NarayanganjToday

শিরোনাম

এবার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও সেই সিমুর মিথ্যাচার!


এবার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও সেই সিমুর মিথ্যাচার!
ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

এবার বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম নিয়েও মিথ্যাচার করতে কার্পণ্য করেনি বন্দরের আলোচিত হাসিনা রহমান সিমু। তার দাবি, শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসে থেকে তার বাবা তার নাম রেখেছিলেন ‘হাসিনা’ এবং তার দাদা জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে তার বাবার নাম রেখেছিলেন ‘মজিবুর’। এসব কথা প্রধানমন্ত্রী জানার পর সিমুকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে চুমু খেয়েছিলেন!

সম্প্রতি তার নানা ছলচাতুরী ও হুট করে এসেই জেলা শ্রমিক লীগের বিশাল পদ বাগিয়ে নেওয়া এবং তার নানা জামায়েত ইসলামী আমির এসব তথ্য জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর হাসিনা রহমান সিমু তার ফেসবুক একাউন্টে এ নিয়ে গতকাল একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি অংশে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওই মিথ্যাচার করেন। এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সিমু তার সেই ৭ প্যারার ব্যাখ্যার ৪ নম্বর প্যারায় উল্লেখ করেন, “আমার দাদা আমার জন্ম দাতা পিতার নাম স্বাধীনতার আগেই বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে রেখেছিলেন মজিবুর রহমান। আমার পিতা শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে আমার নাম রেখেছিলেন হাসিনা। আর এটা জানতে পেরে দু বছর আগে গন ভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জরিয়ে (জড়িয়ে) ধরে কপালে চুমু দিয়ে আদর করে দোয়া করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ভালবাসাই আমার আগামী দিনের পথ চলার পাথেও।”

এদিকে বলা হচ্ছে, সিমু এবার নিজেকে সহী আওয়ামী লীগার বানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে। এটা তার একটা স্টান্টবাজি। কেননা, সে তার নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন, দু বছর ধরে তিনি খাতা কলমে রাজনীতিতে আসেন। এবং সেটি আসেন শুক্কুর মাহমুদের হাত ধরে। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগি সংগঠনের কোথাও কোনো পদ বা সদস্যও ছিলেন না। এমনকি এর আগে কখনোই তিনি আওয়ামী লীগের কোনো সভা সমাবেশ কিংবা মিছিলেও যায়নি। তাহলে দু বছর আগে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন বলে যে দাবি তিনি লিখেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যাচার।

অপরদিকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, তারা নানা জাফর সাদেক ভূইয়ার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি একজন আপদমস্তক সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তবে জাফর সাদেক ভূইয়া বন্দর জামায়েতে ইসলামীর আমির ছিলেন। তাই কথা উঠেছে, সিমুর বাবা যদি আওয়ামী লীগ ঘরোয়ানার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি হতেন তাহলে কিছুতেই সিমুর মা শেলী বেগমকে মজিবুর রহমান ওরফে মজনু মিয়ার কাছে বিয়ে দিতেন না।

কেননা, জামায়াতের নেতাকর্মীরা আত্মীয়তা এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি বাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের রাজনীতির সাথে যুক্ত এমন ব্যক্তিদেরকে টানেন। এমনকি রাজনীতির সাথে যুক্ত নন, কিন্তু একই মতাদর্শ বিশ্বাস করেন তেমন ব্যক্তিদের সাথেই তারা আত্মীয়তা করেন। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, মজিবুর রহমান কখনোই আওয়ামী লীগমনা বা এই দলটির রাজনীতি করতেন না। তিনি ছিলেন বিএনপি ঘরোয়ানার ব্যক্তি। যার ফলে তাদের মধ্যে আত্মীয়তা হয়েছিলো।

এদিকে সিমু আনন্দ বৃদ্ধা আশ্রম সম্পর্কে বলতে গিয়েও হাস্যরসের সৃস্টি করেছেন হাসিনা রহমান সিমু। এ প্রসঙ্গে তার একটি ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন ফেসবুকে। সেখানে তিনি বৃদ্ধাশ্রম সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিতান্তই অজ্ঞাতার কারণে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, বৃদ্ধাশ্রম কী, সে ব্যাপারে হাসিনা রহমান সিমুর জ্ঞান নেই।

সিমু দাবি করেছেন, তার বৃদ্ধাশ্রমে যারা আছেন তারা এখানে থাকতে বাধ্য নয়। এটা জেলখানা নয়। কেউ কেউ এসে রাত্রিযাপন করেন। কেউ বা আবার কয়েকদিন পরপর এসে এখানে থাকেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বৃদ্ধাশ্রম কী এমন হয়?

বৃদ্ধাশ্রম কেমন হয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, মূলত বৃদ্ধাশ্রম হচ্ছে যারা পরিবার পরিজনের সাথে থাকতে পারছেন না বা রাখছেন না তেমন অসহায় বৃদ্ধারাই তাদের জন্য নির্মিত সরকারি বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। এর বাইরে সিমু বৃদ্ধাশ্রম সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা কখনোই বৃদ্ধাশ্রম হতে পারে না। এরপরও যদি তিনি এটিকে বৃদ্ধাশ্রম বলে দাবি করেন তাহলে সেটি হচ্ছে প্রতারণার সামিল। এর পিছনে হয়তো অসৎ কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে যার কারণে এটিকে বৃদ্ধাশ্রম নাম দিয়েছেন। যদি প্রকৃত অর্থে তিনি বৃদ্ধাশ্রম সৎ মানসিকতা নিয়ে করেন এবং প্রকৃত বৃদ্ধাশ্রম বলতে আমরা যা বুঝি তা যদি তিনি করেন তবে, সেক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই প্রশংসিত হবেন।

২৩ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে