NarayanganjToday

শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে চলছে ভানুমতির খেল


নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে চলছে ভানুমতির খেল

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রদান নিয়ে চলছে ভানুমতির খেলা। আর এই খেলায় হেভিওয়েট তিনপ্রার্থীসহ দলটির কান্ডারি হিসেবে পরিচিত চারজনকে বাদ রেখে সর্বমোট ১১ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দলীয় মনোনয়ন। তবে, এ নিয়ে তৃণমূলের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তৃণমূল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এর পূর্বে কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করেছিলো কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এবার বাণিজ্য করেছে তারা মনোনয়ন নিয়ে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-১, ৩ এবং ৪ আসনে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে সর্বোচ্চ।

এদিকে বাণিজ্যের মাধ্যমে যাদেরকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে এবং যাদের হাতে মোনয়ন তুলে দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই একটি সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটটি নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আজাদ এন্ড কোং হিসেবে পরিচিত। সব থেকে চমকপ্রদ কথা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেটের যথাক্রমে নজরুল ইসলাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান, শাহ আলম ক্ষমতাসীন দলের একটি বিশেষ পরিবারের আজ্ঞাবহ। ফলে, এবারের নির্বাচনে জেলার সব কটি আসনই স্বেচ্ছায় ক্ষমতাসীনদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটাই এখন মনে করছে দলটির তৃণমূল।

সূত্র বলছে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহম্মেদ মহানায়কের ভূমিকা পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জে আজাদ এন্ড কোং’কে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে। এছাড়া শাহ আলমের আবদার এবং অর্থের ক্যারিশমাতে হেরে গেছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

এছাড়াও এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমকেও মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বিএনপির কান্ডারি হিসেবে খ্যাত কারাবন্দি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং এটিএম কামালকে।

তাদের বদলে মনোনয়ন চিঠি দেওয়া হয়েছে সাত খুন মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠজন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, ওসমান পরিবারের আজ্ঞাবহ শাহ আলম, গাজী ঘেঁষা কাজী মনির, একটি বহুজাতিক কোম্পানির তাবেদার মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও আজহারুল ইসলাম মান্নান, খন্দকার আবু জাফর, ওসমান পরিবার এবং বিএনপি ভাঙার মূল নায়ক নজরুল ইসলাম আজাদ, সংস্কারপন্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সঙ্কার পন্থী নেতা আবুল কালাম, বদিউজ্জামান খান খসরুর ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন এবং সর্বশেষ সান্তনা পুরস্কার স্বরূপ তৈমূর আলমকেও দেওয়া হয় মনোনয়ন চিঠি।

সূত্রের মতে, ৮ ডিসেম্বর এদের মধ্য থেকে ফাইনাল করা হবে প্রার্থী। তবে কারা টিকবেন সে ছকও কষে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান এবং আজহারুল ইসলাম মান্নানকেই চূড়ান্ত প্রার্থী করা হবে।

এছাড়া নারায়ণঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন চিঠি যাদেরই দেওয়া হয়েছে এটি আইওয়াশ মাত্র। এখানকার এই আসনটি নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরামকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে, শেষতক যদি ত্রুটি বা বিচ্যুতির কারণে আকরাম নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তবে, কমরেড সাঈদ এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

এদিকে, তৃণমূল বলছে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপি যা করেছে তা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার মতো। এটাকে এক ধরণের খেলা বলেই তারা মনে করছেন। তারা বলছেন, এমনটি করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে।

২৭ নভেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে