NarayanganjToday

শিরোনাম

গতিহীন না.গঞ্জ বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী?


গতিহীন না.গঞ্জ বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী?

ছন্নছাড়া নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাল ধরবে কে? দ্বিকহীন এই দলটির নেতৃত্বের পরিবর্তন অত্যাবশ্যক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তাদের মতে, সার্বক্ষণিক রাজনীতি করে এমন ব্যক্তিদের হাতেই দলটির দায়িত্ব দেওয়া দরকার। নতুবা অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে যে ভাঙনের মুখে এই দলটি পতিত হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ মেলা ভার।

সূত্র বলছে, একসময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ছিলো অত্যন্ত পরিপক্ব নেতৃত্বে গতিশীল। তখন দলটির নেতৃত্বে ছিলেন আপদমস্তক রাজনীতিক ব্যক্তিরাই। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা পরিবর্তন হয়ে রাজনীতিকদের হাত থেকে নেতৃত্বে চলে যায় ব্যবসায়ীদের কাছে। এর ফলে দলটির অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় যা পুষিয়ে উঠা অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য বলেই মনে করেন অনেকে।

রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, গত ১২ বছরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দলটি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। এর থেকে উত্তরণের একটি মাত্রই পথ খোলা রয়েছে আর তা হলো যোগ্য নেতৃত্ব। একমাত্র নেতৃত্বে বলিষ্ঠতাই পারে একটি দলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি যাদের হাতে রয়েছে তাদের হাতেই যদি থেকে যায় তবে, শেষতক নারায়ণগঞ্জে এই দলটি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে।

এদিকে দলটির তৃণমূলেরও চাওয়া বর্তমান অযোগ্য, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরিয়ে রাজনীতিক ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হোক। তার ভালো নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। যাদের সাথে তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগযোগ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে এখন আমাদের ভাবনা নেই। এ ভাবনা কেন্দ্রের। এখন আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য দেশ এবং গণতন্ত্র। বর্তমান সরকার সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে যে নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছে তা নিয়ে শুধু আমরাই নয় পুরো বিশ্বই এখন চিন্তিত। আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে জাতিকে এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি দেওয়া।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক বর্তমান এই কমিটিকে দুই বছর পর্যন্ত রাখতেই হবে। এর আগে কমিটি ভেঙে নতুন কমিটির করার এখতিয়ার নেই। বর্তমানের যারা নেতৃত্বে রয়েছে তারাই যথেষ্ট তবে, তাদেরকে আরও একটু আন্তুরিক হতে হবে।

এদিকে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি। কথা ছিলো তিন মাসের মধ্যে কমিটি দুটি পূর্ণাঙ্গ করার। কিন্তু আর এক মাস পরেই এই কমিটির দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু এরমধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনো কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ থানা এবং ইউনিয়ণ কমিটিগুলোও গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

সূত্রের মতে, বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ণ কমটিগুলোর কোনোটি ১০ বছর কোনোটি একযুগ আগে করা। দুই বছর মেয়াদী কমিটি হলেও এসব কমিটি বছরের পর বছর ধরে একই ব্যক্তিরা নেতৃত্ব দখল করে রেখেছে। যার ফলে মাঠ পর্যায় থেকে দলটিকে গোছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, এসব কমিটি দিয়ে কতদূর যেতে পারবে বিএনপি?

৬ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে