NarayanganjToday

শিরোনাম

সতীত্ব এবং যৌনতা


সতীত্ব এবং যৌনতা

এমনিতেই আমি খুব গায়মাখা এবং আন্তরিক মানুষ হিসেবেই বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, সিনিয়র-জুনিয়র মহলে পরিচিত। এই হাসি এবং কথাবলা কিছুতেই দমে না আমার। এমনকি পাবলিক বাস থেকে শুরু করে এয়ারপোর্টে আশপাশের মানুষের সাথে সখ্যতা হইতে হইতে এমন হয় কিছুদিন পর হয়তো সে আমার আড্ডামহলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বনে যান।

আসলেই বিভিন্ন শ্রেণির বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশ্রিত হওয়ার মধ্যে ভিন্নরকম জীবন, গন্ধ, চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি আমি অনুভব করি। আহা! এক একজন মানুষ কতোই না বিচিত্র। এমন খাতির করতে করতে প্রথম সাক্ষাতেই কয়েকবার আমি এমন এক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি যা আসলেই খুবই বিরক্তিকর এবং আপত্তিজনক ছিলো আমার জন্য।

সেই বিখ্যাত প্রশ্নখানা হইলো, "আর ইউ ভার্জিন?"

এই প্রশ্ন শুইনা আমি যারপরনাই অবাকিত, পুলকিত হই। একমুখ হাসি নিয়া আমার ৩০ খানা দাঁত বাইর কইরা আমি কই, "হোয়াট ইস ভার্জিনিটি? আমাকে আপনার আচোদা মনে হয়?" অপরপক্ষের লোক তখন একটু ভ্যাচাকাচা বনে যান এবং তাকে স্বাভাবিক করার জন্য আমি বলি, "ভাই/ বোন, আমার প্লেফুল পুরুষই পছন্দ এবং আই লাভ টু হ্যাভ সেক্স। আমার বয়স ১৮ এবং এতোদিন যৌনতার মতো সুখকর রোমাঞ্চকর অনুভূতি থেকে বঞ্চিত থাকার মতো নড়বড়ে, লুতুপুতু, ভদ্র, সামাজিক মাইয়া আমি না।"

এবং আমার প্রশ্নের উত্তর পর্ব শেষ হওয়া মাত্র আমি অপরপক্ষকে জিজ্ঞাসা করি, "আপনি তাহলে এখনো আচোদা?" তাদের উত্তর, "ইয়ে, আসলে......এবং পরিশেষে আমি ভার্জিন" মানে তারা নিজেরাই কনফিউজড নিজেদের নিয়া। হয়তো আমি "মেয়ে" বইলাই এই মানুষজন জানতে চায় আমার যৌনজীবন সম্পর্কে। যেহেতু তারা দেখেন আমার পোশাকআশাক, জীবন পদ্ধতিসহ সর্বক্ষেত্রেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে লাথি মারা লোক আমি।

ইদানিংকালে এদের প্রশ্ন শুইনা মনে হচ্ছে আমাদের সমাজে এখনো "সতীত্ব" নামক কনসেপ্টটা খুবই শক্তিশালী, আধিপত্য বিস্তারকারী এবং নারীগণ তাদের বিবাহের পূর্ববর্তী সময়ে সতীত্ব ধরে রাখার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করেন। এমনকি চরম রক্ষণশীল প্রেমিকারাও তাদের প্রেমিককে অন্য নারীর সাথে সেক্স করার অনুমতি প্রদান কইরাও এই মর্মে তারা গালে আঙুল দিয়া বইসা থাকেন, "ওই মাইয়ার সাথে সেক্স করতেছে, করুক। তারে তো আর বিয়া করবে না। আমি সতী সাবিত্রি আমার কাছেই আমার প্রেমিক আসবে এবং বিবাহের প্রথম রাতেই আমি আমার ভ্যাজাইনাখানা কয়েকলাখ বা কোটি টাকায় বেচবো।"

এই যে যৌনঅজ্ঞতায় থাকা উচিত এবং মগজহীন রমণীগণ বিবাহের আগে দুতিনবার কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকদের জোরজবরদস্তিতে সেক্স করে থাকলেও তারা সেক্সের আগামাথা খুঁইজা পান না এবং অপরপক্ষের প্রেমিকও তৃপ্তি না পাইয়া অন্য রমণীর দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সমস্ত ঘটনার প্রভাবগুলা তাদের মগজ এবং মনের উপ্রে এমনভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যার ফলে "যৌনতা" তাদের কাছে "চিরবিষাদময় কিছু একটা" বনে যায়।

আবার আমাদের বঙ্গদেশীয় পুরুষগণ এই যৌনঅজ্ঞতায় থাকা তথাকথিত "ভার্জিন, সতী, আচোদা" মেয়েদের বিয়া করতেই খুব ইচ্ছুক কারণ আমাদের দেশে খুব কম পুরুষই জানেন ক্যামনে সেক্স করতে হয়। তারা একমাত্র ঢুকানো, বের করা ছাড়া তেমন কিছুই পারেন না এবং এই কাজটাও অনেকে ঠিকমত পারেন না। রমণীগণ যদি যৌনতাকে "আনন্দ" হিসেবে নিতো তাহলে এই পুরুষদের উঠতে বসতে বিছানা থেকে ওয়াসরুম পর্যন্ত "অকথ্য গালিগালাজ" ই শোনা লাগতো, তাদের পুরুষত্ব চান্দে চইলা যাইতো কারণ যৌনতা মানুষের জীবনে প্রচণ্ড শক্তিশালী উপাদান।

মূলত বেশিরভাগ বঙ্গীয় পুরুষগণের এই যৌন অক্ষমতাকে লুকানোর জন্য এবং নারীকে নিজের অধিকারভুক্ত পণ্য বানানোর তাগিদেই আজ একাবিংশ শতাব্দীতেও "সতীত্ব" নামক ভিত্তিহীন, পুরুষতান্ত্রিক কনসেপ্ট সমাজে স্ট্রংভাবে বিরাজ করছে, পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে যার সহায়ক ভিক্টিম নারী নিজেই।

কিন্তু একবারও সতীত্ব রক্ষাকারী নারীগণ ভাবেন না বা বলেন না, "আমার শরীরের মালিক একমাত্র আমি। এই শরীর নিয়া কই কার সাথে শুইবো আমি সেটা একান্ত আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং আমার মর্জির উপর নির্ভরশীল।" খুব হাসি পায় এবং উৎকণ্ঠিত হয়ে যাই যখন যৌনতাকে ফ্যান্টাসি হিসেবে নেওয়া রমণীগণও নিজেদের ভার্জিন বইলা দাবি করেন।

সত্যিই অদ্ভুত সভ্যতা, সমাজ আমাদের যেখানে সততা দিয়ে নয়, যৌনতা দ্বারাই নির্ধারণ করা হয় কোন রমণী সতী এবং কে অসতী। হাহা, এই সমাজ, এই সভ্যতা আমার না, পুরুষতান্ত্রিক পুরুষের। এই সমাজের সংগা অনুযায়ী আমি সতীও না, আমার সতীত্বও নাই। আমি বহুগামী নারী যে কিনা যৌনতাকে ফ্যান্টাসি হিসেবেই দেখে। উপরন্তু, আমার কাছে সতীর সংগা ভিন্ন এবং আমার নিজস্ব সংগা অনুযায়ী আমি সতীই। লেখক : শিক্ষার্থী ও নারীবাদী

উপরে