NarayanganjToday

শিরোনাম

বাড়ছে শামীম বিরোধী, পাল্টে যেতে পারে ভোটের অঙ্ক!


বাড়ছে শামীম বিরোধী, পাল্টে যেতে পারে ভোটের অঙ্ক!

একদিকে যেমন নিজের বলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র নেতারা অন্যদিকে বাড়তে শুরু করেছে বিরোধীর সংখ্যা। বর্তমানে সাংসদ শামীম ওসমানের চতুর্দিক দিয়েই বাড়তে শুরু করেছে বিরোধী মতের মানুষের সংখ্যা। এই সংখ্যাতে যেমন নিজ দলীয় ব্যক্তিরা আছেন তেমনি আছেন বিরোধী দলেরও। তবে, বিরোধীদের থেকে নিজ দলীয় ব্যক্তিদের বিরোধীতা মোকাবেলা করাটাই এখন শামীম ওসমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকে।

সূত্র বলছে, দিন যত গড়াচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে শামীম ওসমান বিরোধী সংখ্যা। একই সাথে এই সাংসদের বলয় থেকে বেরিয়ে গেছেন তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন বন্ধু হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপুসহ আরও অনেকেই।

সম্প্রতি যে সমাবেশ করেছিলেন শামীম ওসমান সেখানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ কোনো নেতাই উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারাই ছিলেন সেদিন শামীম ওসমানের মঞ্চে। আর এতে করেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছিলো তার বলয়ের সর্বশেষ খবর এবং বিরোধী মতের বিষয়টি।

এদিকে পূর্বের থেকেই শামীম বিরোধী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার অনুসারিরা। বর্তমানে তার বিরোধী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপুর আবির্ভাবও ঘটেছে।

এছাড়াও শামীম ওসমান বিরোধীদের মধ্যে জেলার বাম ঘরোয়ানার রাজনীতিক, সমর্থক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও রয়েছে। তাদের পাশাপাশি বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের ঘোর বিরোধী। সম্প্রতি শামীম ওসমানের বিরোধী বক্তব্য দিয়ে সাবেক সাংসদ এসএম আকরামও প্রকাশ্যে এসেছেন। অর্থাৎ সাংসদ শামীম ওসমান বর্তমানে চতুর্মুখী বিরোধীতার মধ্যে রয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে প্রার্থীতা এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়াটা এই নেতারা জন্য কষ্টকর বিষয়ই হয়ে ওঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

যদিও শামীম ওসমান পন্থী নেতাকর্মীরা ২৭ অক্টোবরের সমাবেশের উদ্ধৃতি টেনে বলছেন, শামীম ওসমান ওয়ান পিস। তার তুলনা তিনি নিজেই। ফলে কে বের হলো আর কে থাকলো তাকে এই নেতার উপর প্রভাব পড়বে না। আর সেটিই প্রমাণ করেছে সেদিনের জনসমাবেশ।

তবে, কারো কারো অভিমত ছিলো, সেদিনের সমাবেশ দিয়ে ভোটের হিসেব কষা বা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে সে অংক করাটা বোকামি। কারণ, সেখানে উপস্থিত জনতার অধিকাংশই শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার ভোটার না। সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, বন্দর এবং আড়াইহাজারের লোকজনও সেদিন ছিলো। এছাড়াও অনেকে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বাইরের অন্য জেলার। যারা গার্মেন্টকর্মী। তাহলে, এই লোক সমাগমে আগামী নির্বাচনে ভোটের অংক কতটা মিলেবে?

এরমধ্যে সাবেক সাংসদ এসএম আকরাম তো সমাবেশ সম্পর্কে বলেই ফেলেছেন, শামীম ওসমানের রাজনীতি মানেই পেশি শক্তি নির্ভর। আর এই পেশি শক্তি দিয়ে তিনি লোক সমাগম ঘটাতেই পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যারা সেদিন তার সমাবেশে এসেছিলেন, তারা কী সবাই শামীম ওসমানকে ভালোবাসেন? নাকি তার ভয়ে সেদিন সমাবেশে আসতে অনেকেই বাধ্য হয়েছিলেন? তাছাড়া আমরা পেশি শক্তির রাজনীতি করি না। তাই জোর করে সমাবেশে লোক সমাগম ঘটানোর কোনো প্রবণতাও নেই। আমাদের সমাবেশে এ পর্যন্ত যারা গিয়েছিলেন এবং যারা আসবেন তারা ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করেই আসবেন। কেউ ভয় থেকে আমাদের সমাবেশেও আসেনি, আসবেও না।

৩০ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে