NarayanganjToday

শিরোনাম

খুনের শিকার সেই মডেল কন্যার ফ্ল্যাটে কারা আসতো যেতো?


খুনের শিকার সেই মডেল কন্যার ফ্ল্যাটে কারা আসতো যেতো?

নারায়ণগঞ্জে গোগনগরের মডেল কন্যা মাহমুদা ওরফে তানিশা খানের  ফ্ল্যাটে শুধু বাপ্পি নয় আরও অনেক রাঘবোয়ালও আসা যাওয়া করতো বলে গুঞ্জন রয়েছে। অনেক রথি মহারথিরেদর পদারচরণা ছিলো সেখানে। এমন গুঞ্জন এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।

বলা হচ্ছে, বাপ্পীকে স্বামী হিসেব পরিচয় দিয়ে গোগনগরের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিলেও সেখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ায়িক একটি চক্রের যাতায়াত ছিলো। আর এই চক্রের অনেক গোপন তথ্যই সংরক্ষণে ছিলো মডেল কন্যা মাহমুদা ওরফে তানিশা খাঁনের কাছে। আর সেসব তথ্য আড়াল করতেই এই হত্যাকা-ে ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বলা হচ্ছে মামলাটি থানা পুলিশ থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে মাহমুদা হত্যার মূল রহস্য বের হয়ে আসতে পারে। এই হত্যার নেপথ্যে যে রাঘবোয়াল জড়িত তা উন্মেচন হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন মহলও মনে করছেন এই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হোক।

সূত্র বলছে, মাহমুদা ওরফে তানিশা খাঁন খুনের একদিন পরই খবর পাওয়া যায় তাঁর কথিত বয়ফ্রেন্ড বাপ্পী মারা গেছে। কেউ বলছে আত্মহত্যা, কেউ বলছে স্ট্রোক। যা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। কারো কারো মতে, মাহমুদা হত্যার পিছনে বড় ধরণের একটা চক্র জড়িত থাকতে পারে। এই চক্রের গোপন কোনো তথ্য তাঁর কাছে ছিলো অথবা সে এই চক্রের কোনো তথ্য জেনে ফেলেছিলো যার কারণে খুনের শিকার হতে হয়েছিলো তাঁকে।

অন্যদিকে বাপ্পীর মৃত্যুটিও ভাবাচ্ছে অনেককে। কারো কারো মতে, একমাত্র আসামী করা হয়েছিলো বাপ্পীকে। আর এই বাপ্পীর মৃত্যু মানেই এই হত্যা মামলাটি ডিপফ্রিজে চলে যাওয়া। ফলে এই হত্যার নেপথ্যে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকলে তাঁরাও নিরাপদ। ফলে চক্রটি অত্যন্ত দুরন্ধর ও মাষ্টার প্ল্যান করেই এগুচ্ছে। যাতে সাপ মরে এবং লাঠিও না ভাঙে।

সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগে এই মামলাটি হস্তান্তর করা হলে এবং তদন্তে চৌকস কোনো অফিসার নিয়োগ করা হলে মাহমুদা হত্যার মূল রহস্য বের হয়ে আসতে পারে। পাওয়া যেতে পারে এই হত্যার সাথে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা।

প্রসঙ্গত, ৩০ জুলাই রাতে সদর থানার অন্তর্ভূক্ত গোগগনগর আলামিন নগরের একটি তালাবব্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর অর্ধগলিত লাশ। যদিও প্রথম দিকে এ নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে জানা গেছে সে নাগবাড়ি ডায়াবেটিস হসপিটালের সিকিউরিটি গার্ড আক্কাস আলীর মেয়ে মাহমুদা।

ঘটনার প্রায় ১ মাস ২০দিন আগে অজ্ঞাত এক যুবককে স্বামী পরিচয় দিয়ে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় নেয় মাহমুদা। সে শহরের উকিলপাড়া ‘টপটেন’ এর সেলস গার্ল হিসেবে ৬ মাস চাকরি করলেও পরবর্তীতে শর্টফিল্মে অভিনয়ে কথা শোনা যায়। তবে ‘মডার্ণ’ মেয়ে শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ছাড়া তাঁকে আর অন্য কোথায় কাজ করতে দেখা যায়নি।

১০ আগস্ট/এসপি/এনটি/এসপি

উপরে