NarayanganjToday

শিরোনাম

ইউএনও বিনার ‘ওএসডি’র নেপথ্যে কে এই সদশায় কর্মকর্তা?


ইউএনও বিনার ‘ওএসডি’র নেপথ্যে কে এই সদশায় কর্মকর্তা?

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বিনাকে ‘ওএসডি’ করার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও প্রশাসনের বাইরে। বিশেষ করে এই ঘটনার পর বিদায়ী এই ইউএনও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াতে এই তোলপাড় শুরু হয়।

বিনা তার ফেসবুক পোস্টের একটি অংশে লিখেছিলেন, ‘একজন বিশেষ কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে আমাকে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলীর পায়তারা করেই চলেছিল।’ যদিও তিনি এই কর্মকর্তা নাম সেখানে উল্লেখ করেনি। কেবল লিখেছেন ‘তার নাম বলতেও আমার রুচি হচ্ছে না।’

আলোচিত ওই পোস্টের এই অংশটুকু অনেককেই কৌতুহলী করে তোলেন। সবার একই প্রশ্ন, কে এই বিশেষ কর্মকর্তা? কেনই বা বিনাকে তিনি এখান থেকে সরাতে চেয়েছিলেন! বিনাকে সরিয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তা কী এমন স্বার্থ উদ্ধার করতে চেয়েছেন! এই প্রশ্নের উত্তরটুকু এখনও মিলেনি। হোসনে আরা বিনাও এ নিয়ে মুখ খুলেননি। অনেকের মতে, এই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ হলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে। আর সেটি বেরিয়ে আসা উচিৎ নারীর পথচলা সুগম করার জন্য। নয়তো

এদিকে বিনার স্ট্যাটাসটি এতটাই আবেগঘন ছিলো যে, যেই কাউকেই তার বলে যাওয়া বক্তব্যগুলো অত্যন্ত নিবিড় ভাবে স্পর্শ করেছে। যার কারণে স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে আলোচিত এই স্ট্যাটাসটি এখন জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেছে।

তবে, এ নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আশানুরূপ যৌক্তিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। যা বক্তব্য এসেছে সেগুলো অনেকটাই অযৌক্তিক বক্তব্য বলেই মনে করছেন অনেকে।

এরমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিনাকে টেনশনমুক্ত ভাবে বিশ্রামে রাখতে ‘ওএসডি’ করা হয়েছে!”

একই সাথে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন, “বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আমরা দেখেছি। সামনে যেহেতু উপজেলা নির্বাচন, মূলত তার ওপর মানসিক চাপ কমাতে এবং টেনশনমুক্তভাবে বিশ্রামে থাকতে পারেন সে জন্য ‘ওএসডি’ করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই।”

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রাব্বি মিয়া তার সম্মেলন কক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটি ভালো ভাবে ব্যবহার করতেই সদর ইউএনওকে ওএসডি করা হয়েছে।” তার ভাষ্য মতে, “ওএসডি’ সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেগেটিভ। আসলে ‘ওএসডি’ মানে পরবর্তীতে কোথায় পাঠানো যায় সে সময়ের জন্য স্থগিত রাখা।”

সচেতন মহল বলছেন, এখন পর্যন্ত হোসেনা আরা বিনার স্ট্যাটাস পরবর্তীতে যেসব বক্তব্য অফিসিয়ালি পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো যৌক্তিক কোনো বক্তব্য নয়। এর নেপথ্যে কোনো না কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

এদিকে বিনা তার ফেসবুক ওয়ালের ওই পোস্টে লিখেছিলেন, “৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ বিকালে রেগুলার চেকাপ করতে আমি হাজবেন্ডসহ স্কয়ার হাসপাতালে আসি। চেকআপ শেষে সন্ধ্যায় আমার হাসপাতালে অপেক্ষা করছি পরবর্তী পরীক্ষার জন্য। এমন সময় আমার একজন ব্যাচমেট ফোন করে জানায়, আমার সদাশয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ওএসডি করেছে অর্থাৎ আমাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে। আমার অপরাধ হলো, আমি সন্তানসম্ভবা, আর তার চেয়েও বড় কারণ হল সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির।”

তিনি আরও লিখেন, “খবরটা শোনার পর আমি প্রচন্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে পারিনি। উল্লেখ্য, আমি এ্যাজমার রোগী। প্রচন্ড মানসিকচাপে আমার ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে আমার পেটের সন্তানের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় এবং হঠাৎ করেই আমার পেটের বাবু নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডক্টর সেদিন রাতেই সিজার করে বাবু বের করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আমার পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে পরদিন সকালে আমার মাত্র ৩১ সপ্তাহ বয়সি প্রিমেচিউর বেবিকে সিজার করে বের করে ফেলা হয়। এখন সে স্কয়ার হাসপাতালের ঘওঈট তে বেচে থাকার জন্য প্রানপন যুদ্ধ করে যাচ্ছে!”

অপরদিকে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু মাত্র হোসনে আরা বিনাই নয়, অহরহ নারী কর্মচারী, কর্মকর্তা আছেন যারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (পুরুষ) দ্বারা প্রায় সময় নানা ভাবে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নিগৃহত, কোনো না কোনো ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সেসব হয়তো কখনোই প্রকাশ্যে ঠিকঠাক মতো আসে না। সেক্ষেত্রে বিনার ব্যাপরটিও তেমন কিছু হতে পারে। এ ব্যাপারগুলো হেলায় উড়িয়ে না দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। অন্যথায় নারীদের অগ্রগামী করার যে প্রয়াস সরকার নিয়েছে তা যথাযথভাবে প্রস্ফুটিত হবে না নিম্নরুচির পুরুষকর্তাদের কারণে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে