NarayanganjToday

শিরোনাম

নারী থেকে শুরু করে জামাত সম্পৃক্ত সেই নুরুজ্জামান ফের আলোচনায়


নারী থেকে শুরু করে জামাত সম্পৃক্ত সেই নুরুজ্জামান ফের আলোচনায়

বহু বিতর্কে বিতর্কীত জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে তার, এরপরও তিনি এবার বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে মরিয়া হয়েঠেছেন নূরুজ্জামান! এমনকী সভাপতির পদ বাগাতে ইতোমধ্যে তিনি টাকা নিয়েও মাঠে নেমেছেন, দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

তবে, নুরুজ্জামানের মতো বিতর্কি ব্যক্তির মিশন যাতে সফল না হয় এর জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ শামীম ওসমানেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজ নিজ ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা নুজ্জামানকে ছুপা জামাত বলেই সেসব পোস্টে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে পুরনো একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা এনে দিয়েছে নুজ্জামানের ঔরষজাত ছেলে সাদিক শাহরিয়ার মাহাদি। ফেসুবকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে সে দাবি করেছে, ইতোপূর্বে নুরুজ্জামানের সাথে যেসব ছবি প্রকাশ হয়েছে তা এডিট করা, সব কিছুই গুজব। আমার মা’র নাম সুমইয়া।

এদিকে, নুরুজ্জামানের ছেলের ওই স্ট্যাটাসের পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, যার সাথে নানা ভঙ্গিতে তোলা কিছু অন্তরঙ্গ ছবি উঠেছিলো, সেই জেরিন তাহলে কে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে নুরুজ্জামান বলেছেন, জেরিন আমার স্ত্রী। আমার বৈধ স্ত্রী। আমার ছেলে সেটি মেনে নিতে পারেনি বলেই অমন স্ট্যাটাস দিয়েছে। সে নাবালক। এত বুঝ তার হয়নি। সে কেন, এ বিষয়টি অন্য কারোরই মেনে নেওয়ার কথা নয়।

এর আগে নুরুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ টুডে’র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, ইসলামে চারটে বিয়ে করা জায়েজ। দ্বিতীয় বিয়েতে তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি রয়েছে। তবে, সম্প্রতি জানা গেছে, নুরুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো ধরণের অনুমতি নেয়নি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি অনুমতি নিয়েছি কিনা সেটি আমার আর আমার স্ত্রী’র ব্যাপার। সে যদি মনে করে আমি অনুমতি নিই নাই, সে আইনের আশ্রয় নিবে, তাহলে সেটা সে নিতেই পারে। ওটা তার ব্যাপার।

এদিকে বন্দরজুড়ে চাউড় হয়েছে, সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে সভাপতি হতে চাইছেন নুরুজ্জামান। তিনি ইতোমধ্যে বিপুল টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন এই পদটি বাগিয়ে নিতে। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। তার এমন অভিলাষে ক্ষেপেছে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব নুরুজ্জামনকে ছুপা জামায়াত কর্মী ও লম্পট হিসেবে উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ফেসবুক ওয়ালে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “নুরুজ্জামান বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে চেষ্টা শুরু করেছে। দলে যাতে রাজাকার সহযোগী পুত্রের জায়গা না হয় সে জন্য গণমানুষের নেতা শামীম ওসমান এমপি সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

২০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হক সিজান এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি নুরুজ্জামানকে জামায়াতের আমির উল্লেখ করে তারই বরাত দিয়ে লিখেছেন, “টাকার বাণিজ্য চলছে। যা লাগে দিমু। বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ আমার চাই-ই চাই।’ লোকমুখে শোনা কথা। মারহাবা মারহাবা”

এদিকে বিতর্কীত এই ব্যক্তিকে নিয়ে জামায়াত, নারী ঘটিত ব্যাপার ছাড়াও আরও নানা ধরণের বিতর্ক রয়েছে। সব থেকে বড় বিতর্কটি হলো, সে তার বোনকে এক নোটিশে পৈত্রিক ভিটা ছাড়া করেছেন।

সূত্র বলছে, নুরুজ্জামানের ভাগিনা আরিফ ও তার স্ত্রীকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন নুরুজ্জামান। অভিযোগ উঠে, আরিফ তার মামীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত। এমন অভিযোগ ২০০১৩ সালের। তবে, এ নিয়ে ব্যাপারটি আরও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ইয়াবাসহ আটক হন আরিফ।

কথিত আছে, ভাগিনার উপর প্রতিশোধ নিতে নুরুজ্জামান নিজেই পুলিশ ব্যবহার করে তাকে ইয়াবাসহ আটক করিয়েছিলেন। এরপরই এক নোটিশে নুরুজ্জামান আরিফরে মা তথা তার বোনকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলেন। পরবর্তীতে নুরুজ্জামানের প্রভাব আর অর্থের জোরে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন আরিফরা। যদিও এর জন্য ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিলো জমি এবং একটি সদ্য উঠানো দ্বিতল ভবনের জন্য।

এ ব্যাপারে নুরুজ্জামানের ভাগিনা আরিফের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, “এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। নতুন করে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তার সম্পর্কে বা তার সাথে ২০১৩ সালের পর থেকে কোনো যোগাযোগ নেই আমাদের।”

তবে, বোনকে এক নোটিশে পৈত্রিক ভিটাছাড়া করা সম্পর্কে নুরুজ্জামানের দাবি, “এসব মিথ্যা কথা। আমি তাদেরকে উঠিয়ে দিই নাই। তারা বাড়ি বিক্রি করবে। আমি সর্বোচ্চ দাম দিয়ে সেটি কিনে নিয়েছি। টাকা দেওয়ারও চার পাঁচ মাস পর তারা বাড়ি ছেড়েছে।”

ভাগিনাকে ইয়াবাসহ পুলিশ দিয়ে আটকানোর পিছনে আপনার হাত রয়েছে, “এমন জানতে চাইলে নুরুজ্জামান বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। সে কি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে সেটা সে জানে। এর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের আগস্টের শুরুর দিকে এক নারীর সাথে নুরুজ্জামানের বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়। সেখানে বলা ছিলো, নারী নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে পুরো বন্দর উপজেলাজুড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছিলো। নূরুজ্জামান বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তিনি উপজেলার বেজেরগাঁও মিনারবাড়ি এলাকার আব্দুল খালেকের পুত্র।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে নূরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে। ঘটনাটি আজ (৮ আগস্ট) থেকে ১০-১২ দিন আগের ঘটনা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ওই নারী আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার নাম জেরিন। আমরা সরা-কাবিন করেছি। সে আমার স্ত্রী। ঘটনার দিন তাকে নিয়ে হসপিটাল গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরতে রাত সাড়ে ১১ টা বেজে যায়। পরে তাকে তার ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে গেলে ওই ফ্ল্যাটের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে ওখানকার (বনশ্রী) কিছু বখাটে আমাদের আটক করে।”

এদিকে প্রকাশিত ভিডিওতে নূরুজ্জামান ওই নারীকে স্ত্রী দাবি করলেও এ স্বপক্ষে কোনো ধরণের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি ওই নারীর জবানিতে প্রথম তাকে স্বামী বললেও পরমুহূর্তে তিনিই বলছিলেন, ‘আমরা এখনও বিয়ে করিনি, বিয়ে করবো’।

৩০ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে