NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জ লঞ্চঘাটের টোল আদায়কারী রফিকুলের সম্পদের পাহাড়!


না.গঞ্জ লঞ্চঘাটের টোল আদায়কারী রফিকুলের সম্পদের পাহাড়!

আগেই খবর বেরিয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের টোল আদায়কারী রফিকুল ইসলামের দুর্ণীতির বিরুদ্ধে। বিআইডব্লিউটিএর সিবিএ সাধারণ সম্পাদক এই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তার সপক্ষে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলামকে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাবসহ ১২ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ এপ্রিল তলব করা হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি। আবুল হোসেনও তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন।

দুদকে আসা তথ্যমতে, সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের টোল আদায়কারী রফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার মাসদাইর মৌজায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়ি কিনেছেন। ফতুল্লা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলে (নম্বর ১০৯৪৪) পাকা ভবনসহ জমির দাম দেখানো হয় ৮৫ লাখ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবনসহ ওই জমির প্রকৃত বাজারমূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা মৌজায় তিন পর্যায়ে মোট ৮৬ শতাংশ জমি কেনেন। এসব জমির দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর বাইরে তার গাড়িও আছে একটি।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহীদা বেগম গৃহিণী হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে ‘মেসার্স ইব্রাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামের একটি ডকইয়ার্ডের মালিক। এই ডকইয়ার্ড তৈরির জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে তার নামে ২০ কাঠা জমি ইজারা নেওয়া হয়। ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসাইনের নামে নারায়ণগঞ্জের গন্ধাকুল এলাকায় মেসার্স ইব্রাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ওয়ার্কশপ নামে আরেকটি ডকইয়ার্ড আছে। এটি নির্মাণের জন্য ইজারা নেওয়া হয় ছয় হাজার বর্গফুট জমি। আইন অনুসারে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাদের নিকটাত্মীয়দের নামে নদীতীরের জায়গা ইজারা দেওয়ার বিধান নেই। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে মেজ ছেলে ওমর ফারুককে বিআইডব্লিউটিএতে মার্কম্যান পদে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুদকে সব সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এরপরও তাকে দুদকে তলব করায় চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে হাজির হননি।’

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক রফিকুলের বিরুদ্ধে দুদকে থাকা অভিযোগে আরও বলা হয়, তাদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস নিয়োগ-বদলি। তাদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে শারীরিক নির্যাতন ও কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে ঢাকার বাইরে বদলি করার অভিযোগ আছে। তাদের মধ্যে অন্যতম বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জীব দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক তুষার কান্তি বণিক, মুজিবর রহমান, মাযহার হোসেন প্রমুখ। তাদের মধ্যে তুষার কান্তি বণিককে বদলি করা হয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে। সদরঘাটে অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার বাইরে বদলি করে দেওয়া হয়।

এই দুই নেতার হাত থেকে বাচতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর দুই সিবিএ নেতাই বলেন, ‘যেসব অনুসন্ধান হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু যারা অভিযোগ করেছেন, তারা বিএনপি-জামায়াতের লোক। সিবিএ থেকে আমাদের সরানোর চেষ্টায় মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে।’

১২ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে