NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জের পথে পথে ভোগান্তি, ‘কালি সন্ত্রাস’ থেকে রক্ষা পায়নি মেয়েরাও


না.গঞ্জের পথে পথে ভোগান্তি, ‘কালি সন্ত্রাস’ থেকে রক্ষা পায়নি মেয়েরাও

দিনে দুপুরে গাড়িতে আগুন দিয়ে যারা মানুষ মেরেছিলো তাদেরকে বলা হয়েছিলো আগুন সন্ত্রাসী। আর এই আগুন সন্ত্রাসীদের ভয়ে গাড়িতেও ওঠতে ভয় পেতো মানুষ। তবে, সে ধারাটা এখন কিছুটা চেঞ্জ হয়েছে। কিন্তু এখন আবার শুরু হয়েছে কালি সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে রেহাই মিলছিলো না স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।

এমনই দৃশ্য দেখা গেছে রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। এদিন সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতী চলছে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে। আর পরিবহন শ্রমিকদের এই কর্মবিরতীতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছে সর্বস্তরের জনসাধারণ।

সূত্র মতে, পরিবহন শ্রমিকেরা কর্মবিরতীর নামে শহর ও শহরতলীজুড়ে ব্যাপক নৈরাজ্য শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থানে এরা বিভিন্ন ধরণের যানবাহন থামিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ গাড়িতে পোড়া মবিল এবং চালকদের মুখেও সেসব মেখে দিয়েছে। এমনকি এদের হাত থেকে রেহাই পায়নি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। তাদের শরীরেও মেখে দেয়া হয়েছে পোড়া মবিল।

নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের বাস থামিয়ে ব্যাপক অসভ্যতাও চালানো হয় সাইনবোর্ড এলাকাতে। এখানে গাড়ি চালক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শরীরের ঢেলে দেয়া হয় পোড়া মবিল। এছাড়া বিভিন্ন মোটর বাইক এবং নানান ধরণের যানবাহন থামিয়েও একই ধরণের অসভ্যতা করতে দেখা গেছে। এই চিত্রটি সব থেকে ভয়াবহ ছিলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধরগঞ্জের চিটাগাং রুটে। এখানে পরিবহন শ্রমিকেরা রীতিমত চালিয়ে তা-ব। আটকে দিয়েছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পিএস’র গাড়িও আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকেরা।

এদিকে সড়কে পরিবহন শ্রমিকের তা-বের কারণে প্রায় সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। আর এতে করে যারপরনাই ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। বিশেষ প্রয়োজনে এদিক থেকে সেদিক, কোথাও যেতে পারছে না মানুষ। পথে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো ধরণের যানবাহন। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশাকেই শেষ সম্বল করে স্বল্প দূরত্বের জায়গাগুলোতে যেতে হচ্ছে জনমানুষকে।

অন্যদিকে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের ভোগান্তি ছিলো সব থেকে বেশি চোখে পড়ার মতো। এ নিয়ে তাদের মাঝে দেখে গিয়েছিলো চরম ক্ষোভ। তারপরও কর্মস্থলে যেতে হবে তাই ভেঙে ভেঙে রিকশাকেই সম্বল করে কয়েকগুণ টাকা বেশি খরচ করতে হয়েছে। তবে, এতো ভোগান্তির পরও এই সাধারণ মানুষগুলো একটাই প্রশ্ন ছিলো, দুদিন পরপর এই ধরণের যন্ত্রণা থেকে আমাদের মুক্তি কবে?

২৮ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে