NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের সমাবেশ বলে কথা!


শামীম ওসমানের সমাবেশ বলে কথা!

ঢাকার কাজলা মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার সেতুর গোড়াতে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে। সকলের চোখে-মুখে অসম্ভব রকম বিরক্তের ছাপ। গড়ির কাটায় তখন ১০ টা ৪০ মিনিটি। তাদের প্রত্যেকেরই অপেক্ষা বাসের জন্য। নারায়ণগঞ্জ আসবেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে কোনো গাড়ি নেই। তাদের ভাষ্য মতে, এখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে। কেন এ অবস্থা? তাদের কাছে জানতে চাইলেও গাড়ি নেই কেন, তা জানা নেই তাদের।

পৃথক চারটি ছাতার নিচে ছোট্ট ছোট্ট টেবিলের উপর যাত্রী টিকেট সাজিয়ে বসে আছেন কয়েকজন। এগিয়ে গিয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানালেন, জ্যাম। কিন্তু তাদের কথার সাথে মিল পাওয়া গেলো না একের পর এক শীতল পরিবহন সার্ভিস আসায়। ফের প্রশ্ন। এবারও কোনো উত্তর নেই। তারা কিছু বলতে পারলেন না। আসলে বলতে পারলেন না, তা নয়। তারা পুরো ব্যাপারটি এড়িয়েই গেলেন।

ততক্ষণে কেউ কেউ লেগুনাই চেপে সাইনবোর্ডের দিকে রওনা দিলেন। উদ্দেশ্য এখান থেকে যদি নারায়ণগঞ্জের কোনো গাড়ি পাওয়া যায়। এখানে এসেও একই চিত্র। অসংখ্য মানুষ। কোনো গাড়ি নেই। তারাও জানালেন দীর্ঘক্ষণের অপেক্ষার কথা। তাদের চোখে-মুখেও ছিলো রাজ্যের বিরক্তি। এই বিরক্তি নিয়েই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের যেন আর কিছুই করার ছিলো না।

সাভার থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত মৌমিতা পরিবহনের একটি গাড়ি আসতেই অপেক্ষামান যাত্রীরা সেটিকে ঘিরে ধরে। আগের থেকেই এই গাড়িটিতে যাত্রী ঠাসা। এরমধ্যেই ঠেলাঠেলি করে অপেক্ষামান যাত্রীদের মধ্য থেকে বেশ কিছু নারী-পুরুষ ওঠে গেলেন। নারীরা কোনো রকমে গাড়ির ভেতরে গেলেন আর পুরুষগুলো বাদুঝেলা হয়ে গেটে ঝুলছেন। এই প্রতিবেদকও ছিলো এই মৌমিতার যাত্রী। তিনিও ফিরছিলেন চাষাড়াতে।

সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া পর্যন্ত আসার পথে প্রতিটি বাসস্টপেজে অসংখ্য মানুষ। তাদেরও অপেক্ষা গাড়ির জন্য। মৌমিতাকে সিগন্যাল দিয়েও লাভ হচ্ছে না। গাড়ি থামছে না। আসলে তা নয়, থামলে লোক ওঠাবে কীভাবে? সে কারণেই সিগন্যাল পেয়েও থামা হয়নি।

হঠাৎ করে গাড়ি নেই! এর কী কারণ হতে পারে? জানতে চেয়েও কারো কাছ থেকে তা জানা যায়নি। শেষমেষ চাষাড়া এসে এই প্রতিবেদক নামলেন। এখানেও যাত্রীদের উপচেপড়া চাপ। গাড়ির জন্য অপেক্ষা সবার থাকলেও গাড়ি নেই। কাউন্টারে গিয়ে জানতে চাইলে সদত্তুর দেয়নি কেউ। একটাই কথা, গাড়ি আসবে। কিন্তু এতক্ষণেও না আসার কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে নীরব থাকছে তারা। তবে রাইফেল ক্লাবের উল্টো দিকে শীতল পরিবহনের কাউন্টারে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। এখানে একটার পর একটা গাড়ি আসছে আর যাত্রীরা সিরিয়াল ধরে তাতে ওঠছেন। কেবল পাওয়া যাচ্ছে না উৎসব, বন্ধন এবং হিমাচল পরিবহনের বাসগুলো।

এদিকে গাড়ি না থাকার কারণ যখন শত চেষ্টা করেও কাউন্টার থেকে জানা যায়নি, তখন কাউন্টারের কাছেই দাঁড়ানো কয়েকজন যাত্রী বিরক্ত নিয়ে বলেই ফেললেন, ‘এর কোনো মানে হয়? মিটিং করবেন তারা আর ভোগান্তিতে পড়বো আমরা! তারা জনপ্রতিনিধি না জনদূর্ভোগের মহানায়ক?’ এমন কথা ভেসে আসতেই কাছে এগিয়ে গিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, কিসের মিটিং? উত্তরে জানা গেলো সাংসদ শামীম ওসমানের জনসভার কথা।

এই সূত্র ধরেই খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেলো, প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করেছেন ইসদাইর ওসামানী স্টেডিয়ামে। আর এই সমাবেশের লোকজনের যোগান দিতে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে গাড়ি। এ কারণে সকাল থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত বন্ধন, উৎসব, হিমাচল পরিবহন নেই বললেই চলে। গুটি কয়েকটা গাড়ি চলাচল করছে। যা দীর্ঘক্ষণ বিরতীর পর পর আসছে যাচ্ছে।

তাহলে শীতল পরিবহন! জানা গেলো, এই পরিবহনটির মালিকানা শামীম ওসমানের। যার কারণে এটি চলাচলে কোনো রকম কম বেশি নেই। আর বন্ধন, উৎসব, হিমাচল পরিবহনগুলোর নিয়ন্ত্রণ করেন শামীম ওসমান অনুসারি নেতারা। ফলশ্রুতিতে শীতল ঠিকঠাক মতো চলাচল করলেও অপ্রতুল্য ছিলো অন্যসব যানবাহন। এ নিয়ে যাত্রী সাধারণের মাঝে ছিলো চরম ক্ষোভ। তারা বলছিলেন, একজন শামীম ওসমানে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়বে, এটা কেমন কথা? এর সাথে সুর মিলয়ে কেউ কেউ বলে ওঠলেন, শামীম ওসমানের সমাবেশ বলে কথা।

এদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডই নয়, চাষাড়া-চিটাগাং রোড এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো সড়কেও দেখা গেছে একই চিত্র। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে। এই পথে চাষাড়া থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত মানুষকে পায়ে হেঁটেই আসা যাওয়া করতে হয়েছে। যা ছিলো সাধারণ মানুষের জন্য সব থেকে কষ্টদায়ক এবং বিরক্তের। তারপরও দাঁতে দাঁত চেপে সাধারণ মানুষদের পথ চলতে হয়েছে। বলার কিছুই ছিলো না তাদের। কারণ, শামীম ওসমান বলে কথা।

এদিকে একদিকে গাড়ি তো যাত্রীবাহী গাড়ি নেই। অন্যদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে চাষাড়া থেকে সকল প্রকার যানবাহনই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডাক বাংলা থেকে সব ধরণের যান ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেতে দেয়া হচ্ছে না ফতুল্লা পঞ্চবটির দিকে। অন্যদিকে পঞ্চবটি থেকে কোনো ধরণের যানবাহনই প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি শহরের দিকে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৭ অক্টোবর) সমাবেশের ডাক দেন সাংসদ শামীম ওসমান। পূর্ব নির্ধারিত এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এই নেতার অনুসারিরা। এদিন বিকেল ৩টা থেকে সমাবেশ। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে শামীম ওসমানই উপস্থিত থাকবেন।

২৭ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে