NarayanganjToday

শিরোনাম

আসন পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞরাই পাচ্ছে ঐক্য ফ্রন্টের মনোনয়ন!


আসন পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞরাই পাচ্ছে ঐক্য ফ্রন্টের মনোনয়ন!

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থীতার ব্যাপারে ছক কষছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন দুই জোট। ক্ষমতাসীনরা চাইছে জেলার সব ক’টি আসন নিজেদের দখলে ধরে রাখতে আর বিএনপি চাচ্ছে আসন পুনরুদ্ধার। এর ফলে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জোটই রিস্ক নিতে চাচ্ছে না। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভুল করেছিলো বিএনপি। সেই ভুল তারা জেলার পাঁচটি আসনে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে করতে চাচ্ছে না। যার ফলে দলীয় হাইকমান্ড থেকে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তথা আওয়ালীগের প্রার্থীর ক্ষেত্রে তেমন একটা পরিবর্তন এখানে আসবে না। এমনটি ধরে নিয়েই আগাচ্ছে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট।

সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েচ্ছে নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ (সদর-বন্দর)-৫ আসন দু’টি। এ দুটি আসনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের দুই সন্তান সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তারা দুজনই অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী। ফলে তাদের বিপক্ষে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের রিস্ক নিবে না জোটের পক্ষ থেকে।

এই জোটের নীতি নির্ধারণী ফোরাম নিশ্চিত করবে কারা প্রার্থী হবেন আর কারা হবেন না। তবে, সাবেক এমপি এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদেরকেই নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য। কেননা, পূর্বে যারা আওয়ামী লীগের সাথে লড়াই করে নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারাই এবার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শুরুর দিকে থাকছে।

সূত্রটি বলছে, নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসনে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের বিপক্ষে লড়াই করার মতো শক্তি বা সমর্থ বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে অন্য কারে নেই। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দই হচ্ছে সাবেক সংসদ গিয়াসদ্দিনকে। কেননা, ইতোপূর্বে তিনি একই আসন থেকে শামীম ওসমানের বিপরীতে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এছাড়াও রাজনীতির মাঠে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। ভোটের মাঠেও সমান পারদর্শী। বিগত দিনে তিনি ইইউণিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ নির্বাচন করেও জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও সর্বশেষ তিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও তার ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিলকে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী করিয়ে বের করে নিয়ে আসছেন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ (সদর-বন্দর)-৫ আসনে এবারও প্রার্থী হচ্ছেন সেলিম ওসমান। তিনিই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন বলেই জোট নিশ্চিত হয়েছেন। বলা হচ্ছে, মহাজোট থেকে হোক বা স্বতন্ত্র হোক সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচন করবেনই। জোটের ধারণা, সেলিম ওসমান স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করলেও তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবেন। ফলে তার সাথে কুলিয়ে ওঠার মতো এ মুহূর্তে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তারা জোটের শরীক নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এসএম আকরামকেই অগ্রভাগে রাখছেন। যদিও নাগরিক ঐক্যের কোনো প্রতীক নেই। তারপরও এই আসনটিতে আকরামকেই দেওয়া হতে পারে। এবং তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হতে পারে বলেন সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ)-১ আসনটিকেও বেশ গুরুত্বের সাথে ধরা হচ্ছে। এই আসনে বর্তমান সাংসদ রয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি এবারও প্রার্থী হচ্ছেন। এমনটাই অনেকটা নিশ্চিত। তবে, বর্তমান সময় বিবেচনায় এই আসনে গাজী বিপক্ষে লড়াই করে বের হয়ে আসার মতো শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমূর আলমকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। জোট নেতারা মনে করছেন, তৈমূরকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দিলে গাজী বিপক্ষে ভোটের লড়াই করে বের হয়ে আসতে পারবেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার)-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বেশ শক্তিশালী। এবারও তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর সেই হিসেব মতে এই আসনে বাবুর বিপক্ষে লড়াই করার মতো বুদ্ধি বা সক্ষমতা রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুরের। এমনটাই ধরে নিচ্ছেন জোট নেতৃবৃন্দ। ফলে এই আসনে মোটামুটি ভাবে আঙ্গুরকেই প্রার্থী হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

তবে, নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ)-৩ আসনে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির নেতা লিয়াকত হোসেন খোকাকেই যদি এই আসন থেকে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে সে হিসেবে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীর হিসেব হবে একরকম আর তার পরিবর্তে যদি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতকে প্রার্থী করা হয় তবে, জাতীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী হবে অন্যরকম। ফলে এই আসনটিতে জাতীয় ঐক্যের প্রার্থীতা নিয়ে হিসেবটা কষা হবে আরও পরে।

এদিকে রাজনৈতিব বোদ্ধামহল বলছে, জাতীয় ঐক্য জোট যদি প্রার্থীতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ভুল করে তবে, আসন পুনরুদ্ধার তো পরের কথা, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাটাও হয়ে যাবে অসম্ভব। তাই, আসন পুনরুদ্ধার করাসহ প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরনো এবং ভোটের মাঠে পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে প্রার্থী করা হলে আসন পুনরুদ্ধারের সম্ভবানার দ্বার উন্মেচিত হতে পারে।

১২ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে