NarayanganjToday

শিরোনাম

যে তিন কারণে খুন হতে পারে শিশু আলিফ


যে তিন কারণে খুন হতে পারে শিশু আলিফ

শহরের জল্লারপাড়া এলাকায় শিহাব উদ্দিন আলিফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কি এমন কারণ? এ নিয়েই এখন চলছে আলোচনা। তবে, তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা আলিফ হত্যাকাণ্ড তিনটি কারণে হতে পারে। এই তিনটি কারণের একটি ‘বলাৎকার’ দ্বিতীয়টি ‘গোপন কোনো কিছু দেখে ফেলা’ সর্বশেষ তৃতীয় কারণটি হতে পারে ‘চাঁদপুরে জমি সক্রান্ত কোনো বিরোধে আলিফে পিতাকে জব্দ করতে এই খুন’।

এদিকে আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর রিপন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে, আটক রিপন এখনও মুখ খুলছে না। তাঁর দাবি, ‘সে এসব কিছু জানেন না। সবটাই জানে অহিদ।’

অহিদ এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছে। সে এবং রিপন একই সাথে যে রুমে ভাড়া ছিলো সে রুম থেকেই বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) শিশু আলিফের মরদেহ একটি বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলিফের বাবা সৌদি আরব প্রবাসী আলমগীর হোসেন বাদী শুক্রবার (১৭ আগস্ট) সদর মডেল থানায় অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আটক রিপন ও পলাতক অহিদসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “আটক রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সে এখনও মুখ খুলছে না। সে জানাচ্ছে অহিদ সব জানে। তবে অহিদকে খোঁজা হচ্ছে। দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো মূল রহস্য বের হয়ে যাবে।”

তিনি এটুকু নিশ্চিত করে আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ খুব বেশি ক্রিটিক্যাল নয়। খুব অল্প সময়েই এর ক্লু বের করা সম্ভব। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। অহিদ আটকের চেষ্টা চলছে। অল্প সময়েই তাঁকে আটক করা সম্ভব হবে।”

প্রসঙ্গত, ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে জল্লারপাড়া আমহাট্টা এলাকায় বাড়ির সামনেই খেলছিলো ৫ বছরের শিশু শিহাব উদ্দিন আলিফ। সে ওই এলাকার চুন্নু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেনর ছেলে। আলমগীর হোসেন ঈদের ছুটিতে ১৫ আগস্ট দেশে ফিরেন।

আলমগীর হোসেনের দাবি, ঘটনার দিন সকালে আলিফ তাঁর কপালে চুমু খেয়ে খেলতে বের হয়। তবে তাঁকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরও আলিফ আশপাশের কয়েক ছোট ছোট ছেলের সাথে খেলতে যায়। তাঁরা সবাই বাড়ির সামনে খেলছিলো। এরপরই সে নিখোঁজ থাকে। আলিফ ৬ ঘণ্টা নিখোঁজের পর বিকেলে পাশবর্তী অহিদ ও রিপনের ভাড়া ঘরের তালা ভেঙে একটি বস্তা থেকে আলিফের লাশ উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার ময়না তদন্ত শেষে আলিফের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে তুলে দিলে তাঁর পরিবার আলিফকে চাঁদপুর গ্রামে সমাধিস্থ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয়।

১৮ আগস্ট, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে