NarayanganjToday

শিরোনাম

কাদের স্বার্থে ফুটপাতের হকার, পরিষ্কার হয়েছে শনিবার!


কাদের স্বার্থে ফুটপাতের হকার, পরিষ্কার হয়েছে শনিবার!

সভা-সমাবেশ, মিটিং-সিটিং, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘাত-সংঘর্ষ থেকে শুরু করে রক্তপাতÑ নগরীর হকার উচ্ছেদ এবং হকার বসানোকে কেন্দ্র করে কী ঘটেনি? নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এক পক্ষ চেয়েছিলো নগরীর ফুটপাতে হকার বসবে না, এ লক্ষ্যে হয়েছিলো উচ্ছেদ।

তবে, উচ্ছেদকৃত এই হকারদের ফের ফুটপাতে বসাতে চেয়েছিলো অপর একটি পক্ষ। আর এ নিয়ে বেশ ক’দিন ধরেই চলছিলো সভা-সমাবেশ, মিটিং-সিটিংসহ নানা উত্তেজনকর পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অনেকেই। পেটানো নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছিলো সাংবাদিক শরীফুদ্দিন সবুজকেও।

আলোচিত এ ঘটনাকি তৃতীয় একটি পক্ষ হকারের সাথে আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও নাগরকি কমিটি থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ দাবি করে আসছিলো হকার নয়, শামীম ওসমান অনুসারিরাই হকারদের বসানো কেন্দ্র করে মেয়র আইভীর উপর হামলা চালিয়েছিলেন।

এছাড়াও নগরবাসী বরাবরই বলে আসছিলেন ফুটপাতে এই হকার বসানোর নেপথ্যেই রয়েছে ওসমান পরিবার। তাদের অনুসারিরা এখান থেকে সুবিধা আদায় করে থাকেন। যার কারণে শামীম ওসমান হকারদের পক্ষ হয়ে নিজেই পথে নেমে এসেছিলেন।

তবে, ফুটপাতে হকার বসুক, আর এই হকারে স্বার্থ যে শামীম ওসমানসহ তাদের অনুসারিদের, সেটি এখন দিবালোকের মতোই পরিষ্কার হয়ে গেছে শনিবারে শামীম ওসমানের জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে। এমনটাই মনে করছেন নগরবাসীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, এই হকারে যদি শামীম ওসমানের স্বার্থ না থাকবে তাহলে শনিবার কেন প্রতিটি ফুটপাত হকারশূন্য হয়ে গেছে। এতে করেই তো বোঝা যায় এই হকার আসলে কাদের স্বার্থে? এ ব্যাপারটি তো দিবালোকের মত্য এখন সত্য হয়ে এলো।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, শহরের ফুটপাতের হকার বসায় ওসমানরাই। তারা এই হকারদের থেকে দুই ধরণের লাভবান হচ্ছেন। একটি তাদের নিয়ে রাজনীতি এবং অপরটি আর্থিক লাভবান। হকারদের থেকে আদায়কৃত টাকা দিয়েই তারা চলেন। আর এই হকাররা যে তাদের সেটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এক এগার পরে মেয়র আইভী হকারদের জন্য হকারর্স মার্কেট করে দিলেন। হকাররা সেখানেই বসছিলেন। তখন ওসমানরা ছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম ওসমানরা যখন দেশে ফিরে এলেন তখন হকাররা আস্তে আস্তে ফুটপাতে বসতে শুরু করলেন। এবং হকারর্স মার্কেটের দোকান তারা বিক্রি করতে শুরু করলেন।

তবে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ফুটপাতে হকাররা কারো স্বার্থে বসেন না। তারা নিজেদের স্বার্থে, পেটের তাগিদে ফুটপাতে বসে। তবে কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীনরা চাঁদা আদায় করলেও অধিকাংশ হকার এখন আর কাউকে চাঁদা দেয় না।

তিনি বলেন, সমাবেশে অনেকটা সন্ত্রাসী কায়দায় জোর করে লোকজন জড়ো করেছে। এক্ষেত্রে গার্মেন্ট, পরিবহন শ্রমিকরাও আছে। তাদের অনুসারিদের ব্যাপারটি ভিন্ন। এর বাইরে অন্য যাদের সমাবেশে নেয়া হয়েছে তাদের জোর করেই নেয়া হয়েছে। আর হকারদের ক্ষেত্রেও কিছুটা এমন ঘটেছে। তবে, অনেক হকর আছে তাদের অনুসারি যেমন হকার্সলীগ, শ্রমিকলীগ ইত্যাদি।

২৮ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে