NarayanganjToday

শিরোনাম

এসপি হারুন শূন্যতায় থানাতেও পিটুনী খায় বাদী, অ্যাকশন নেই!


এসপি হারুন শূন্যতায় থানাতেও পিটুনী খায় বাদী, অ্যাকশন নেই!

এসপি হারুনের বদলীতে বদলে গেছে ফতুল্লা থানাসহ আশপাশের এলাকা। মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীসহ ছিঁচকে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ এসব অপকর্ম করছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, এসপি হারুনের বদলীর পরপরই শহরের দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। মূল সড়ক দখল করে বাস ও লেগুনার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। হকাররা ফুটপাত দখল করে পসরা সাজায়। তবে, ফুটপাতে হকার নিয়ে মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করার পরপরই পুলিশ ফুটপাত পরিস্কার অভিযানে নাসে। চাষাড়ায় রয়ে গেছে দুরন্ত ও লেগুনার স্ট্যান্ড।

অন্যদিকে এসপি হারুনের বদলীর পরপরই ফতুল্লা মডেল থানায় প্রবেশ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা ওসির রুমে বসে মিটিংও করেন। তাদের বিতর্কিত, মামলার আসামীও ছিলেন বলে সূত্র জানায়।

এছাড়াও যেসব সন্ত্রাসীরা এসপি হারুনের সময় এলাকা ছেড়েছিলো, তারা এখন এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। এরমধ্যে অন্যতম মীর হোসেন মীরু ও তার বাহিনী। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে মীরু ও তার বাহিনী ব্যাপক অপকর্ম চালায় কুতুবপুরে, এমন অভিযোগ বহুদিনের। সম্প্রতি এই গ্রুপটি এলাকায় ফিরে আগের মতো বেপরোয়া কর্মকা- শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১১ মাস এসব সন্ত্রাসীরা এসপি হারুনে ভয়ে অনেকটা নীরব ছিলেন। কেউ কেউ গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার নিজেদের মতো করে থেকেছেন কোনো রকম বাড়াবাড়িও করেননি।

জানা গেছে, গত ৯ মাস ধরে শান্ত ছিলো কুতুবপুর এলাকা। ছিলো না মীরুসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী। তবে, এসপি হারুনের বদলীর পর তারা এলাকায় ফিরে এসছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে কয়েক দফা অস্ত্রের মহড়াও দিয়েছে বলে শোনা গেছে। এরমধ্যে মুরাদ নামে এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল তাক করে হুমকিও দিয়েছে মীরু বাহিনী। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মুরাদের ভাই চাঁদ শিকদার সেলিম অভিযোগও দায়ের করেন।

তবে, ওই অভিযোগের সূত্র ধরে শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় আসেন এর বাদী সেলিম। এসময় থানায় তাকে দেখেই মারধর শুরু করেন মীর সোহেল আলীসহ তার লোকজন। থানার ভেতরই এমন একটি ন্যাক্কারজক ঘটনা ঘটানোর পরও পুলিশ শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ।

যদিও থানার ভেতরে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগি চাঁদ শিকদার সেলিম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেছেন, তদন্ত করে যথা শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদ শিকদার সেলিম বলেন, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এসআই মিজান ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরদিন (শুক্রবার) রাতে আমাকে থানায় আসতে বলেন। সে মোতাবেক আমি থানায় প্রবেশ করছিলাম এমন সময় থানা থেকে বের হয়ে আসছিলেন মীর সোহেল আলী, শাহীনসহ আরও বেশ কয়েকজন। তখন মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন থানার ভেতরই আমার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে মারতে মারতে থানা থেকে রাস্তার নিয়ে আসে। আবার এখান থেকে টেনে ওসি তদন্তের রুমে নিয়ে যায় আমাকে লকাবে ঢুকিয়ে দিবে বলে।

তিনি আরও বলেন, ওসি তদন্তের রুমে নেওয়ার পর তিনি আমাকে উল্টো ধমকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন ‘থানায় আপনার কাজ কি, কেন এসেছেন!’ এভাবে থানার ভেতরই যদি আমাদের উপর হামলা করে তাহলে বাইরে আমাদের নিরাপত্তা কতটুকু এবার বুঝে নেন।

তবে, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি সেলিমকে থানায় দেখে আমার অফিসে ডেকেছি কি হয়েছে তা বসে কথা বলার জন্য। এর বেশি কিছু হয়নি।

তবে, সাধারণ মানুষ বলছে আর যাহোক, থানার ভেতরই একজন মানুষকে মারপিট করাটা ন্যাক্কারজনক। এতে করে থানা পুলিশই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে বদলী করা হয়েছে। তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার হেড কোয়ার্টারে পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে এই বদলী করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র উপ-সচিব ধনজয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে ১ নভেম্বর দিবাগত রাত ১ টার দিকে পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবুল হাসেমের ছেলে আম্বর গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের গুলশানের বাসভবন থেকে তার স্ত্রী ফারহা রাসেল এবং পুত্র আহনাফ রাসেলকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে বলে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন আম্বর চেয়ারম্যান রাসেল। এ সংক্রান্ত একটি খবর রাসেলের নিয়ন্ত্রণাধিন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। আর এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। চলে নানা সমালোচনা। এর মধ্য দিয়েই পুলিশ সুপারের ওই বদলীর আদেশ হয়।

১৬ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে