NarayanganjToday

শিরোনাম

‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাকাতর নিন্দুক ছুড়ছেন নিন্দার কাঁটা’


‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাকাতর নিন্দুক ছুড়ছেন নিন্দার কাঁটা’

একদিকে শ্রমিক বান্ধব অন্যদিকে কর্মী বান্ধব, এই দুই দিকেই বেশ সুনাম রয়েছে জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশের। অন্য যে কোনো সময়ের থেকে বর্তমানে অধিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছেন এই শ্রমিক নেতা। ফলশ্রুতিতে নিন্দুকের নিন্দা কাটাও ছোড়া হচ্ছে এই নেতার দিকে, এমন দাবি পলাশ অনুগামিদের।

পলাশ অনুগামিরা বলছেন, আজকাল অনেক নেতাই আছেন কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন না। আবার হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদের চেনা তো দূরের কথা নামও জানেন না। সেদিক থেকে পলাশ ব্যতিক্রম। তিনি সবার নাম মনে না করতে পারলেও অসংখ্য কর্মীর নাম তিনি জানেন এবং প্রায় সকল কর্মীকেও চেনেনও।

তারা বলেন, কোনো একজন কর্মী পলাশের কাছে একবার আসলে তার চেহেরা সহসা ভুলেন না তিনি। এমনকি কোনো কর্মীকে দুইবারের বেশি তিনবার যদি না দেখেন তখনই তার খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেন। জানার চেষ্টা করেন কোনো ধরণের সমস্যা বা অসুবিধেতে পড়লো কিনা।

পলাশ অনুসারি শ্রমিক নেতা হুমায়ূন কবির বলেন, কাউসার আহম্মেদ পলাশের মতো নেতা পেয়ে আমরা গর্বিত। কর্মী বান্ধব এমন নেতা সচরাচর পাওয়া দুস্কর। সেদিক থেকে আমরা আমাদেরকে ভাগ্যবান মনে করি। তিনি শুধু যে কর্মী বান্ধব, তা নয়, পলাশ হাজারও মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর।

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় কাউসার আহম্মেদ পলাশের। এরপরই যুক্ত হন শ্রমিক রাজনীতিতে। ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি চলে আসেন শ্রমিক লীগে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে কজন প্রথম সারিতে থেকে শ্রমিক রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন, তাদের মধ্যে কাউসার আহম্মেদ পলাশও একজন। নিজের রাজনৈতিক দক্ষতায় এবং নেতৃত্ব দেয়ার অসামান্য যোগ্যতায় জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশব্যাপী।

শ্রমিক রাজনীতি করতে গিয়ে অসংখ্য মামলা ও জেল খাটতে হয়েছিলো কাউসার আহম্মেদ পলাশকে। নীতিবাক্য আর নীতির রাজনীতিতে অবিচল থাকায় বিরোধীদের পাশাপাশি নিজ দলীয় কারো কারো রোষানলেও পড়তে হয়েছে তাকে। হেনস্থা ও মিথ্যা মামলায় বারবার তাকে যেতে হয়েছিলো কারাগারে। এমনকি, বিরোধীদের নোংরা রাজনীতির কারণে তাকে নারায়ণগঞ্জের কারাগারে না রেখে কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকতে হয়েছিলো বহুবার। খাটতে হয়েছিলো ডিটেনশন, পরতে হয়েছিলো ডান্ডাবেরি। তবুও দমে যাননি তিনি। বিশ্বাস আর একাগ্র চিত্তে অবিচল থেকেছেন শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে।

পলাশ অনুসারি শ্রমিক নেতা শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু বলেন, একটা সময় এখানকার শ্রমিকদের নানা ভাবেই ঠকিয়েছিলো মালিকপক্ষ। কিন্তু এখন সেটা অনেকাংশে নেই বললেই চলে। আর এ সম্ভব হয়েছে কাউসার আহম্মেদ পলাশের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কারণে।

তিনি বলেন, কাউসার আহম্মেদ পলাশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করেন। শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তিনি সব কিছুর সাথে আপোষ করতে পারলেও কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শিখেননি। আর এ কারণে নিজ দলের অনেকের চক্ষুশূলেও পরিণিত হয়েছেন তিনি।

সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি এবার নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। এমন ঘোষণা তিনি দিয়েছেন বহু আগেই। আর সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য প্রভাবশালী শামীম ওসমান। তিনি এবারও এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তবে, এবারের নির্বাচনে শামীম ওসমানের পাশাপাশি পলাশ মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ এখন দেখা যায়নি। শামীম ওসমান কিংবা পলাশ, কেউই কারো বিরুদ্ধচারণ এখনও করেননি।

কাউসার আহম্মেদ পলাশের মতে, প্রতিটি রাজনীতিকেরই স্বপ্ন থাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার। সে মোতাবেক এ স্বপ্ন আমিও দেখি। কিন্তু আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো পক্ষেই সে স্বপ্নে পৌঁছা সম্ভব নয়। আমি মনে করি আল্লাহর হুকুম হলে আমি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবো। আর আমার দলের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন আমি যোগ্য তাহলে অবশ্যই তিনি আমাকে নিরাশ করবেন না।

তিনি বলেন, মনোনয়নের জন্যই যে রাজনীতি করি তা সত্য নয়। রাজনীতি করি একটা অদর্শ নিয়ে। যে আদর্শ বঙ্গবন্ধুর। মনোনয়ন পাই বা না পাই, আওয়ামী লীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু, এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে। আমাদের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে, নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা আছে। আমি কিংবা শামীম ভাই, যাকেই এবারের নির্বাচনে আমাদের নেত্রী নৌকা তুলে দিবেন, আমরা তার পক্ষে সকলেই মাঠে নামবো।

২৩ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে