NarayanganjToday

শিরোনাম

ছাত্রলীগ পেটালো পুলিশ, ওসি বললেন যদি বিএনপি হইতো...


ছাত্রলীগ পেটালো পুলিশ, ওসি বললেন যদি বিএনপি হইতো...

পুলিশ পিটিয়েছে আড়াইহাজার গোপালদী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় কুমার সাহা ও তার কর্মীরা। বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে তিনি পুলিশকে পিটিয়ে আহত করে তারা।

তবে, এ ঘটনায় পুলিশ বেধড়ক মার খেলেও আড়াইহাজার থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আক্তার হোসেন মোটেও ব্যথিত নন বরং তিনি পক্ষ অবলম্বন করেছেন হামলাকারী ছাত্রলীগের পক্ষে। একই সাথে তিনি পুলিশ পেটানো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিজের লোক বলেই মন্তব্য করেন। একই সাথে এ সক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।

ওসি আক্তার হোসেন বলেন, “সব নিজেরা নিজেরা। পেপার পত্রিকায় দেওয়া দরকার নাই। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। ওভাবেই শেষ করে দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। আপনেরাও আওয়ামী লীগ তারাও আওয়ামী লীগ। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিলো। আমি আমার বড় স্যারের লগে কথা কইছি। ওইভাবেই শেষ কইরা দিছি। এসব নিয়া এখন আর লেখালেখির দরকার নাই। আর আমার ওইটারও (এটিএসআই মামুন) দোষ আছে। এসব লইয়া ভাই লেখালেখির দরকার নাই। এটা সবারে বইলা দেন। আর অনলাইন ফনলাইনগুলা আমি দেখতাছি।”

প্রসঙ্গত, বুধবার বেলা ১১ টার দিকে মাদক সেবন ও ইভটিজিংয়ের অপরাধে উপজেলার রামচন্দ্রদী গ্রামের জামালউদ্দিনের ছেলে দিদার ইসলামকে গোপালদী বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। এখবর জানতে পেরে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুজয় সাহা আটক দিদারকে ছাড়িয়ে আনতে তদন্ত কেন্দ্রে যান। এসময় পুলিশ আটক দিদারকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ছাত্রলীগের এই নেতা। শুরু করেন তিনি পুলিশকে গালাগালি।

সূত্র আরও জানায়, সুজয় যখন পুলিশ সদস্যদের গালাগাল করছিলো তখন এটিএসআই মামুন তার প্রতিবাদ করে। এসময় ছাত্রলীগের ওই সাধারণ সম্পাদক আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং তাকে মারধর শুরু করেন। একই সাথে ছাত্রলীগের এই নেতা মোবাইলে ডেকে আনেন এবং সকলে একযোগে তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশের উপর হমলা চালাতে থাকে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রায় শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী একযোগে গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছিলো। এমন খবর আড়াইহাজার থানায় পৌঁছালে ওসি আক্তার হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এসময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহা ও দিদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তবে, এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং এমপির লোকজন এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এর আগে ২৯ মার্চে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আড়াইহাজার থানায় প্রবেশ করে এবং একটি জিডিকে কেন্দ্র থানার ভেতরই পুলিশকে হুমকি ধামকি দিয়ে বীরত্ব দেখায়। শুধু তাই নয়, থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন এবং তার কর্মীরা এ হুমকি দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ব্যাপক ভাইরালও হয়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এখনও পর্যন্ত এসব আসামীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

১৭ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে