NarayanganjToday

শিরোনাম

একটু তেল দিতে গিয়ে পুরো ড্রামই ঢেলে দিলেন রনি!


একটু তেল দিতে গিয়ে পুরো ড্রামই ঢেলে দিলেন রনি!

মশিউর রহমান রনি যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। অতীতে কখনো থানা বা ইউনিয়ণ ছাত্রদলের কমিটি না থাকলেও ধনকুবের শাহ আলমের কল্যাণে এত বড় একটি পদ তিনি বাগিয়ে নেন। যার কারণে কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা ভাবে বিতর্কিত হচ্ছেন এই রনি।

তবে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার যোগ্য না হয়েও তিনি যার আশীর্বাদে এই পদটি পেয়েছেন সেই শাহ আলমের প্রতি তার অনুগত্য যেমন বিতর্কের সৃষ্টি করছে তেমনি দলের মধ্যে নানা প্রশ্নেরও উদ্রেক হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি রনির একটি পোস্ট নিয়ে ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চলছে এ নিয়ে নানা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে তার আদর্শ নিয়েও। তৃণমূলের প্রশ্ন, এই রনি কি দলের আদর্শ বুকে ধারণ করে চলেন নাকি শিল্পপতি কোনো ব্যক্তির আর্দশ নিয়েই রাজনীতি করছেন?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ৩০ জুন জেলা ছাত্রদলের ওই বিতর্কিত সভাপতি মশিউর রহমান রনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা একসময় কল্যাণ পার্টি থেকে উড়ে এসে বিএনপির রাজনীতিতে জুড়ে বসা শাহ আলমের তিনটি ছবিসহ একটি পোস্ট দেন। সে পোস্টে ক্যাপশন হিসেবে রনি ইংরেজিতে শাহ আলমকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন ‘মাই ড্রিমস...মাই পলিটিক্যাল ফাদার... (আমার স্বপ্ন...আমার রাজনৈতিক বাবা)’।

রনির ওই পোস্ট নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। দলটির অনেকেই বলছেন, যে ব্যক্তি দলের দুর্দিনে পদত্যাগ করেন এবং অতীতে যিনি দলেই ভিড়েছিলেন এমপি হতে। সেই ব্যক্তি কি করে রনির মতো একজন নেতার ‘পলিটিক্যাল বাবা’ হয়? আর যদি তাই হয় তাহলে, সে কার আদর্শ বুকে ধারণ করে ছাত্রদল করছেন, শাহ আলমের?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলছেন, শাহ আলম যদি তার রাজনৈতি পিতা হয়ে থাকে, সে যদি তার আদর্শ হয়ে থাকে তাহলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান কী?

এদিকে, কেউ কেউ রনির ওই কাণ্ডে বেশ মজার ছলেই বলেছেন, রনি একজন চাটুকার। তার কাজই হচ্ছে পদলেহন করা। আর এই চাটুকারিতা ও পদলেহন করেই সে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। এখন সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে ঠাঁই পাবার জন্য পদলেহন শুরু করেছে সে। ফলে, শাহ আলমকে সে লক্ষ্যে একটু তেল দিতে গিয়ে সেই তেলের পরিমাণটা একটু বেশিই তিনি দিয়ে ফেলেছেন। যার কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শাহ আলমকে তিনি ‘পলিটিক্যাল ফাদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এদিকে ওই পোস্ট নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে এ সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি তার রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

২ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে