা’ আর ‘মাগি’ এর তকমা লাগায় সর্বপ্রথম তার পরিবার, তারপর সমাজ। তা কিভাবে?

যখন কোন মেয়ে বা নারী যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার পর সে তার পরিবারকে জানাতে পারে না বা জানালে চেপে যেতে বলে কারণ, মানুষ/সমাজ জানলে পরিবারের সম্মানহানি হবে। ভয় তাদের ‘টিটকারি’ শুনতে হবে, পরিবারের মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হবে না, ইত্যাদি। কারণ উনারা সমাজের চোখ দিয়ে দেখেন তাদের মেয়েকে, সমাজের তৈরি করা সংজ্ঞা মাথা পেতে গ্রহণ করে। অর্থাৎ, ধরেই নেয় যে, তাদের মেয়ের শরীর এখন পরিত্যক্ত। যতটা লুকিয়ে, চাপিয়ে রাখা যায় মানুষের কাছ থেকে, একটা মাছি ও যেন জানতে না পারে। তিলে তিলে মেয়েটির মনে তৈরি করতে থাকে তার শরীর অবহেলিত ‘গুড ফর নাথিং’। নিজের শরীর নিজের কাছে হয়ে পরে ঘৃণার।

আর সমাজে কীভাবে দেখে ওই নারীকে? নানান রঙে, নানান বেশে, নানান ঢঙে ওরা মানুষ বিচার করে। একজন অপরাধী একজন নারীকে যৌন হেনস্থা করলো, কিন্তু সেই অপরাধীকে ধিক্কার না জানিয়ে ওই নারীর শরীরকে করা হয় চিহ্নিত করা হয় এক ব্যাবহৃত শরীর হিসাবে, কানাঘুষা করে সেই নারীর শরীরকে রূপান্তর করা হয় এক নোংরা শরীরে। সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত নারীর সেই শরীরটি হয়ে যায় তখন বিষাক্ত ও পরিত্যাক্ত। আর সেই অপরাধী তখনও বুক ফুলিয়ে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়।

নারীর অধিকার আদায় এর সংগ্রাম এর আগে ঘর ও পরিবারের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলানো সবচেয়ে বেশী জরুরী, তারপর সমাজ। কারণ, সমাজ আমি এবং আপনারাই। অধিকার তখন আপনা-আপনি ‘এস্টাব্লিশড’ হয়। আজ আপনি, আপনার মেয়ের যৌন হেনস্থা নিয়ে চুপ থাকবেন, কাল আপনার নাতনীর সাথে হবে, পরশু হবে পরের জেনারেশনে, চলতেই থাকবে...

আজ পরিবার পাশে থাকলে বা সমাজের দৃষ্টি ভঙ্গি অন্যরকম হলে মুখ খুলতে তিন মাস বা তিন বছর বা দশ বছর লাগতো না। সাথে সাথেই হতো। দরকার শুধু ভরসার! পাশে থাকার! প্রশ্নবিদ্ধ না করার! ভাগ্য ভালো আমি ইউরোপে থাকি, ওই তথাকথিত সমাজের মানুষের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয় না। লেখক : মাকসুদা আখতার প্রিয়তী, সাবেক মিজ আয়ারল্যান্ড

উপরে