NarayanganjToday

শিরোনাম

আজমেরী ওসমানের কড়া হুঁশিয়ারী


আজমেরী ওসমানের কড়া হুঁশিয়ারী

আজমেরী ওসমানের গলাচিপার ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে তার দুই সহযোগিকেও আটক করা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তবে, এ বিষয়টিকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।

আজমেরী ওসমান তার নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজে এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন এবং পাশাপাশি অপপ্রচারকারিদের ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।

ওই স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করা হয়েছে, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের ফ্ল্যাটে ব্লক রেইড চালিয়েছে পুলিশ। এসময় আজমেরী ওসমানের দুই সহযোগিকে আটক করা হয়েছে।’ এ তথ্যটুকু বিভ্রান্তিমূলক দাবি করে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘এমন তথ্যে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃতপক্ষে পুলিশ তাদের কাজের স্বার্থে কাজ করছে। এতে সাধুবাদ জানানো আমাদের কর্তব্য।’

যাদেরকে আটকের পর আজমেরী ওসমানের সহযোগি বলা হচ্ছে তারা কেউ আজমেরী ওসমানের সহযোগি নন বলেও ওই স্ট্যাটাসে ইংগিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যতদূর জানা গিয়েছে যাদেরকে আজমেরী ওসমানের সহযোগী বলা হচ্ছে তারা আসলে জাতীয় পার্টি অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা নেতৃত্ব দেয়। তাদের যে বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজমেরী ওসমান অবগত নয়।’

স্ট্যাটাসটিতে আরও দাবি করা হয়, ‘আজমেরী ওসমান কখনো কোন মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়না। যারাই এধরণের কাজ করেছেন তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। অতিতে এগুলো সকলেই দেখেছেন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রকাশ করেছেন।’

সর্বশেষে বলা হয়েছে, ‘একটি কুচক্রিমহল যে অপপ্রচার করছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এসব কর্মকান্ড কেউ করলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।’

প্রসঙ্গত, ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, সদর ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ যৌথ ভাবে আজমেরী ওসমানের গলাচিপার ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালায়। তবে, এসময় আজমেরী ওসমান বাসায় ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে জেলা পরিষদের কর্মচারি ও গলাচিপা ডিএন রোডের বাসিন্দা গোলজার হোসেনের ছেলে মোখলেসুর রহমান, জেলা ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক শহাদাৎ হোসেন রুকুকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই আজমেরী ওসমানের লোক বলে জানা গেছে।

এর আগে শহরের আমলাপাড়া এলাকার জনৈক বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় আজমেরী ওসমানকে প্রধান আসামী করে একটি চাঁদাবাজি ও মারপিটের মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ডিআইও-টু সাজ্জাদ রোমন। তিনি জানান, আমলা পাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া মামলাটি দায়ের করেন। তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে তিনি ওই মামলা দায়ের করেন।

সাজ্জাদ রোমন আরও জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজমেরী ওসমানের দুই সহযোগি মোখলেসুর রহমান ও রুকুকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান অব্যাহত আছে। প্রধান আসামীকে ধরার জন্য অভিযান চলছে।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে