NarayanganjToday

শিরোনাম

সাইফউল্লাহ বাদলের নির্দেশে চাঁদাবাজি! (অডিও)


সাইফউল্লাহ বাদলের নির্দেশে চাঁদাবাজি! (অডিও)

‘পুলিশওতো রাস্তায় দাঁড় করিয়ে চেক করে এটা কী বৈধ? তারাতো ঘুষ খায় এটা বৈধ? এই দেশের কোনো জিনিসটার অনুমতি লাগে?’ এমন দাবি বক্তাবলী গুদারা ঘাট এলাকায় ট্রাকে চাঁদাবাজি করা সাইদুলের। তার দাবি, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদলের নির্দেশেই তারা ট্রাক থেকে চাঁদা উঠাচ্ছে।

এই রুটে প্রতিদিন দেড়শো ট্রাক থেকে এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার নামে প্রতি ট্রাক থেকে ত্রিশ টাকা হারে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার টাকা এবং প্রতিমাসে এ অংক দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা যা বছরে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর এই চাঁদাবাজি প্রকাশ্যে দিবালোকেই চলছে। তবে, এর সাথে আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ণ পাগলা শাখা সম্পৃক্ত নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইটবাহীসহ অন্যান্য ট্রাক থেকে একটি সাদা রঙের স্লিপ দিয়ে ত্রিশ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে, স্লিপের গায়ে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-বি ১৬৬৫, পাগলা বাজার।

এদিকে আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া দাবি করেন, ‘বক্তাবলী গুদারা ঘাটে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের চাঁদা নেওয়া হয় না। ইতোপূর্বে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও সরকার অনুমোদিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জন্য প্রতিটি ট্রাক থেকে বিশ টাকা করে নিতাম। যা সাংগঠনিক বৈধতা ছিলো।’

তিনি জানান, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই স্থানী একদল লোক আমাদের অফিস ভাঙচুর করে, লোকজনদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তারা নিজেরা আমাদের স্লিপের মতো হুবহু ছাপিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে ত্রিশ টাকা করে আদাল করছে। যা কোনো ভাবেই বৈধ নয়।’

অপরদিকে চাঁদা উত্তোলনকারীদের দাবি, ‘তারা কাশিপুর ইউনিয়ণ পরিষদ চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের নির্দেশে এই চাঁদা উত্তোলন করছেন।’

চাঁদা উত্তোলনের কালন সম্পর্কে জানতে চাইলে চাঁদাবাজেরা সাইদুল নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে সাইদুল জানান, ‘এটি ট্রাকচালক ইউনিয়নের নামে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। আগে পলাশের কমিটির লোকজন নিতেন। এখন তাদের কমিটি বাদ। এমপি সাহেব ও চেয়ারম্যান বাদল সাহেবের নির্দেশে এই চাঁদা উঠানো হচ্ছে। তবে, আমাদের কোনো কমিটি নেই।’

ট্রাক ইউনিয়নের নামে এই চাঁদা নেওয়া হলেও এই টাকার একটিও ট্রাক চালক, শ্রমিকদের কল্যানে ব্যয় করা হয় না। সবটাই তারা নিজেদের পকেটে ঢোকাচ্ছে। এই চাঁদাবাজির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে সাইদুল, মামুন, আমজাদ, আক্তার, নাজমুল, মোকলেন, জামান, নূরুল আমিনসহ ১০ জন।

এই চাঁদা উত্তোলন তো বৈধ না, ‘এমন প্রশ্ন করলে সাইদুলের দাবি, রাস্তায় তো গাড়ি থামিয়ে পুলিশ চেক করে, ওইটাওতো বৈধ না। আমাদেরটা অনুমতি নাই, তবে অবৈধ না। আমাদের নতুন কমিটি নাই। আগের কমিটিতো আছে। ওই কমিটিতো বাতিল হয় নাই।’

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাপারটি আমার নলেজে ছিলো না। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এবং খুব শিগগিরই চাঁদাবাজদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে