NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে এসপির অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে এসপির অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত পুলিশের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার নিজের কাজ করছে, করবে। এ ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে আমরা মেন নেব না।

সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে জেলা পুলিশের পক্ষে ১৬টি অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একটি শীর্ষ দৈনিককে ওই কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ এপ্রিল এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

এসপি হারুন অর রশীদ বলেন,“নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যা যা করার দরকার,তা-ই আমরা করছি।আমি দাযিত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক,চাদাবাজি,জুয়া,অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।আর এতেই সাংসদ শামীম ওসমান ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। সাংসদ পুলিশ প্রশাসনকে হুমকি দিচ্ছেন,বাজে কথা বলছেন।তাই আমরা পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করছি।”

এসপির অভিযোগকে শামীম ওসমান ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, “দয়া করে আমাকে ওই লেভেলে নামাবেন না, ওনার মত একজন এসপি আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ দেবে? তার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা, তার সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’ তদবির করছেন বা হুমকি দিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, ‘প্রমান দেখাক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, ‘পুলিশের কাছ থেকে অভিযোগগুলো পেয়েছি। এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার নিজের কাজ করছে, করবে। এ ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে আমরা মেনে নেব না। যারা অন্যায় করবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করবে, চাঁদাবাজি করবে, মাদকের ব্যবসা করবে তাদের আইনের আওতায় এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই পুলিশকে বলব তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে।’

প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে,তিনি দেহরক্ষীর সঙ্গে থাকা ওয়াকিটকি সেট (বেতারযন্ত্র) ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি ও গোপন তথ্য জেনে যেতেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সাংসদের দেহরক্ষী প্রাধীকারভুক্ত নন। তার দেহরক্ষীর বেতারযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই দেহরক্ষীর কাছ থেকে বেতারযন্ত্র প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ। কনস্টেবল মামুন ফকির কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শামীম ওসমানের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন না করে তার ছেলে অয়ন ওসমানের সঙ্গে ১৪ থেকে ১৭ র্মাচ অস্ত্র,গুলিসহ কক্সবাজারে অবস্থান করেন।এটি চাকরীবিধি আইনের পরিপন্থী।ওই সময় শামীম ওসমান দেহরক্ষী ছাড়া সংসদীয় এলাকায় ছিলেন।পরে ২৮ র্মাচ মামুনকে প্রত্যাহার করে আরেকজন সাংসদের দেহরক্ষী হিসাবে নিয়োগ দেন এসপী।কিন্তু ১০ দিনেও নতুন দেহরক্ষী নেননি সাংসদ।

ওয়াকিটকির বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন,‘আমার কোনো ওয়াকিটকি নেই,ওটা ছিলো দেহরক্ষীর। আর দেহরক্ষীর আমার সন্তানের সঙ্গে গিয়েছেন,সেখানে আমাদেরও যাওয়ার কথা ছিলো। তাই ওকে আগে পাঠিয়েছিলাম। পরে একটি জরুরি সভায় ডাকায় আমি যেতে পারিনি।’

শামীম ওসমান প্রভাব খাটিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীপন্থী ৩০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আইভী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসপিকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার র্শীষস্থানীয় সন্ত্রাসী মরি হোসেন ওরফে মিরুকে ২০ জানুয়ারি আটক করায় ক্ষুব্ধ হন শামীম ওসমান। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন মীর। একপর্যায়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। মীরকে গ্রেফতারের পর শামীম ওসমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মন্ত্রী ঢাকার ডিআইজিকে ডেকে বিষয়টি জানতে চান। পরে শামীম ওসমান এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচার দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শামীম ওসমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন প্যরালাইজড লোকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অযৈাক্তিক।

নারায়ণগঞ্জের জামতলা এলাকায় প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শামীম ওসমানের এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষুব্ধ হন শামীম ওসমান।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় ৪১ জন জুয়ারিকে গেফতার করে পুলিশ। এই জুয়াড়িদের পৃষ্ঠপোসক হিসেবে যার নাম এসেছে, তিনি শামীম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় মেরি এন্ডারসনে বিপুল পরিমান মদ ও বিয়ার উদ্ধারের ঘটনায় শামীম ওসমানের শ্যালক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক তানভীর আহমেদের নাম আসে। তবে শামীম ওসমানের দাবি, তার শ্যালকের নাম নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয় বরং এসব কারনে তার শ্যালকের সম্মান বাড়বে।

২২ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে