NarayanganjToday

শিরোনাম

গিয়েছিলেন নামাজে, এসে দেখেন তালাবদ্ধ ঘরে স্ত্রী পুড়ে ছাই


গিয়েছিলেন নামাজে, এসে দেখেন তালাবদ্ধ ঘরে স্ত্রী পুড়ে ছাই

ঘরে ছিলো স্বামী স্ত্রী দুজন। এরমধ্যে মাগরিবের আযান পড়ে যায়। স্বামী নামাজ পড়তে যাবে। স্ত্রীকে রুমটি আটকে দিতে বলেন স্বামী সুমন। স্ত্রী শম্পা ইসলাম ঘুমাবেন। তার খুব ঘুম পেয়েছে। তাই তিনি স্বামীকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যেতে বলেন।

স্ত্রীর কথা মতো সুমন রুমের বাইরে দিয়ে তালা লাগিয়ে নামাজ পড়তে চলে যায়। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন পুরো বাড়িই পুড়ে ছাই। সাথে সাথে পুড়ে গেছে রুমে রেখে যাওয়া তার স্ত্রী শম্পা ইসলামও।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছি ফতুল্লার মুসলিমনগর বাজার ইউনুস সরদারের বাড়িতে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা নিহত শম্পার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহত শম্পাদ ইসলাম আক্তার জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার ফৈটামারী এলাকার সোহরাব মিয়ার মেয়ে এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের পলমা এলাকার সুমনের স্ত্রী। তারা দুজনই শাসনগাঁও এলাকার ক্রোনী গার্মেন্টে চাকরি করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্রোনী গার্মেন্টে চাকরি করার সুবাদে চলতি মাসের এক তারিখে ইউনুস সরদারের বাড়িতে ভাড়ায় উঠেন। বাড়িটির ২০ টি রুম। টিন দিয়ে তৈরি করা এই বাড়িটি দ্বিতল। যার উপরের সারিতে দশটি এবং নিচের সারিতে দশটি রুম। এরমধ্যে নিচের একটি রুমে ভাড়ায় থাকতো শম্পা ও সুমন।

সুমন জানিয়েছে, তিনি নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে তালা মেরে গিয়েছিলেন। ভেতরে তার স্ত্রী ছিলো। তিনি নামাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন পুরো বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিও দগ্ধ হন।

এদিকে আগুনের খবর ফেয়ে বিসিক ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ২ টি ইউনিট প্রায় ঘণ্টাখেনক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আরেফিন জানান, কিভাবে আগুন লেগেছে এখনো তা নির্ধারণ করা যায়নি। অগ্নিকান্ডে বাড়ির সবাই বের হতে পারলেও একটি কক্ষে তালাবদ্ধ থাকায় এক নারী বের হতে না পাড়ায় মারা যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করেছে।

আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেনসহ আরও অনেকেই।

অগ্নিকান্ডে নিহত নারীর পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেন ইউএনও নাহিদা বারিক।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, সন্ধ্যার মাগরিবের নামাজের পরপরই আগুন লাগে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনও ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই বাড়িতে গ্যাসের লাইনও নেই। ওই বাড়ির প্রতিটি ঘরই টিনের।

তিনি বলেন, আগুনে প্রায় বেশ কয়েকটি ঘর পুড়ে গেছে। অন্যান্য ঘরের লোকজন আগুন লাগার পরপর বের হয়ে আসতে পারলেও শম্পা বের হতে পারেনি। সে ঘরের ভেতরই দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় তার স্বামী সুমনও আহত হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

২২ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে