NarayanganjToday

শিরোনাম

‘নিয়াজুলকে হত্যার চেষ্টা নয়, অস্ত্রধারীকে প্রতিহত করেছিলো নিরস্ত্র মানুষ’


‘নিয়াজুলকে হত্যার চেষ্টা নয়, অস্ত্রধারীকে প্রতিহত করেছিলো নিরস্ত্র মানুষ’

হত্যার চেষ্টা নয় বরং পিস্তল বের করে হুমকি দেয়ায় সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছিলো নিয়াজুল ইসলামকে। এমনটাই জানিয়েছেন ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন। তারা বলছেন, নিয়াজুলকে হত্যার চেষ্টা নয়, একজন অস্ত্রধারীকে প্রতিহত করেছিলো নিরস্ত্র মানুষ

তাদের দাবি, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিয়াজুল গায়ে পড়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরপর সিনিয়র নেতারা বিষয়টি মিটিয়ে দিয়ে নিয়াজুলকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নিয়াজুল তার সাথে থাকা পিস্তল বের করে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তখন সম্মিলিত ভাবে তাকে প্রতিরোধ করা হয়েছিলো।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওইভাবেই বর্ণনা করেন কয়েকজন।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনায় হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে আদালতে মামলার আর্জি করা হয় ৪ ডিসেম্বর। পরে আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানা ৫ ডিসেম্বর তা রেকর্ড করে। এর একদিন পর ৭ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘সেদিন আইভীকে নয়, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো নিয়াজুল ইসলামকে।’

ওইদিনের ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, “সে যদি পিস্তল বের করে মেয়রের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতো তাহলে সেদিন ওই ঘটনা ঘটতো না। সে পিস্তল বের করে বারবারই তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়, গুলিও করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সে যদি গুলি করার সুযোগ পেত তাহলে হয় মেয়র নয়তো আমাদের মধ্যে কেউ হতাহত হতো। সেদিন তাকে প্রতিহত করার জন্য যতটুকু করার দরকার ছিলো মানুষজন তাই করেছে।”

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির বলেন, “ঘটনার দিন আমি আসছিলাম আর নিয়াজুল যাচ্ছিলো। সে উত্তেজিত ছিলো। তখন আমি তাকে মেয়রের দিকে যেতে না দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বারবার সে মেয়র যেদিকে আছে সেদিকেই যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাকে জোর করেই সেখান থেকে ঠেলে অন্যদিকে যাওয়ার জন্য বলি। সে এরপরই পিস্তল বের করে মেয়রের দিকে তেড়ে যেতে চাইলে তাকে তখন প্রতিরোধ করা হয়। তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এ বক্তব্য যারা দিচ্ছে তারা ভুল দিচ্ছেন। ভিডিও ফুটেজেই এর সত্যতা মিলবে।”

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শামীম ওসমান একজন এমপি, তিনি একজন এমপি হয়ে কীভাবে এতটা মিথ্যা বলতে পারেন! সারা দেশের মানুষ দেখেছে নিয়াজুল পিস্তল বের করে কি করতে চেয়েছিলেন। আর আমাদের এমপি বলেন, সে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন! আমার প্রশ্ন, একজন মানুষ যখন নামাজ পড়তে যাবে তখন সে সায়াম প্লাজার সামনে কেন এবং তার সাথে পিস্তল কেন? তাছাড়া সায়াম প্লাজার সামনে তো কোনো মসজিদ ছিলো না। সেদিন নিয়াজুল পিস্তল বের করে মেয়রের দিকে তেড়ে যেতে চেয়েছিলো আর তখনই মানুষ তাকে প্রতিহত করেছে। প্রতিঘাত নয়।”

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে