NarayanganjToday

শিরোনাম

বড় বিপর্যয় থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো বিসিক শিল্প নগরী


বড় বিপর্যয় থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো বিসিক শিল্প নগরী

একজন শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিসিক শিল্প নগরীতে ব্যাপক তা-বের মহাপরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বড় ধরণের কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে কয়েক শত শিল্প প্রতিষ্ঠান। দৃঢ়তা আর বুদ্ধিমতার গুণে বড় ধরণের কোনো ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়নি বুধবারে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিসিক শিল্প নগরীর গার্মেন্ট মালিকদের। 

সূত্র মতে, বুধবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বিসিক শিল্প নগরীর ১ নং গলির ফেম অ্যাপারেলস নামের একটি গার্মেন্টে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত হন জাকিউল ইসলাম ওরফে জাকির নামে এক শ্রমিক। এ ঘটনায় সকালে একদফা তা-ব চালায় কিছু বিক্ষুব্ধ শ্রমিক। যদি ঘটনাটি বেশি দূর এগোতে পারেনি পুলিশ তৎপরতায় শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক পক্ষের ঘোষণায়। কিন্তু এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। পরিকল্পনা ছিলো হাসপাতালে থেকে জাকিরের লাশ নিয়ে বিসেকে মিছিল করার এবং ব্যাপক তা-ব চালানোর।

জানা গেছে, সেদিনের ঘটনায় শ্রমিকদের সাথে অসংখ্য বহিরাগত যুক্ত হয়েছিলো। মূলত যে ভাঙচুর চালানো হয়েছে সেগুলো বহিরাগতরাই করেছে। কেননা, সেদিনের সেই শ্রমিক বিক্ষোভে যেসব শ্রমিক অগ্রভাগে থেকে বিক্ষোভ, ভাঙচুর চালিয়েছে তাদের চেনে না অনেকেই। আর এই তাদের উস্কানিতেই একদল শ্রমিক বুঝে না বুঝে হাসপাতাল থেকে জাকিরের লাশ নিতে চেয়েছিলো বিসিকে। তারা বারবার বলছিলো, জাকিরের জানাযা হবে বিসিক। মূলত জাকিরের লাশকে উপজিব্য করে শ্রমিকদের সারল্যতাকে পুঁজি করে ব্যাপক শ্রমিক সমাগাম ঘটিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মহাপরিকল্পনা ছিলো একটি পক্ষের।

তবে, সে পরিকল্পনা তাদের সেদিন ভেস্তে গেছে জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ণ ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশের দৃঢ়তার কারনে। সেদিন তিনি যদি তার অনুসারিদের নির্দেশ না দিতেন এবং লাশ যদি আলীগঞ্জ নিয়ে না আসতেন তাহলে সে লাশ ঢুকে যেতো বিসিক শিল্প নগরীতে।

সূত্র বলছে, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটা অংশ খানপুর হাসপাতাল থেকে জাকিরের লাশটি একরকম জোর করেই বিসিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। এসময় পলাশের নির্দেশে তার লোকজন জাকিরের লাশ নিয়ে যায় আলীগঞ্জ লেবার হলে। সেখানে গোসল দেয়া হয় এবং কোনো ভাবেই এই লাশ বিসিকে নিতে দেয়া হয়নি। যদিও লাশ নেয়ার জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অনবরত ফোন আসছিলো। পরবর্তীতে পলাশের নেতৃত্বে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে জাকিরের জানাযা শেষে তার আত্মীয় স্বজনদের হাতে বুঝিয়ে দিয়ে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে।

এ প্রসঙ্গে কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলেন, সামনে নির্বাচন। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার লক্ষ্যে একটি পক্ষ নানা ভাবেই অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছিলো। এদিনও সেই লক্ষ্য ছিলো। ব্যাপারটি আঁচ করতে পারায় দুর্বৃত্তরা সফল হতে পারেনি।

তিনি জানান, শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মালিক পক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি হয়েছে। তাহলে এখানে কেন আবার বিক্ষোভ হবে? অথচ, একটি পক্ষ চেয়েছিলো জাকিরের লাশ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে।

পলাশ বলেন, শ্রমিকদের একটি অংশ বারবার জাকিরের লাশটি বিসিকে নিতে চেয়েছিলো। তারা দাবি করছিলো সেখানে জাকিরের জানাযা দিবে। কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য ছিলো সাধারণ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে জাকিরের লাশ নিয়ে বিসিকে বিক্ষোভ করবে শ্রমিকেরা। এসময় ব্যাপক তা-াব তারা চালাতে পারে। মূলত এমনটা বুঝতে পেরেই আমি নির্দেশ দিই লাশ লেবার হলে নিয়ে আসতে। পরে এখানে গোসল করানো হয়। পরে ডিআইটি মাঠে জানাযা দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালের দিকে ফেম অ্যাপারেলসে মেশিন চালু দিতে গেলে ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে মৃত্যু হয় জাকিউল ইসলাম ওরফে জাকিরের। তাতক্ষণিক তাকে নগরীর খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শ্রমিকেরা ঢকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধসহ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

পরে পুলিশী তৎপরতা এবং শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক পক্ষের আশ^াসে শ্রমিকেরা রাজপথ ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। মালিক পক্ষ প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ি নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিবেন। এবং তদন্ত কমিটি যদি মালিক পক্ষের অবহেলা পায়, এবং বিদ্যুৎ সংযোগে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে এ জন্য মালিক পক্ষকে জরিমানা করা হবে।

২৬ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে