NarayanganjToday

শিরোনাম

কতটুকু লাভবান হয়েছেন শামীম ওসমান?


কতটুকু লাভবান হয়েছেন শামীম ওসমান?

শামীম ওসমান, তিনি প্রভাবশালী সাংসদ। তার সব কিছু নিয়েই মানুষের আগ্রহটা একটু বেশিই থাকে। সেভাবেই সাধারণ মানুষসহ ভিন্ন দল এবং তার দলেরই অপর একটি পক্ষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো তার ২৭ অক্টোবরের সমাবেশের দিকে।

এই সমাবেশকে ঘিরে বেশ কয়েকদিন ধরেই শহর ও শহরতলীতে চলছিলো বেশ আলোচনা। শামীম অনুসারিরাও বলছিলেন, এই সমাবেশ হবে সর্বকালের সেরা। তবে, এই সমাবেশ সম্পর্কে ‘এটি শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত সমাবেশ’ এমনটি আগেই বলে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সিনিয়র নেতারা। আর তাই ধারণা করা হচ্ছিলো, শামীম ওসমান যেহেতু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সেহেতু এই আসনে যারা তারা ভোটার তারাই এই সমাবেশে থাকবেন।

অনেকেই বলছেন, শনিবারের সমাবেশে যে পরিমাণ লোক হয়েছিলো এরা যদি স্বেচ্ছায় এবং সবাই যদি শামীম ওসমানের ভোটার হতেন, তাহলে শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তা যে তুঙ্গে, সেটি দ্বিধাহীন ভাবেই বলা যেতে পারতো। কিন্তু এই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের থেকে অন্য তিনটি আসন থেকেও লোকজন এসেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন গার্মেন্ট ও মার্কেট বন্ধ করেও লোক সমাগম ঘটানো হয়েছিলো এই সমাবেশে, এমন কথাও চাউড়র আছে সর্বত্র। তাই প্রশ্ন ওঠেছে, এই সমাবেশে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে শামীম ওসমানের ভোটর কতজন?

সূত্র বলছে, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার এবং বন্দর থেকেও লোক আনানো হয়েছে সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে, লোক সমাগম দেখাতে। কিন্তু এসব এলাকা শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার বাইরে। এখানে তার কোনো ভোটারই নেই। আবার এটি দলীয় কোনো কর্মসূচিও নয়। এটি ছিলো ব্যক্তি শামীম ওসমানের সমাবেশ। তাহলে এই লোক সমাগম থেকে কী শামীম ওসমানের ভোট ব্যাঙ্ক নিরুপন করা যায়?

কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সমাবেশে অনেকটা সন্ত্রাসী কায়দায় পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে, জোর করে লোকজন জড়ো করেছে। এক্ষেত্রে গার্মেন্ট, পরিবহন শ্রমিকরাও আছে। তাদের অনুসারিদের ব্যাপারটি ভিন্ন। এর বাইরে অন্য যাদের সমাবেশে নেয়া হয়েছে তাদের জোর করেই নেয়া হয়েছে।

এমন কথা শুধু হাফিজুল ইসলামই নন, আরও অনেকের কাছ থেকেও ভেসে আসছে। যার কারণে এ নিয়ে রোববার সারাদিনই ছিলো আলোচনা সমালোচনা। তবে এর সাথে আরও একটা কথাও যুক্ত হয়েছে, জোরপূর্ব যদি কোনো লোকজন সমাবেশে নেয়া হয়েও থাকে, তাহলে সেসব কী শামীম ওসমান জানতেন নাকি তার অনুসারি সুবিধাভোগি যারা আছেন তারা নেতাকে খুশি করার জন্য যত্রতত্র থেকে জোর করে লোক সমাগম ঘটিয়েছেন? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এতে করে শামীম ওসমান যতটা না লাভবান হয়েছেন তার থেকে বেশি তিনি বিতর্কিতই হবেন। যা প্রভাব ফেলতে পারে আগামী নির্বাচনে।

এছাড়াও সমাবেশে আসা লোকজন শামীম ওসমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার আগে বের হতে চাইলে গেটে আটকে দেয়া হয়েছিলো। এমনকি কাউকে কাউকে এদিন মারধরও করা হয়েছিলো। যা নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এ ঘটনাটিকে শামীম ওসমান পুত্র অয়ন ওসমান ভিন্ন ঘটনা দাবি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। সেখানে তিনি সমাবেশ সফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, অন্য দল থেকে কিছু লোক সমাবেশে এসে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করতে চেয়েছিলো তাদেরকে ছাত্রলীগের ভাইয়েরা প্রতিহত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠেছে, যদি অন্য দল থেকে লোকজন এসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টাই চালিয়েছিলো তাহলে তাদেরকে আটকে পুলিশে দেওয়া হলো না কেন?

শুধু তাই নয়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। ফলে, ঢাকার সাথে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়াও জন মানুষ এদিন পরিবহন সঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। যা অবর্ণনীয়। এ নিয়েও শামীম ওসমানের সমালোচনা ছিলো দিনভর। যা আজও করছেন কেউ কেউ।

২৮ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে