NarayanganjToday

শিরোনাম

গঠনতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বালাই নেই না.গঞ্জ বিএনপিতে!


গঠনতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বালাই নেই না.গঞ্জ বিএনপিতে!

দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি, এমন যুক্তি, প্রমাণ দেখিয়ে আদালতে দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী।

এ নিয়ে দু’দফা শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলি রানি দাসের আদালত তা মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে, প্রশ্ন উঠেছে, যে দোষে দুষ্টু মহানগর বিএনপি একই দোষেও জেলা বিএনপি দুষ্টু। তাহলে কী মহানগরের মতো এবার জেলা বিএনপি কমিটির উপরও স্থগিতাদেশ আসতে পারে?

সূত্র বলছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৪ এর ক অনুচ্ছেদে কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বর্ণিত আছে, সিটি করপোরেশনের এলাকাজুড়ে ‘মহানগর কমিটি’ গঠন করতে হবে আর এর বাইরের অংশ হবে ‘জেলা কমিটি’, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জেলা ও মহানগরের দুটি কমিটি গঠনের ক্ষেত্রের গঠনতন্ত্রের ধার ধারেনি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য তিনি বিনা বাক্যে এ দুটি কমিটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর মধ্যে মহানগর বিএনপি গঠনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের ১০ টি ওয়ার্ডই কর্তন করে তা যুক্ত করা হয়েছে জেলা কমিটিতে। যা সম্পূর্ণ ভাবে গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে প্রমাণিত। তবে, এই কাজটি মির্জা ফখরুল ইসলাম করেছেন একমাত্র শাহ আলমকে সুবিধা দিতে আর্থিক বা অন্য কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে দলটির সহসভাপতি মোহাম্মদ শাজাহানের ছকে তৈরি করা খসড়াকে প্রাধান্য দিয়ে, এমনটাই বলছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শুধু তাই নয়, গণতন্ত্র গণতন্ত্র নিয়ে বুলি আউড়ানো এই দলটির ভেতরেও কোনো রকম গণতান্ত্রিক চর্চার বালাই নেই। একতন্ত্র বা পেশি শক্তির বলেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে আসছে টাকাওয়ালা, এবং চাটুকার শ্রেণি। আবার এই তারাই স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে গঠন করছেন নিজেদের লোক, আত্মীয় স্বজন এবং প্রকাশ্য সরকারি দলের দালালদের দিয়ে কমিটি। যার সব থেকে বড় উদাহরণ ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

সূত্র বলছে, এই কমিটির আহ্বায়ক যাকে বানানো হয়েছে সেই আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস প্রকাশ্য সরকারি দলের লোক হিসেবে কাজ করছে। এ জন্য তাকে খোদ বিএনপির তৃণমূল থেকেই ‘দালাল’ উপাধি দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মতো বিকর্তিক ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে এই কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। তবে, এই কমিটির অনুমোদ দেয়া হয়েছে একমাত্র শাহ আলমকে সন্তুষ্ট করার জন্য তারই ছকে। অথচ দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপি করা, পরীক্ষিত অনেক নেতাকর্মীকেই এই চক্রটি দূরে সরিয়ে রেখেছে বলে মত দিয়েছে তৃণমূল।

এদিকে জেলা কিংবা মহানগর কমিটিতে স্থান না পেয়ে বিএনপিরই দুই কর্মী আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। এই মামলা দায়েরের পর থেকেই গঠনতন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। আর এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

দাবি উঠেছে, গঠনতন্ত্র মোতাবেক এবং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল গঠনের। আর সেটি হলে যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্যরাই নেতৃত্বে আসবে এবং এ কমিটিও হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে?’ এমন প্রশ্ন রয়েছে তৃণমূলের মাঝে।

দল সম্পূর্ণ ভাবেই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং দলের ভেতরেও গণতন্ত্র রয়েছে দাবি করে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ ৪৫ দিন। এরমধ্যে দলীয় কাউন্সিলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে। আমরা এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলের ব্যবস্থা করছি।

গঠনতন্ত্রের ৪ এর ক অনুচ্ছেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দলীয় প্রধানকে আমরা বিশেষ একটা ক্ষমতা দিয়েছি, তিনি সেই ক্ষমতা বলে এর ব্যাত্যয় ঘটিয়ে তা পুনরায় গঠনতন্ত্র পরিবর্ধন পরিমার্জন করতে পারেন। সে মোতাবেকই আমাদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবং পুরো ব্যাপারটি হাই কমান্ড জানতেন।

তবে, মহানগর বিএনপির এই নেতা বলেন, শুধু মহানগর নয়, প্রতিটি কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করা হোক, সেটাই আমি চাই। এতে গণতান্ত্রিক চর্চাটা বহাল থাকে।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ বলেন, ৪ এর ক অনুচ্ছেদের বাইরেও আরও একটি ধারা আছে যেখানে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী চেয়ারপার্সন। সেই ক্ষমতার বলেই এই কমিটি গঠন হয়েছে। এবং পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকে আরও একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, সিদ্ধিরগঞ্জ জেলার সাথে থাকবে।

৩০ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে