NarayanganjToday

শিরোনাম

হকারমুক্ত ফাঁকা ফুটপাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস


হকারমুক্ত ফাঁকা ফুটপাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস
ছবি : মিলন বিশ্বাস হৃদয়

হকারমুক্ত ফুটপাতের কারণে নগরীতেও ফিরে এসেছে শৃঙ্খলা। তৎপরতা বেড়েছে ট্রাফিক পুলিশসহ মোবাইল ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের। ফলশ্রুতিতে কিছুটা অচেনা রূপ দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ এর এই ছোট্ট শহরটিতে। আর এসব কিছুর জন্যই নগরবাসী প্রশংসা কুড়োচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অনেকটা অচেনা মনে হচ্ছিলো এই শহর। কোথায় জটলা নেই। ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। সড়কও অনেকটা ফাঁকা। খুব গোছানো, সুশৃঙ্খলই দেখা গিয়েছে আজকের এই শহর। এমন চিত্র আগে কখনোই দেখা যায়নি এই শহরে। পুলিশ সদস্যরা বেশ তৎপর। যানবাহন পার্কিং করার ব্যাপারে বেশ তৎপরতা চোখে পড়েছে। যানজট একদমই ছিলো না বললেই চলে। তবে, এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের আন্তরিকতায়। এমনটাই বলছিলো নগরবাসী।

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয় ছিলো যানজট ও হকারমুক্ত একটা নগরী। সেটি করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসের সাথে মাঠে নামেন হকারমুক্ত ফুটপাতের লক্ষ্যে। উচ্ছেদও করা হয় ফুটপাত। কিন্তু হকার একদিক থেকে উচ্ছেদ চলে তো আরেকদিক থেকে দখল শুরু হয়। কানামাছি খেলা চলে কয়েকদিন।

পরবর্তীতে হার্ডলাইনে আসে সিটি মেয়র। কোমর বেঁধেই তিনি নামেন ফুটপাত দখল অবমুক্ত করার লক্ষ্যে। এ নিয়ে শুরু হয় টানটান উত্তেজনা। হকর উচ্ছেদ হলেও হকাররা ফুটপাত ছাড়তে নারাজ। তাদের পক্ষে নামেন ক্ষমতাসীন দলের এমপি শামীম ওসমান। মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় সিটি মেয়র ও শামীম ওসমান। ফলশ্রুতিতে একই দলের ছোট বোন আর বড় ভাইয়ের মধ্যে ঘটে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার। হকার উচ্ছেদ আর হকার বসানোর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় সিটি মেয়র পন্থী ও শামীম ওসমান পন্থী লোকজন। এদিন সকাল থেকেই নগরজুড়ে টানটান উত্তেজনা। বেলা যত বাড়ছিলো ততই উত্তেজনার পারদ গলে যাচ্ছিলো। সর্বশেষ বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। আহত হন মেয়র আইভী। কিছুদিন হকারমুক্ত থাকে ফুটপাত। কিন্তু মাস দুই ঘুরতে না ঘুরতেই ফের চীরচেনা ফুটপাতজুড়ে হকারদের রাজত্ব।

এভাবেই চলছিলো ২০১৮ সাল। পুরো ফুটপাতে হকারদের রাজত্ব। নগরবাসী যে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাবেন সে ফুসরতটুকু ছিলো না। ত্যাক্ত বিরক্ত নগরবসী ফুটপাতে হকার ঠেলেই চলফেরা করেছেন দাঁতে দাঁত চেপে। তবে, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের নজরে আসে এই দৃশ্য। তিনি নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পরই এই দৃশ্যটি অবলোকন করেন এবং কথাও দিয়েছিলেন হকারমুক্ত ও যানজটমুক্ত নগরী উপহার দিবেন।

কথা রেখেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। গেল কয়েকদিন ধরে শহরের কোনো ফুটপাতে হকার নেই। যত্রতত্র দুই একটি গাড়ি পার্কিং করা হলেও আগের দৃশ্যপট বদলে গেছে। হয়তো এই ধারা চলতে থাকলে পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরবে শহরে। এমনটাই বলছেন নগরবাসী।

এদিকে, ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত রাখায় বেশ উচ্ছ্বসিত নগরবাসী। তারা এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিচ্ছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে। তাদের মতে, হকারমুক্ত ফুটপাতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মেয়র। তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিরোধীতার কারণে সেটি সম্ভব হয়ে উঠেনি। আর সেটি এবার সম্ভব হচ্ছে পুলিশ সুপারের আন্তরিকতায়। এখন দরকার জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা। তারাও যদি আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসেন তবে, স্থায়ী ভাবে এই ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা সম্ভব।

তবে, উচ্ছেদকৃত হকারদেরও কোনো না কোনো ব্যবস্থা করা পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি এক টেবিলে বসেন এবং হকারদের জন্য বিকল্প কিছু নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে ফুটপাত স্থায়ী ভাবে হকারমুক্ত রাখা সম্ভব। নয়তো ধীরে ধীরে ফুটপাত আবারও দখল হয়ে যাবে, যেতে পারে।

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে