NarayanganjToday

শিরোনাম

এমপি পুত্রদের হাতেই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি


এমপি পুত্রদের হাতেই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি

এক প্রজন্মের হাত ধরেই আসে আরেক প্রজন্ম। পূর্ববর্তী প্রজন্মের দেখানো পথে হেঁটে চলে নতুন প্রজন্ম। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তেমনি আলোচিত চার নেতার উত্তরসূরিরা অপেক্ষামান পূর্বসূরিদের হাল ধরতে। পিতাদের দেখানো পথেই এই অঞ্চলের রাজনীতিতে আবির্ভূত হবেন তারা। সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই দেখা মিলবে নতুন এই প্রজন্মের লড়াই।

এরা হলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ছেলে পাপ্পা গাজী, সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, সাবেক সাংসদ অ্যাড. আবুল কালামের ছেলে আবুল কায়সার আশা এবং সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ কায়সার।

গোলাম দস্তগীর গাজী একজন সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশর সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ)-১ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি এই আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত এমপি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার পরিবর্তে প্রস্তুত হচ্ছেন তার ছেলে পাপ্পা গাজী। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত পাপ্পা গাজী বর্তমানে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হিসেবে।

শামীম ওসমান একজন আপদমস্তক রাজনীতিক। ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সেঝ সন্তান তিনি। বর্তমানের তিনি নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসনের সংসদ সদস্য। একই আসনে তিনি এর আগে আরও দুই বারের নির্বাচিত সাংসদ। আগামী নির্বাচনে প্রভাবশালী এই সাংসদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে এমন ঘোষণাও দিয়েছেন।

তবে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার উত্তরসূরি অয়ন ওসমান বাবার স্থলে নির্বাচন করতে পারেন। সেভাবেই তিনি প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। অয়ন ওসমান সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনো পদ বহন না করলেও জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে নেপথ্যে থেকে লিড দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তার রয়েছে যথেষ্ট কদর।

অ্যাড. আবুল কালাম আপদমস্তক রাজনীতিক। পৈত্রিক সূত্রে তিনি রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ (বন্দর-সদর)-৫ আসেনর সাবেক সংসদ সদস্য। একই আসনে তিনি ৫ বার নির্বাচন করে তিনবার নির্বাচিত হন। আবুল কালামের পিতা হাজী জালাল উদ্দিনও ছিলেন একই আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকে এই দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তার দেখানো পথেই রাজনীতিতে আসেন আবুল কালাম। বর্তমানের তিনি বয়সের ভারে ন্যূব্জ। ফলে আগামী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। তার পরিবর্তিতে তারই ছেলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা নির্বাচন করতে পারেন।

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন একজন মুক্তিযোদ্ধা। আপদমস্তক এই রাজনীতিক ছাত্র থাকা অবস্থায় নিজেরে যোগ্যতায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত এক নামে রূপান্তরিত হন। প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক হিসেবেই তার কদর সর্বত্র। ইউনিয়ণ পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ এবং সর্বশেষ সংসদেও প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি। তার তিন ছেলেন মধ্যে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। অত্যন্ত সফলতার সাথেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে, গোলাম মুহাম্মদ সাদরিলের সংসদ নির্বাচন করার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও তার ছোট ভাই গোলাম মুহাম্মদ কায়সার আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার পিতা গিয়াসউদ্দিনও তাকে সেভাবে গড়ে তুলছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে কায়সার বেশ জনপ্রিয়। তার রয়েছে শক্তিশালী একটি বলয়। আর এই বলয়ের সকলেই বয়সে তরুণ এবং ছাত্রদল ও যুবদলের সাথে সম্পৃক্ত।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ইতোপূর্বে আরও অনেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতিতে সেভাবে আসতে পারেননি কিংবা স্থানীয়দের সাথে সেভাবে সখ্যতা গড়েও তুলতে পারেননি। ফলে কালের ¯্রােতে এখানকার রাজনীতি থেকে তারা নিবৃতেই হারিয়ে যাচ্ছেন, গেছেন। এদের মধ্যে গোলাম দস্তগীর গাজী, শামীম ওসমান, আবুল কালাম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের উত্তরসূরিদেরকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের রাজনীতি টিকে থাকবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

১১ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে