NarayanganjToday

শিরোনাম

হকার উচ্ছেদে রক্ত ঝরিয়েছেন আইভী, এসপি সফল হতে পারবেন?


হকার উচ্ছেদে রক্ত ঝরিয়েছেন আইভী, এসপি সফল হতে পারবেন?

নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত করার জন্য যারপরনাই চেষ্টা চালিয়েছিলেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু একটি পক্ষের জন্য হকার উচ্ছেদ সাময়িক সময়ের জন্য হলেও ফুটপাত দীর্ঘস্থায়ী দখল অবমুক্ত করা যায় নি।

শহরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এবং মানুষের নির্বিঘœ চলাচলের জন্য হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। নাসিকের জোরালো প্রচেষ্টায় হকার উচ্ছেদও করা হয়। মুক্ত রাখা হয় ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত। তবে এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অপর একটি পক্ষ। তারা হকারদের পক্ষ অবলম্বন করে মাঠে নামে। ফলশ্রুতিতে হকার উচ্ছেদ করা আইভীর মুখোমুখি হয় ওই পক্ষটি।

এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই পক্ষে বিপক্ষে সভা সমাবেশ করে নগরীতে। এতে উত্তেজনা আর তীব্রতর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারিতে মেয়র নিজেই পথে নামেন হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে। অপরদিকে হকারদের পক্ষে থাকা পক্ষটি হকার বহালের ঘোষণা দিয়েও পথে নামে। তাদের এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় শহরজুড়ে। এক পর্যায়ে মেয়র আইভীর উপরও হামলা চালানো হয়। এতে আইভী আহতও হয়েছিলেন।

অভিযোগ ছিলো প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে এবং হকার বহাল রাখতে চাওয়া পক্ষটির পক্ষে প্রশাসনের অবস্থান থাকার কারণে নগরী থেকে হকার উচ্ছেদ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিছু সময়ের জন্য হকারমুক্ত নগরী থাকলেও তা এখন আবার হকারদেরই দখলে চলে গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের সহজাত চলাফেরা বিঘিœত হচ্ছে।

কারো কারো মতে, পুলিশ প্রশাসন যদি সিটি করপোরেশন তথা মেয়রের পক্ষে অবস্থান নিতো তাহলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু এসব ফুটপাত থেকে একটি পক্ষের পকেট ভারি হয়। ফলে এই পক্ষটিই প্রশাসন ম্যানেজ করে পুনরায় হকার বহালের জন্য ওঠেপড়ে লাগে।

এদিকে, দীর্ঘদিন পর হলেও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি তথা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ নিজেই এবার হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, তিনি শেষতক কতটা পারবেন সে নিয়ে রয়েছে দ্বিধা ধন্ধে রয়েছে মানুষ।

তবে, শহরবাসী বলছেন, পুলিশ সুপার হকারমুক্ত ফুটপাত রাখার যে ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দিয়েছেন তা যদি তিনি সত্যি সত্যি করে দেখাতে পারেন তবে, তিনি শহরবাসীর আকণ্ঠ ভালোবাসা পাবেন। সেটি তিনি করার উদ্যোগ নিয়ে শহরবাসীও তার পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে, হকার উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনার এক বছর হতে চললেও সেসময় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা ব্যক্তিদের এখনও পর্যন্ত আইনের আওতায় আনতে পারেনি প্রশাসন। তাই পুলিশ সুপারের এই হকারমুক্ত রাখার ঘোষনাটি কতটা আলোর মুখ দেখবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

১০ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে