NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের স্ত্রী-পুত্রকে আপ্যায়ন প্রসঙ্গে যা বললেন গিয়াস উদ্দিন


শামীম ওসমানের স্ত্রী-পুত্রকে আপ্যায়ন প্রসঙ্গে যা বললেন গিয়াস উদ্দিন

যতদিন বেঁচি আছি ততদিন বিএনপি’র রাজনীতির সাথেই থাকবো বলে জানিয়েছেন সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়স উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি বিএনপি’র প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ এই দলটি আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কৃতজ্ঞ।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ টুডে’র সাথে আলাপচারিতায় তিনি ওই কথা বলেন। এর আগে তার বাড়িতে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান এবং সর্বশেষ লিপি ওসমান গিয়েছিলেন। এরপরই চাউর হয়, তিনি তার ছেলেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াচ্ছেন। মূলত এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই কথাগুলো তিনি বলেন।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত আমার ছেলেরা আমার যে রাজনৈতিক আদর্শ রয়েছে সেখানেই তারা সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বাইরে তারা কখনোই যাবে না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কিন্তু খুঁজে পাই না। তবে, একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলেই আমি মনে করছি। পক্ষটি এ নিয়ে কোনো একটি গেম খেলার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি করি। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছিলাম। সর্বশেষ বিএনপি আমাকে মনোনীত করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এ কারণে এই দলটির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারছি, এই দলে আমি এখনও পর্যন্ত আছি এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত এই আদর্শ বুকে লালন করেই চলবো। এখান থেকে কেউ কখনো আমাকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমার সন্তানেরাও এখানেই থাকবে।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, সাংসদের ছেলে আসছিলেন আমাদের বাড়িতে ভোট চাওয়ার জন্য। তাকে আমার ছেলে আপ্যায়ন করিয়েছে। একই ভাবে শুনেছি শামীম ওসমানের স্ত্রী আসছেন। তিনিও ভোট চাইতে এখানে এসেছেন। আমি এর কোনোটির সময়ই বাড়ি ছিলাম না। এ ব্যাপারটিকে অন্যভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। এবং অন্যদেরও বলবো এ নিয়ে ভিন্ন কিছু না ভেবে এবং বিভ্রান্ত না ছড়িয়ে স্বাভাবিক ভাবে দেখুন।

তিনি বলেন, আমি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছি, পাইনি। পরে সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। সেটিও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে বাতিল করা হয়। পরে, আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পাই। এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে, দলের আদর্শ মেনে নিয়ে তা প্রত্যাহার করি। এছাড়া যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশ দিয়েছি। একই সাথে প্রার্থীর সাথে প্রতিদিনই কথা হচ্ছে।

এছাড়াও গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি যদি প্রার্থী হতাম, তাহলে নিশ্চয় আমিও শামীম ওসমান বা তার আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে ভোট চাইতে যেতাম। তখন নিশ্চয় তারা আমাকে তাড়িয়ে দিতেন না, হয়তো তারাও আপ্যায়ন করতেন। একই ভাবে তার স্ত্রী ও সন্তান এসেছেন আমাদের বাড়িতে ভাট চাইতে, সে হিসেবে মেহমান তারা। কোথাও তো মেহমানদের তাড়িয়ে দিতে পারে না। এটাই তো শিষ্টাচার। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কী আছে?   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে