NarayanganjToday

শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এসপি হারুন


নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জবাসীর মাঝে আশীর্বাদ স্বরূপ হয়ে এসেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। এমনটাই মনে করছেন দলমত নির্বিশেষে অনেকেই। যদিও তিনি আসার আগে এবং আসার পরপর অনেকের মাঝেই তাকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে তার বেশ কিছু কাজ মানুষকে ইতিবাচক ভাবতে সাহায্য করছে।

নারায়ণগঞ্জবাসী বলছেন, এই জেলার সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি মাদকদ্রব্য। এখানে মাদকের বিস্তার এতটাই যে যা আগামী দিনের জন্য অশনি সঙ্কেত বলে সবাই মনে করছেন। পাশাপাশি ভূমিদস্যুতাও কম নেই। পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, তিনি মাদক ব্যবসায়ী আর ভূমিদস্যুদের কোনো ধরণের ছাড় দিবেন না। ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান দেখে অনেকেই বলছেন, পুলিশ সুপার কথা রাখতে শুরু করেছেন।

এদিকে শহরের যানজট ও আর ফুটপাতের হকার সমস্যা নিয়ে নগরবাসীর অবস্থা ছিলো ত্রাহি ত্রাহি। পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জানিয়েছিলেন, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখাবেন। যানজটমুক্ত শহর উপহার দিবেন। অনেকাংশে তিনি এতে সফলতাও দেখিয়েছেন।

যে ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখার জন্য মাঠে নেমেছিলো পুলিশ প্রশাসন আর সিটি করপোরেন। এমনকি এ নিয়ে রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলতা আর আসেনি। বর্তমান পুলিশ সুপার কিন্তু এক্ষেত্রে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছেন। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত এখন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো হকারই বসতে পারছে না। সড়কেও যানজট নেই তেমন একটা। আর এ বিষয়টিকে পুলিশ সুপারের সফলতা হিসেবেই উল্লেখ করছেন অনেকেই।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে এসেই সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান দিয়েছিলেন, ‘তিনি যতদিন এখানে থাকবেন ততদিন সাধারণ, নিরাপরাধ কোনো মানুষ হয়রানি হবে না। পুলিশ যদি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে কাউকে হয়রানি করে তবে, এ ব্যাপারে সেই পুলিশ সদস্যকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি তার সেই কথা রাখার চেষ্টা করছেন এবং কিছুটা হলেও সে প্রমাণ নারায়ণগঞ্জবাসীকেও দিচ্ছেন।

সম্প্রতি কাউন্সিলর বাবু তার একটি বাজে আচরণের প্রতিবাদ করেছিলেন পাইকপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন দেওয়ান নামে একজন সাবেক ফুটবলার। আর এই প্রতিবাদের পরেরদিনই পুলিশ ব্যবহার করে এই প্রতিবাদকারীকে মাদক কারবারি বানিয়ে ধরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি। এ ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে আসার পরপরই অভিযুক্ত এসআই নাজমুল ইসলামকে ক্লোজড করেন পুলিশ সুপার। ফলে প্রত্যাশা করা যায়, সালাউদ্দিনের সাথে যে অন্যায় হয়েছে তার প্রাথমিক বিচার তিনি পেয়েছেন এবং তিনি নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হবেন পুলিশ সুপারের উদ্যোগে।

এছাড়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলেন এসপি হারুন অর রশিদ। জানিয়েছিলেন সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক তিনি কাউকে ছাড় দিবেন না। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুকে আটকের মধ্য দিয়ে তিনি সেটি প্রমাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি মাদক কারবারি সালাউদ্দিন বিটুকেও গ্রেফতারে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিলো পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ বলছেন, যে ধারাতে পুলিশ সুপার এগিয়ে যাচ্ছেন তা যদি আগামী ৬ মাসও অব্যাহত থাকে তবে, জেলাবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন। এখান থেকে অনেকাংশেই কমে যাবে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ অন্যান্য অপরাধও। আর পুলিশ সুপার যদি এসব অপরাধ নির্মূল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তবে, জেলাবাসীর হৃদয়ে দীর্ঘদিন তিনি থেকে যাবেন। তারা মনে করেন, এবারের পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আশির্বাদ স্বরূপ হয়ে এসেছেন।

২২ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে