NarayanganjToday

শিরোনাম

আইভীর ৭ বছরের প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ এলো মেট্রোরেলের আওতায়


আইভীর ৭ বছরের প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ এলো মেট্রোরেলের আওতায়

বেশ কয়েক বছর থেকেই নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেলের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা তদবির শুরু করেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সর্বশেষ তিনি চলতি বছরের ১ অক্টোবর মেট্রোরেলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সংযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর এ নিয়ে ডিটিসিএ’র বোর্ড সভায় আলোচনা হয়। পরে এমআরটি লাইন দু’টি নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করে সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামোর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গৃহতি হয় সভাতে। ফলে, নারাণগঞ্জকে মেট্রোরেলের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত পাঁচবছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেলের আওতায় আনার যে চেষ্টা মেয়র চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি এখন সফল হতে যাচ্ছে আর এর সুফলভোগ করবে নারায়ণগঞ্জের আপামর জনতা।

এ বিষয়ে মেয়র আইভী বলেন, “সভায় এ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা কাজটিকে স্বাগত জানাচ্ছি। যাতে অতি দ্রুত এটি বাস্তবায়ন হয়।”

ডিটিসিএ’র ওই সভা শেষে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরে উন্নয়নে সুষ্ঠু ও সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য একটি বিস্তৃত পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিটিসিএ এটি প্রস্তুত করবে।”

সূত্র জানায়, ঢাকার সাথে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে আইভীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-২ ও ৪ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে পিজিভিলিটি স্ট্যাটি ও বিস্তৃত পরিবহন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মেট্রোরেলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সংযোগ স্থাপনের সেলিনা হায়াৎ আইভী যে আবেদন করেন সেখানে বলা হয়, ডিটিসিএ কর্তৃক সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) ২০১৬-২০৩৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নগর ডিটিসিএ’র আওতাভুক্ত। আরএসটিপিতে পাঁচটি এমআরটি লাইন ও ২১টি মাল্টিমডেল টার্মিনাল হাব নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে এমআরটি লাইন-২ চট্টগ্রাম রোডে শেষ হবে এবং এমআরটি লাইন ৪ বিদ্যমান রেললাইন নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ নগরীতে একটি মাল্টিমডেল টার্মিনাল হাব নির্মাণের প্রস্তাব করা হয় ওই আবেদনে। লাইন দু’টি আরএসটিপিতে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে প্রস্তাবিত মাল্টিমডেল টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে ঢাকা নগরীর সঙ্গে সমন্বিত একটি পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ করা যেতে পারে। ফলে নারায়ণগঞ্জ আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে এমআরটি লাইন-২ এর রুট হচ্ছে- গাবতলী-বসিলা-মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড-সাত মসজিদ রোড-জিগাতলা-ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড- সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত-আজিমপুর-পলাশী-শহীদ মিনার-ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-গোলাপ শাহ মাজার-বঙ্গভবনের উত্তর পার্শ্বস্থ সড়ক মতিঝিল-আরামবাগ-কমলাপুর পর্যন্ত। কিন্তু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় এটি মুগদা-মান্ডা-ডেমরা-চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত বিস্তৃত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। আরএসটিপি হালনাগাদ করার সময় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অপরদিকে, আরএসটিপি-২০১৫ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-৪ এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ট্র্যাকের নিচ বা পাশ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল বা উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই লাইন নারায়ণগঞ্জ শহরকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

ডিটিসিএ’র সভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ২০১৫ সালে আরএসটিপিতে ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাবের সুপারিশে নারায়ণগঞ্জে একটি হাবের প্রস্তাবনা রয়েছে। সংশোধিত এসটিপি প্রণয়ন করার সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের ট্রাফিক সার্ভে ডাটাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়নি। এর ফলে ট্রাফিক চাহিদা নিরূপণ করা যাচ্ছে না। ট্রাফিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগের জন্য আলাদাভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্য সম্পাদন সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ।

ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে দিয়ে মিডেল রিং রোড, হাই স্পিড রোড, লাইট রোড ইত্যাদি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে। জনসংখ্যা ও আয়তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নগরীর জন্য একটি বিস্তৃত পরিবহন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হলে এতে উল্লিখিত সব বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার ৫ বছর আগে থেকে জনদুর্ভোগ লাঘব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা শুরু করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

এ লক্ষ্যে তিনি ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত স্ট্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্লান (এসটিপি) এমআরটি-৬ মেট্রোলাইন নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করনের প্রসঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদনও করেছিলেন।

ওই আবেদনে বলা হয়েছিলো, হয়, নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ১৪ লাখ লোক বসবাস করে এবং বিভিন্ন পেশার লক্ষাধিক লোক প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ হতে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও সিটি করপোরেশন এলাকার শত শত ছাত্র-ছাত্রী দৈনিক নারায়ণগঞ্জ থেকে যাতায়াত করে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপাড়া করে। কিন্তু অপ্রতুল্য ও নিচুমানের বাস এবং অপর্যাপ্ত পরিমান ট্রেন সার্ভিসের ফলে যাত্রীদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফলে মূল্যবান সময় অপচয় ঘটে।

এ ছাড়াও একই দাবিতে ২০১৬ সালে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী পুনরায় মেট্রোরেল স্থাপনের অনুমতি চেয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত আবেদন জানান। একই দাবি তুলে পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জুনে একই বিভাগে একই আবেদন জানান। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ অক্টোবর তিনি মট্রোরেলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সংযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে