NarayanganjToday

শিরোনাম

জয়নালদের জন্য এক এসপি হারুনই যথেষ্ট


জয়নালদের জন্য এক এসপি হারুনই যথেষ্ট

জয়নাল আবেদীন যাকে সবাই চেনন আল জয়নাল হিসেবেই। খুব বেশি দিনের উত্থান নয় তার। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে হঠাৎ করেই যেন আলাদ্দিনের চেরাগের বৌদলতে রাতারাতি চলে এলেন কোটিপতিদের কাতারে! ব্যাপারটি সবার কাছেই একরক ঘোরলাগা স্বপ্নের মতোই মনে হয়েছিলো।

শহর ও শহরতলীজুড়ে চাউর হয় তার উত্থানের নানা কাহিনী। তবে, তিনি একজন হকার ছিলেন এবং রিকশা গ্যারেজর সামান্য একজন কর্মজীবি ছিলেন এমন কথাও শোনা যায়। তাই প্রশ্ন উঠে, এখান থেকে রাতারাতি এত উপরে কী করে উঠলেন জয়নাল? এমন প্রশ্নের সাথে সাথে সহজ হিসেবটাও এসে যায়। সর্বত্র আলোচনায় তার ভূমিদস্যুতার ব্যাপারটি। যা সকলের কাছে ওপেন সিক্রেট।

আল জয়নাল নামটিই নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যেমন বিতর্কিত তেমনি বেশ আলোচিত। মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি আব্দুল কাদেরের বেয়াই হিসেবে অনেকেই চেনেন তাকে। বলা হয়ে থাকে, এই প্রভাবেই দীর্ঘদিন ধরে সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন তিনি। যার ফলে নানা সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠলেও পুলিশ প্রশাসন তার টিকিটিও ছুঁতে পারেনি।

সূত্র বলছে, নানা সময় নানা বিতর্ক জন্ম দেওয়া আল জয়নালের বিরুদ্ধে যেমন রয়েছে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ। তেমনি রয়েছে জামায়াত-শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও। তারপরও তিনি তার বেয়াই জেলা অওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদিরের বৌদলতে তাঁতী লীগ নেতাও হয়েছিলেন। যদিও তিনি এবার জাতীয় পার্টি নেতা। কিন্তু তার পুরনো নেশা ভূমিদস্যুতা এখনও রয়েছে সেই পূর্বেকার মতই। বরং বেড়েছে আরও অনেকগুণ।

বিভিন্ন সূত্র মতে, জমি সক্রান্ত বিরোধ বা জমির দলিল সম্পর্কে বেশ ভালো অভিজ্ঞ জয়নাল। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি এবয় জালজালিয়াতি করে নানা সময়েই নানান জনের জমি নিজের কব্জায় নিয়েছেন জয়নাল। এমন কথাই চাউর রয়েছে সর্বত্র। এসব কারণেই তার নামের আগে ‘ভূমিদস্যু’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। তবে, আপদে বিপদে বেয়াইকে তিনি পাশে পাচ্ছেন বলেই এত বিতর্কিত হয়েও চিন্তামুক্ত তিনি।

ভূমিদস্যুতার অভিযোগে আল জয়নালের বিরুদ্ধে সদর, ফতুল্লায় নানা সময় নানা অভিযোগ উত্থাপন হয়ে আসছিলো। মামলাও হয়েছিলো এরমধ্যে একবার। এছাড়াও রাজউকের জমি দখল করে আল জয়না ট্রেড সেন্টার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধ। যদিও এ জমিটি তিনি লিজ নিয়ে এই ট্রেড সেন্টার করেছেন বলে শোনা যায়। কিন্তু নকশা বহির্ভূত ভবন তোলার বিষয়টি ছিলো আলোচ্য। এ অভিযোগে ভবনটি উচ্ছেদ করতে আসলেও অদৃশ্য ইশারায় ফিরে যায় রাজউক। শোনা গেছে, মোটা অংকের লেনদেনের কারণে রাজউক নারায়ণগঞ্জ জোন এই উচ্ছেদ কর্মকা- থেকে বিরত থেকেছেন।

এদিকে ২৪ এপ্রিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফারুক বাদী হয়ে আল জয়নালের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ২২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর থানায় ঢুকে পুলিশকে গুলি করার অভিযোগ ছিলো আল জয়নালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দেনদরবারে পরদিন ২৫ ডিসেম্বর তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও হাসান ফেরদৌস জুয়েলের দায়ের করা একটি মামলায় ২০১৫ সালের ৫ মার্চ জয়নালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অপরদিকে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে জামায়াত ও শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকাতর অভিযোগে সদর মডেল থানায় জয়নালের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালের ১ নভেম্বর জয়নালের বিরুদ্ধে তৎকালিন সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের একটি জিডি করেছিলেন।

তবে, এতএত বিতর্ক জয়নালকে ঘিরে থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন তেমন জোড়ালো ভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। এরমধ্যে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদই ব্যতিক্রম স্বাক্ষর রেখেছেন। তাই সাধারণ মানুষজনও বলছেন, জয়নালের মতো ভূমিদস্যুকে সোজা করতে এক হারুনই যথেষ্ট।

২৫ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে