NarayanganjToday

শিরোনাম

২০১ সদস্যের মধ্যে খোরশেদ বিরোধী দেড়‘শ : প্রথম সভাতেই নেই ১৬৫


২০১ সদস্যের মধ্যে খোরশেদ বিরোধী দেড়‘শ : প্রথম সভাতেই নেই ১৬৫

প্রথম সাংগঠনিক সভায় সুপার ফ্লপ করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভা। রোববার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় তার নিজ বাস ভবনে সাংগঠনিক সভার কমিটির ২০১ জনকে চিঠি দিয়ে উপস্থিত থাকার আহবান করলেও তাতে সাড়া দেননি অনেকেই। পুরো আলোচনা সভায় কমিটি ও এর বাইরের কর্মী মিলে উপস্থিত ছিলেন ৮৫ জন। এর মধ্যে ২০১ সদস্য কমিটির ছিলেন মাত্র ৩৬ জন।

কমিটিতে উপস্থিত না হাওয়ার কারণে সম্পর্কে অনেকেই দাবি করেছেন, বিএনপির রাজনীতি করে লাভবান খোরশেদ টাকার বিনিময় কমিটি বিক্রি করে। আর যাই হউক তার মত লোভী নেতার কাছে দল বা সংগঠন কখনই নিরাপদ না। কারন টাকার বিনিময় তারা অযোগ্য লোকদের কাছে কমিটির দায়িত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া পরিবারতন্ত্র ও খোরশেদের আর্শিবাদপুষ্টদের কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এমন কিছু লোককে কমিটিতে রাখা হয়েছে যারা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আর তাদের তালিকায় এমন কিছু নেতা আছে যারা এবারের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে।

মনোয়ার হোসেন শোখন বলেন, ২০১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর যুবদলের পুর্নাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে সাংগঠনিক নিয়মনীতি না মেনে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে তারা কমিটি সাজিয়েছে সেখানে স্থান পেয়েছে পরিবার এবং খোরশেদের নিজেস্ব বলয়ের লোক। আর তাদের তালিকায় রয়েছে ফুটপাতের হকাররাও যাদেরকে গুরুত্বপুর্ন পদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। অথচ দুঃখ লাগে তাদের চেয়ে অনেক যোগ্য নেতা আছেন যারা খোরশেদের আগে রাজনীতিতে এসেছে। হকার হয়ে পদ পায় কারন তারা খোরশেদের অনুসারী আর যারা পদ পাননি তারা বিএনপির অনুসারী। যেখানে নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে নিজেদের অযোগ্য লোকদের স্থান দেয় কারো মতামত না নিয়ে সেখানে এক সাথে কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা সেখানে উপস্থিত হইনি।অ

সানোয়ার হোসেন বলেন, মহানগর যুবদলের প্রথম সাংগঠনিক সভা হলো যেখানে বন্দরের ৫/৬ জন সহ-সভাপতি ছিলেন একজন বাদে আর কেউ উপস্থিত হননি। আমি তাদের সবচেয়ে কাছের লোক ছিলাম তাদের সাংগঠনিক হীন কার্যক্রমের কারনে আমি সড়ে এসেছি। মহানগর যুবদলের যে কমিটি হয়েছে সেটা সাংগঠনিক নিয়ম মেনে হয়নি। আর যেখানে সাংগঠনিক নিয়মনীতির বাহিরে কাজ হয় সেখানে আমরা থাকবো না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া সুপার ৫ এর আর কেউ জানে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি আগামী ৭ দিনের মধ্যে হয়তোবা আপনারা জানতে পাবেন।

মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, সাংগঠনিক সভা আমি জানি না চিঠিও পাইনি আর যেভাবে মহানগর যুবদলের কমিটি হয়েছে সেটাতে আমরা খুশি না। কারন আমরা চেয়েছিলাম মহানগরের আওতাধীন প্রতিটি থানা কমিটি থেকে ৫/৬ জন সিনিয়র নেতাদের কমিটিতে রাখা হউক। কারন আমরা বিরোধী দল তৃনমূলকে মূল্যায়ন করতে হবে। কিন্তু সে তৃনমূলকে মূল্যায়ন না করে উল্টো খারাপ আচরন করে। এছাড়াও বন্দর উপজেলা যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি দিয়েছে যেটা আমরা জানি না। এটা সাংগঠনিক বিষয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন  করা হয়েছে। আমাদের কোনো ভাই নাই আর আমরা এমপি-মন্ত্রী হতে আসি নাই। দেশকে ভালবেসে শহীদ জিয়ার আর্দশে অনুপ্রানিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছি।

আহম্মেদ আলী বলেন, স্বৈরাতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে রাজনীতি চলে না। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, দলের এখন দুঃসময়। এই সময় কমিটিতে পরিবার তান্ত্রিক সংগঠন না করে অবশ্যই দলের স্বার্থে দেশের স্বার্থে গঠন মূলক সংগঠন করা উচিৎ। তাই মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করবো। কারন সংগঠনটিকে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে তা লজ্জাজনক অবস্থ্।া এছাড়াও সে এমন সব লোকদেরকে কমিটিতে রাখছে যারা বর্তমান দেশে নাই আবার আওয়ামী লীগে যোগদান করছে সেই সকল লোকদেরকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। যা দুঃখজনক তাই আমাদের এই বিদ্রোহ।

নাজমুল হক রানা বলেন, ওরা কমিটি দিছে নিজের ইচ্ছা মত। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদেরকে কমিটিতে রাখছে। আর সাংগঠনিক কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না সেই সকল কার্যক্রম করে কমিটি আনছে। আমরা জানতামও না কিভাবে কমিটি সাজাইছে। এখন কিভাবে সেই অসাংগঠনিক কমিটিতে আমরা কাজ করবো। শুধু আমরা নই কমিটির প্রায় ৮০/ সদস্য তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অচিরেই এটার ফলা ফল আপনারা পাবেন।

সাহেব উল্লাহ রোমান বলেন, হ্যা আমি দেখেছি কেউ যদি এই কমিটির বিরুদ্ধে জোড়ালো ভাবে প্রতিবাদ করে তাহলে আমি তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করবো। কারন বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটিতে সিনিয়রদের যেভাবে রাখা দরকার ছিলো সেটা না হয়ে ব্যক্তি কেন্দ্রীক কমিটি হয়েছে। তাই আমি এটার বিরোধীতা করছি।

সাগর প্রধান বলেন, বিগত দিনে যারা আন্দোলন সংগ্রামে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছ্ েপ্রকৃত পক্ষে তাদেরকে যথাপোযুক্ত স্থানে রাখা হয় নাই। আমারা চেয়েছিলাম দলের প্রয়োজনে সবাইকে এই কমিটিতে অর্šÍভুক্ত করতে কিন্তু সে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছে কালাম, সাখাওয়াত গ্রুপের কাউকে কমিটিতে রাখবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি করে তৈমূর খোরশেদ লাভবান, কারন দল ক্ষমতায় থাকাকালিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাকে কোথায় রেখেছিলেন তা সবাই জানি। অন্য দলে থাকলে এটা কখনই সম্ভব হতো না। আর খোরশেদ রাজনীতিতে আমাদের পরে এসেছে অথচ ভাইয়ের কারনে সে সভাপতি। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু যখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি নেন। তখন খোরশেদকে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছে, আর আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য নজরুল ইসলাম আজাদ ৭লক্ষ টাকা দিয়েছিলো কিন্তু খোরশেদ সেটা খেয়ে ফেলেছে। সে সভাপতি হয়ে লাভবান হয়েছে এটা ঠিক কিন্তু মাঠে আর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ধরাশায়ি হয়েছে। আমরা বিএনপি করি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আর্দশে অনুপ্রানীত হয়ে। আর খোরশেদের সাথে করতে হবে পরিবারতন্ত্রের সংগঠন, যেটা আমরা করতে পারবো না।

৮ এপ্রিল,২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে