NarayanganjToday

শিরোনাম

রাইফেল ক্লাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এসপির নাম দিয়েছে ‘বাংলার সিংহাম’?


রাইফেল ক্লাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এসপির নাম দিয়েছে ‘বাংলার সিংহাম’?

সম্প্রতি বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে ‘বাংলার সিংহাম’ উল্লেখ করে কয়েকটি ব্যানার। নগরীর অনেকের মাঝেই এসব ব্যানার ছিলো অত্যন্ত আগ্রহের। এখনও চলছে এ নিয়ে নানা আলোচনা। সমালোচনাও যে হচ্ছে না। তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ এসব নিয়ে যে সমালোচনা করছে তা গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনেও প্রকাশ পেয়েছে।

তবে, নগরবাসীর মনে প্রশ্ন, এই ব্যানার সাঁটানোর নেপথ্যের কারণ নিয়ে। তারা বলছেন, আপাত দৃষ্টিতে সাঁটানো সেসব ব্যানারে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের প্রশংসাই করা হয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, আসলেই কি প্রশংসা করে সেসব সাঁটানো নাকি তাকে বিতর্কীত করা উদ্দেশ্য রয়েছে এর পিছনে?

যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যানারগুলো ৪ মে রাত ১১ টার দিকে সাঁটানো শুরু হয়। প্রথমে নগরীর চাষাড়া খাজা সুপার মার্কেটে একটি ব্যানার সাঁটাতে আসেন বেশ কয়েকজন যুবক। তারা প্রত্যেকেই চাষাড়া রাইফেল ক্লাব সংশ্লিষ্ট। তবে, এদের মধ্যে কেবল ইমরুল কায়েস নামে একজনকে চিনতে পেরেছেন প্রত্যক্ষদর্শী। ইমরুল রাইফেল ক্লাবের নির্বাচিত শ্যূটিং সেক্রেটারি। তার সাথে আরও যারা ছিলেন, তারা সবাই ক্লাবেই আসা যাওয়া করে থাকেন।

এদিকে নগরবাসী বলছেন, হঠাৎ করে রাইফেল ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন ব্যানার সাঁটানোর উদ্দেশ্য কী হতে পারে। কারো কারো কাছে বিষয়টি পজেটিভ হলেও অনেকই আবার নেগেটিভ ভাবে নিচ্ছেন ব্যাপারটি। কেননা, ইতিহাসে কোনো পুলিশের পক্ষে এমন ব্যানার সাঁটানোর নজির নেই। অন্তত এই বাংলায়।

এসব ব্যানার সাঁটানো হয় তাদের নিয়ে যারা, রাজনীতিক, সামাজিক, বা অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত। ফলে পুলিশকে নিয়ে এমন ব্যানার টানানোর কারণে অনেকের মাঝেই নানা ধরণের প্রশ্নের উদ্রেক করছে। কারো কাছে, পুলিশ সুপারকে বিতর্কীত করার একটা কৌশল এটি। আর এই ‘কৌশলের’ ব্যাপারটি উঠে আসার একমাত্র কারণই হচ্ছে রাইফেল ক্লাব সংশ্লিষ্টরা এটি সাঁটিয়েছেন।

তবে, পুলিশ সুপারকে কেন্দ্র করে সাঁটানো ব্যানার সম্পর্কে রাইফেল ক্লাবের কর্তা ব্যক্তিরা বিষয়টি কতটা অবগত রয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিলো ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজলের কাছে।

তিনি বলেন, “ব্যানারটি কে বা কারা সাঁটিয়েছেন, কেন সাঁটিয়েছেন তা আমার জানা নেই। যদি আমাদের শ্যূটিং সেক্রেটারি সাঁটিয়ে থাকেন তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এর সাথে ক্লাবের কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা, ক্লাব থেকে কিছু করতে হলে সেটি মিটিংয়ে রেজুলেশন করে নিতে হয়। আর এ বিষয়টি যেহেতু আমাদের কারোরই জানা নেই। তাই বলবো এটা ইমরুলের ব্যক্তিগত। হয়তো তার কাছে পুলিশ সুপারকে ভালো লেগেছে তাই করেছেন।”

তবে, ব্যানার টানানোর বিষয়টি যেহেতু ক্লাবের নয় তাই এ নিয়ে তিনি ইমরুল কায়েসের কাছ থেকে কিছু জানতে চাইবেন না বলে জানান।

এদিকে, আলোচিত ব্যানারটি নিয়ে পজেটিভ এবং নেগেটিভ দুই দিকই বিবেচনায় রেখেছে জেলা পুলিশ।

এদিকে ব্যানারটি সাঁটানো প্রসঙ্গে যার নাম উঠে এসেছে সেই রাইফেল ক্লাবের শ্যূটিং সেক্রেটারি কাজী ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, “ব্যানার কে লাগিয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে, এর সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কেউ যদি আমার নাম বলে থাকে তাহলে আমি বলবো হয়তো সে আমাকে না চিনেই বলেছে।”

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং ডিআইওটু সাজ্জাদ রোমন বলেন, “পুলিশ যদি ভালো কাজ করে তবে মানুষ সাধুবাধ জানাবে। মানুষের মনে স্থান না পেলে তারা সমালোচনা করবেই। তবে, ব্যানারটি কারা লাগিয়েছে, কেন লাগিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। এর পিছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা-ও জানার চেষ্টা করছি।”

৭ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে