NarayanganjToday

শিরোনাম

জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ তালিকায় বাড়ছে ক্ষোভ


জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ তালিকায় বাড়ছে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম তালিকা কাউকে না জানিয়েই কেন্দ্রে প্রেরণ করায় দলটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফুঁসতে শুরু করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

২৬ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির এই আংশিক কমিটির অন্য কোনো সদস্য এবং জেলায় কেন্দ্রী পর্যায়ে রাজনীতিতে যুক্ত থাকা নির্বাহী সদস্যদেরও না জানিয়ে অত্যন্ত গোপনে ১৯৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম তালিকা জমা দেন কাজী মনির ও মামুন মাহমুদ।

কমিটির নাম তালিকার বিষয়টি তারেক রহমানের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকাশ হলে উপস্থিত কয়েকজন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৩ সদস্য থেকে ২০১ সদস্যে নাম তালিকা উন্নতি করে তা পুনরায় জমা দেওয়া হয়। তবে, সেটিও জানে না এই আংশিক কমিটির ২০ জন সদস্য। এ নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যদিও এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ নারায়ণগঞ্জ টুডের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করেছেন এবং অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই বলেন, ‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ হয় নাই বা আমার কাছে আসে নাই। আপনারা পেয়েছেন আপনারা লেখেন।’

এদিকে কেউ কেউ তো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিকে কাজী মনির, মামুনদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি তাই তারা যা ইচ্ছে তাই করছে। অন্য কাউকেও কিছু জানানোর দরকার মনে করছে না।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী বলেন, দলটির এখন দুঃসময় চলছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দলের মধ্যে বিভাজন চলছে। সেই বিভাজন কাটিয়ে একত্রিত বসা দরকার। সবাইর সাথে আলোচনা করেই কমিটি গঠন করতে পারলে বিভাজন কিছুটা হলেও দূর হতো।

আংশিক জেলা বিএনপির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটিতে গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে থাকলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় না করেই নিজেদের ইচ্ছে মত পুর্ণাঙ্গ কমিটির নাম তালিকা তৈরি করেছেন। যা সাংগঠনিক নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এটা দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার আরেকটি কৌশল হিসেবে ধরা যায়। পাশাপাশি পদ পদবি বিক্রি করে পকেট ভারী করার মত অবস্থাকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন না তারা। যার কারণে আংশিক কমিটির ২৬ জনের মধ্যে দুই তিনজন ছাড়া কেউ এই তালিকার কথাটি জানেই না।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হাই রাজু পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতেন না এবং তাকে কিছুই জানানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

রাজু বলেন, আমি গণমাধ্যমের খবরে দেখেছি তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য নাম তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখানে কারা আছেন, কাদেরকে রাখা হলো সে নিয়ে আমাদের সাথে কোনো ধরণের আলোচনা করা হয়নি। এমনকি কমিটি কবে জমা দিয়েছে সেটিও জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, আমি যত বার আলোচনায় বসেছি ততবার তাদেরকে বলেছি থানা পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছে তাদের সাথে বসে কমিটির বিষয় আলোচনা করার জন্য কিন্তু তারা আমার কথা রাখেনি। পুর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আরও কেউ জানে কি না সেটাও আমার জানা নেই। তবে বর্তমান কমিটির অনেকেই এ বিষয় অবগত না সেটা আমি শুনেছি।

ক্ষোভের সাথে রাজু বলেন, এখন বিএনপি’র জন্য দুঃসময় এই পরিস্থিতিতে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি ত্যাগ করতে হবে। কিন্ত আমরা কি করি এক গ্রুপ ক্ষমতা পেলে আরেক গ্রুপকে বাদ দিয়ে কাজ কর্ িযারফল সূতিতে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। আমরা সাংগঠনিক ভাবে নিয়ম মেনে কমিটি না করায় এই ধরনের প্রশ্ন উঠছে।  আর যে কমিটি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে করা হয় না সেটা সবার কাছেই অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

তবে আব্দুল জাই রাজুর বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাফাই গেয়ে কমিটি জমা দিবে বিষয়টি জানতে জানিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল বলেন, এই ধরনের অভিযোগ করার মত পরিস্থিতি এখন নাই। আমাদের কমিটি আরও আগে জমা দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমরা সেটা করতে পারেনি। সে কারণেই তড়িগড়ি হয়ে গেছে। একটা বিষয় সব সময়ই যে তারা জানাবে তা নয় কিন্তু আমি যেহেতু দায়িত্বে আছি আমারও খোঁজ খবর নেয়া দরকার আছে।

তিনি বলেন, যে ১১ জন নির্বাহী কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন নিঃসন্দেহে তারা আমাদের অভিভাবক তাদের সাথেও অনেক মিটিং করতে হয়। এখন আমি সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছি বলে এটা চিন্তা করলে ভুল হবে যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমার সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আমাদের আরও ৫ টা ইউনিট আছে এর পরেও নিবার্হী কমিটির নেতাদের সাথে বসতে হয়। এতো কিছুর পরও তারা আমার সাথে যোগাযোগ করবে এই চিন্তা না করে নিজ দায়িত্ব থেকে আমাকেই যোগাযোগ করতে হবে। কারন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সকলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে কমিটি জমা দেওয়া বিষয়টি জানানো হয়নি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপি’র আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

তিনি বলেন, জেলা বিএনপি’র তালিকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমার বিশ্বাস, আমার মতো আরও অনেককেই এ ব্যাপারে জানানো হয়নি। আর এটি পুরোপুরি অনিয়মতান্ত্রিক, অসাংগঠনিক কার্যক্রম। ব্যাপারটি কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখার আহ্বান করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি স্থানীয় মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম অনেক নেতাই বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা কমিটির তালিকা জমা দিয়েছেন।  তিনি আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার যদি নির্দেশ এমন থাকে যে কাউকে কিছু বলার দরকার নাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে পুর্নাঙ্গ তালিকা করে জমা দিয়ে দেন। তাহলে আমার আর কিছু বলার নাই। আর যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে আমি এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মন-মানসিকতা রাখি এবং করবো।

জেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার বলেন, আমরা কেউ জানতাম না যে জেলা বিএনপি’র কমিটি জমা দেয়া হয়েছে। যখন সিনিয়র ভাইস-চেয়াম্যান তারেক রহমানের সাথে আমাদের ভিডিও কনফারেন্সে কথা হচ্ছিলো তখন তিনি প্রশ্ন করেন, সব সময় কমিটি জমা দেয়া হয় ১৫১ বা ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট কিন্তু আপনারা ১৯৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি জমা দিয়েছেন কেন? তখন আমি ও আমার সাথে আরও ২/১ জন জেলা বিএনপি’র নেতারা জানলাম কমিটির তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। এর আগে কিছুই জানতাম না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে তাদের ইচ্ছে মত কমিটির তালিকা তৈরি করেছে।

২৪ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে