NarayanganjToday

শিরোনাম

ভীত নন পুলিশ সুপার, ছাড় দিবেন না কাউকে!


ভীত নন পুলিশ সুপার, ছাড় দিবেন না কাউকে!

শামীম ওসমানের হুঁশিয়ারি এবং তার অনুসারি নেতাকর্মীদের ঝাঁঝাঁলো বক্তব্যে ভীত নন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার। বরং তিনি তার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। একই সাথে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যে যত বড় প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

ইসদাইর বাংলা ভবনে সাংসদ শামীম ওসমানের জরুরী কর্মী সভায় সাংসদ এসপিকে ইংগীত করে যেসব বক্তব্য রেখেছিলেন তাতে এসপি ভরকে গেছেন (?) এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু পুলিশ সুপার তার অবস্থানে পূর্বের মতই অনড় রয়েছেন। এমনটাই ইংগীত পাওয়া গেছে এসপি হারুন অর রশীদের করা এক মন্ত্যবে।

একটি গণমাধ্যমে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ সাংসদ শামীম ওসমানের সভার পর দেওয়া এক মন্তব্যে বলেছেন, আমাদের পুলিশের চাকরিটা এমন যে, সবাইকে খুশি করা সম্ভব হয় না। সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চললে কেউ না কেউ এর শিকার হয়। আর তখনই এক পক্ষ অখুশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের জরুরী সভাতে এসপি হারুন অর রশীদকে ‘ঘুষখোর’ অখ্যায়িত করে তার প্রত্যাহার চেয়ে স্লোগান দিয়েছিলো সাংসদের অনুসারিরা। তবে, সেসব স্লোগানকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না জেলা পুলিশ সুপার।

তিনি জানিয়েছেন, এমন কিছু হয়েছিলো কিনা আমার জানা নেই। তাছাড়া স্লোগানতো কত কিছুতেই হতে পারে। এ ব্যাপারটি জানা নেই।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ প্রশাসন যদি সদিচ্ছা পোষণ করেন তাহলে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজ নির্মূল কোনো ব্যাপারই না। যার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ হতে পারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তারা মনে করেন, তিনি যেভাবে একের পর এক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন, সেভাবে যদি চালিয়ে যেতে পারেন এই নারায়ণগঞ্জ সত্যিকার অর্থে শান্তির শহর হয়ে উঠবে।

এদিকে গণমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদরে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা মনে করি- দলের হাই কমান্ড মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকার জন্য বলছে। প্রশাসনও সেই ভাবে কাজ করছে। এখন এটার মধ্যে দলীয় কিছু লোকজন পড়ে গেছে। এজন্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বক্তৃতা করা আমরা সমর্থন করি না। আমাদের এখানে বলার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি দেখবে এতে দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে কী-না? তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।’

অপরদিকে নগরবাসীর মতে, পুলিশ সুপার এখানে যোগদান করার পর তার কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে। এরমধ্যে হকারমুক্ত ফুটপাত, যনজট নিরসনে ভূমিকা, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ ইত্যাদি। এছাড়াও বেশ কিছু প্রশংসনীয় অভিযানও তিনি চালিয়েছেন। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে, অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর দাবি অনেকেরই।

তারা মনে করেন, এখনকার অভিযানটি একমুখী রয়েছে। এই অভিযানে এক পক্ষের অসৎ ব্যক্তিরই পাকড়াও হচ্ছে। ফলে অপর পক্ষের অসৎ ব্যক্তিদের দিকেও নজর দেওয়া জরুরী। কেননা, যে পক্ষ এখন পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে সে পক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ খারপ লোক থাকলেও ২০ ভাগ খারাপ লোক কিন্তু অপর পক্ষের মধ্যেও রয়েছে। ফলে তাদের দিকেও নজর দেওয়া উচিৎ। সর্বপোরি নারায়ণগঞ্জকে শান্তির শহর প্রতিষ্ঠার জন্য এসপি হারুনের মতো তেজদীপ্ত অফিসারই প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।

৮ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে