NarayanganjToday

শিরোনাম

অনন্য উচ্চতায় মেয়র আইভী, ভাসছেন প্রশংসার জোয়ারে


অনন্য উচ্চতায় মেয়র আইভী, ভাসছেন প্রশংসার জোয়ারে

দলমত নির্বিশেষে মানুষের হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে মেয়র আইভী জনপ্রিয়তার শীর্ষ থেকে শীর্ষ অতিক্রম করে চলেছেন। কিছু ক্রটি বিচ্যুতি থাকলেও সাধারন মানুষ তা আমলে নিতে রাজি নন।

তারা বলছেন, ভাল কাজ করতে গেলে একজন সফল নেতার এক আধটু কমতি থাকতেই পারে। তা নিয়ে খুব বেশী সমালোচনার কিছু নেই।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক এক গুমোট পরিবেশে মানুষ যখন মুখ খুলছে না ঠিক সেই মুহূর্তে মেয়র আইভীর প্রতি মানুষের পজিটিভ অনুভূতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।

আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পোশার মানুষের মুখে মুখে আইভীর প্রশংসাই শোনা যাচ্ছে।

এই প্রশংসা যে শুধু শহরময় ছিলো তা কিন্তু নয়, শহর ছাপিয়ে শহরতলীতে এমন প্রশংসার রেশ ছিলো অনেকের মাঝেই। অধিকাংশের প্রশংসাতেই মেয়র ‘নির্লোভ’ এমনটাই ওঠে এসেছে। এই সময় মেয়রের মতো একজন জনপ্রতিনিধি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন, সদর উপজেলার বেশ ক’টি ইউনিয়ণ দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। এসব ইউনিয়ণগুলোকেও সিটি করপোরেশনের সাথে যুক্ত করা হোক।

মেয়রকে নিয়ে হঠাৎ করে মানুষজন এতোটা প্রশংসায় মেতে ওঠলেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজত গিয়ে জানা গেছে, বন্দর ও শহরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর উপর একটি সেতুর দাবি এখানকার মানুষ দীর্ঘ ৪৫ বছরের ধরে করে আসছিলেন। কিন্তু সরকার যায় সরকার আসে, এমপি যায় এমপি আসে, দুই পাড়ের মানুষের প্রাণের এই দাবি আর পূরণ হয়নি। বরং প্রতিবার নির্বাচনেই শীতলক্ষ্যার সেতুর উপর সেতু হবে, এমন মূলো ঝুলিয়ে অনেকেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন। আর সেতুর স্বপ্ন মানুষের চোখের সামনেই ঝুলে ছিলো।

তারা বলেন, শেষতক বন্দর ও সদরের লাখো মানুষের সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারণে। আর এর মধ্য দিয়ে বহুল কাঙ্খিত শীতলক্ষ্যায় হতে যাচ্ছে ‘কদম রসূল’ যা নির্মাণে এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আইভী জানান, ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এই সেতুর বাজেট অনুমোদন করেছে। এই সেতু নির্মাণের জন্য ৫‘শ ৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৫নং ঘাট এলাকায় নির্মিত হবে এ সেতুটি। এটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩শ’ ৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১২ দশমিক ৫ মিটার হবে। আগামী ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও এলইজিডি যৌথভাবে নির্মাণ করবে। মেয়র আইভী সেতুটির অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েই দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মানুষের ভালোবাসায় চিকিৎসা পেশা ছেড়ে এবং সুইজারল্যান্ডের আয়েশি জীবন ছেড়ে নারায়ণগঞ্জেই থেকে যান তিনি।

২০১১ সালে প্রথম বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রভাবশালী শামীম ওসমানের বিপরীতে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিলে তিনি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাঁদের প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানকেই ঘোষণা দেন। আর আইভী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় এই নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

প্রথম মেয়াদে ব্যাপক উন্নয়ণ কর্মকান্ডের কারণে নিজ দল ও দলের বাইরেও নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিতে সক্ষম তিনি। দেশের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন মেয়র হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে সক্ষম হন আইভী। এর সুবাধে ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে তাঁকে আর বেগ পেতে হয়নি। আওয়ামী লীগ তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করে তুলে দেন নৌকা প্রতীক। এ নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. সাখাওয়াতকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।

১১ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে