NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে পুলিশের থেকেও অধিক দাপুটে চার সোর্সের অঢেল সম্পদ!


না.গঞ্জে পুলিশের থেকেও অধিক দাপুটে চার সোর্সের অঢেল সম্পদ!

তথ্য সংগ্রহে সোর্স ব্যবহার করে থাকে পুলিশ কিন্তু এই সোর্সরা নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে পুলিশকে ব্যবহার করে অঢেল ধনসম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। বিনিময়ে সাধারণ বহু মানুষেরা হচ্ছেন এসব সোর্সদের চক্করে সীমাহীন হয়রানি।

কখনো কখনো আবার পুলিশকেও বিতর্ক করতে জুড়ি নেই সোর্সদের। এরা থানা পুলিশ অথবা ডিবি পুলিশের নামে মাসোয়ারা উত্তোলন করে কোটিপতি, অঢেল ধনসম্পদ আর গাড়ি বাড়ির মালিকও হয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে বিতর্কিত হচ্ছে পুলিশ।

সম্প্রতি এই সোর্সদের চক্করে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। হয়েছে ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা। ফতুল্লায় চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত তেল চোর ইকবাল চৌধুরী আদালতে মামলা করেন ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীর হোসেন ও এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। একই মামলায় আসামী করা হয়েছে বিতর্কিত দুই সোর্স আনোয়ার হোসেন ও নুরু মিয়াকে। অপরদিকে চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে আরেক বিতর্কিত সোর্স বাবুরাইলের মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বিশুকেও। এরা প্রত্যেকেই

জানা গেছে, পুলিশ নয় তারপরও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে যত্রতত্র অপকর্ম করে বেড়িয়েছিলো আনোয়ার হোসেন। মূলত ডিবি পুলিশের সোর্স এই আনোয়ার নিজেকে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে চালাতো নানা অপকর্ম। এরমধ্যে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলো সে। এমনকি ফতুল্লায় সোর্স শাওন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্তও ছিলো এই আনোয়ার।

তবে, টাকা আর পুলিশের সাথে সখ্যতায় শাওন হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলামের হাতে পাকড়াও হয়েছিলো সে। সেবার ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাইকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। এরপরই তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল।

নূরু মিয়া ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। প্রথমে ফতুল্লা থানা পরে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের গাড়ি চালক হিসেবে তিনি সর্বত্র পরিচিত হন। কনস্টেবল থাকা অবস্থায় থানা ও ডিবি কার্যালয়ের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সে পালন করে। পরবর্তীতে চাকরি থেকে রিটায়ার্ড করলেও ক্যাশিয়ারের কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না।

দীর্ঘদিন তিনিই শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন অবৈধ কারবার থেকে ডিবি পুলিশের নামে মাসোয়ারা উত্তোলন করতেন। তার সব থেকে বেশি সখ্যতা গড়ে উছে ফতুল্লার চোরাই তের ব্যবসায়ীদের সাথে। মূলত পুলিশ ম্যানেজ করার দায়িত্বটাই ছিলো তার। বিনিময়ে পুলিশের জন্য নির্ধারিত মাসোয়ারাও সে তুলতেন। এরমধ্যে তোলা উঠাতে গিয়ে টাকাসহ গ্রেফতারও হয়।

তবে, মজার ব্যাপার হচ্ছে কনস্টেবল থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তীতে ‘ডিবি’র ক্যাশিয়ার’ এর দায়িত্ব পালন করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। একধিক গাড়ির মালিকও এই নূরু মিয়া। হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সি চালক মারিক সমিতির সভাপতি। এই স্ট্যান্ডেই তার রয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গাড়ি। রূপসী হাউজিংয়ে করেছেন বাড়ি। গ্রামে কিনেছে বিপুল পরিমাণের জমি।

মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বিশু ডিবি পুলিশের সোর্স তিনি। গত দুই তিন বছর যাবৎ এই সংস্থার ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও পালন করছিলেন তিনি। কথিত রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ফেনসিডিল ইয়াবাও সাপ্লাই দিয়ে থাকেন এই বিশু। সম্প্রতি চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ১৬ নম্বর আসামী তিনি।

সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের সোর্স কাম ক্যাশিয়ার মোফাজ্জল হোসেন এই পথে অঢেল ধন সম্পদের মালিক বনেছেন। এর মধ্যে বাবুরাইল এলাকায় ৫ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি এবং ফতুল্লার রুসেন হাউজিংয়ে ৭ শতাংশ জায়গাও করেছেন। তেল চোর থেকে শুরু করে সব অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে ঘুরে ঘুরে ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাসোয়ারা উত্তোলন করতেন।

তবে, এই মোফাজ্জল হোসেন ওরফে বিশুর সাথে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব ছিলো ডিবির সাবেক ক্যাশিয়ার নুরু মিয়ার। কেননা, বিশুর কারণে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নুরু মিয়ার হাতছাড়া হয়। ফলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছিলো। আর এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোফাজ্জল হোসেন বিশুর নামও যুক্ত করা হয়।

অপরদিকে আশরাফ ওরফে আসাদ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ডিবির সোর্স হিসেবে পরিচিত। সে মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে। মাদক ব্যবসার অভিযোগে তাকে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলো।

অভিযোগ আছে, সোর্স আশরাফের যন্ত্রণা অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ডিবি পুলিশকে দিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতোপূর্বে অসংখ্য নীরিহ মানুষ তার দ্বারা হয়রানির শিকারও হয়েছিলো। সে নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয় তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি কেউ।

সূত্র বলছে, সোর্স আশরাফ ওরফে আসাদ নির্দিষ্ট কোনো ধরণের চাকরি বা ব্যবসা না করলেও মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। একই সাথে গ্রেফতার বাণিজ্যের সাথেও সম্পৃক্ত। আর এসবের মাধ্যমে অঢেল ধন সম্পদ করেছে। এরমধ্যে গাড়ি, বাড়ি ও জমি কিনেছেন তিনি। এমনকি অর্থের দাপটে একাধিক বিয়েও করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, এই সোর্স পরিচয়ে যারা ঘুরে বেড়ান তাদের দাপট পুলিশের সদস্যদের থেকেও বেশি। তাছাড়া প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা, এই সোর্সরা রাতারাতি এতো অর্থবিত্তের মালিক হন কীভাবে, কোথা থেকে আসে তাদের এই টাকা?

১৪ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে