NarayanganjToday

শিরোনাম

ব্যাকফুটে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান!


ব্যাকফুটে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান!
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন হার্ড লাইনে থাকায় অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেছেন সাংসদ শামীম ওসমান ও তার অনুসারিরা, এমনটাই মনে করছেন নগরবাসী। কারো কারো মতে, প্রশাসনের এমন অবস্থান এখন শামীম ওসমানের অস্তিত্ব রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র বলছে, দেশের তিন‘শ সাংসদের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন হচ্ছেন শামীম ওসমান। যনি সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখলে তা অন্য সাংসদরাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে থাকে। এমনকি সংসদে তার বক্তব্যের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কখনো কখনো অন্যান্য সাংসদরাও জোড়ালো আবেদন করে থাকেন। কিন্তু সেই প্রভাবশালী সাংসদ বর্তমানে বেশ কোণঠাসা অবস্থাতেই রয়েছেন তার নিজ নির্বাচনী এলাকাতে।

বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন সাংসদ অনুসারিদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। একের পর এক তার অনুসারী নেতাকর্মীদেরকে আটক করছেন। মামলা এবং জিডিও হয়েছে তার অনুগামিদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত শামীম অনুসারি অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছে।

সর্বশেষ সাংসদ শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহম্মেদ টিটু ইস্যুটি সামনে চলে আসে। সম্প্রতি মেরী এন্ডারসনে পুলিশী অভিযানে ৬৮ জন গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধার হয়। পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে তানভীর আহম্মেদ টিটুর সহযোগিতায় এই মাদক বিক্রি হয়ে থাকে। যদিও সাংসদ শ্যালক এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন মেরী এন্ডারসনের সাথে তার কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। এসব ষড়যন্ত্র।

এদিকে সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রশাসনের বিরুদ্ধে জোড়ালো অবস্থান নিয়ে শহর অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মঙ্গলবার। দিয়েছিলেন ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম। কিন্তু বুধবারই তিনি সেখান থেকে পিছু হটে অবস্থান পরিবর্তন করেন। প্রশাসনের ভয়ে এই পিছু হটে আসা বলে মনে করেন অনেকে।

এছাড়াও প্রশাসনের এমন হার্ডলাইনের কারণে সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। যদিও তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন। এরমধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধ ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি দায়েরের একদিন পরই তিনি দেশত্যাগ করেছেন। যদিও এই নেতার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে তিনি তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছেন।

কারো কারো মতে, সাংসদ শামীম ওসমান বহুমুখি চাপের মাঝে বর্তমান দিনগুলি অতিবাহিত করছেন। নানা ভাবেই প্রভাবশালী এই সাংসদকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। তাই তার অনুগামী নেতাকর্মীরাই প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণিত হয়েছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বারবারই সংবাদ সম্মেলনে বা যে কোনো কনফারেন্সে বলছেন, ‘যত বড় প্রভাবশালীই হোক কাউকে ছাড় দেব না’। তার এমন ইংগীতটি শামীম ওসমানকেই করা বলে অনেকে মনে করেন। যদিও তিনি কারো নাম এখনও পর্যন্ত বলেননি।

তবে, সাংসদ অনুসারি অনেকেই বলছেন, শামীম ওসমান হঠাৎ এসে নেতা হয়নি। তিনি অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এখান পর্যন্ত এসেছেন। ফলে, তাকে সহসা ধাক্কা দিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি হিমালয়ের মতো। ঝড় সাময়িক আঘাত হানতে পারে কিন্তু তার অবস্থান থেকে তাকে টলাতে পারেন না।

অপরদিকে খোদ শামীম ওসমানও তোলার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইংগীত করেছিলেন যে, ‘আজকাল প্রশাসনের কিছু কিছু লোক নিজেকে এমপি মন্ত্রীর থেকেও বেশি ক্ষমতাধর মনে করছেন।’ যদিও তিনি কারো নাম এখানে উল্লেখ করেননি। কিন্তু অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সাংসদ এই কথাটি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকেই ইংগীত করেছিলেন।

মূলত এর পর থেকেই ব্যাপক ভাবে হার্ডলাইনে আসে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন। এরমধ্যে সাংসদ শামীম ওসমান জনসমাবেশ ডাকেন। সেসময় ধারণা করা হচ্ছিলো পুলিশ প্রশাসনকে তার শক্তি প্রদর্শনের জন্যই ওই সমাবেশ ডাকা হয়েছিলো। যদিও সেই জনসমাবেশে সাংসদ এসপির প্রশংসা করে বক্তব্য রেখেছিলেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা শামীম ওসমান অনুসারিরা ছিলেন সব থেকে বেশি দাপুটে। কিন্তু বর্তমানে সব থেকে বেশিই আতঙ্কে রয়েছে তার অনুগামি নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কাইল্লা গেসু, আজমত। গা ঢাকা দিয়েছে মীর হোসেন মীরু। তার আত্মীয় বিকিও রয়েছে আত্মগোপনে। অথচ কোনো এক সময়ে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এভাবে মামলা দায়েরের সাহসও কেউ দেখাতে পারেনি।

তাই অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতি একটাই প্রমাণ করছে যে, সাংসদ শামীম ওসমানের সময় ফুরিয়ে আসছে। কমতে শুরু করেছে এই প্রভাবশালী সাংসদের প্রভাব। আবার কারো কারো মতে, বিষয়টি সাময়িক। কিংবা সাংসদ শামীম ওসমান নিজেই চাইছেন না তার বলয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিরা থাকুক। তাদেরকে তিনি নিজেও প্রশ্রয় দিতে চাইছেন না।

৪ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে