NarayanganjToday

শিরোনাম

ডিস বাবুর রোষানলে ৮ বছর যুদ্ধ শেষে মারা যায় মঈনুল


ডিস বাবুর রোষানলে ৮ বছর যুদ্ধ শেষে মারা যায় মঈনুল

কর্ম গুণেই মানুষ ফল ভোগ করে। এটি বহুল প্রচলিত কথা। আর এই কথাটির মতোই দশা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর। অতীতে তিনি যা করেছেন আজ তার সাথেই ঠিক তাই তাই হচ্ছে। সবাই বলছেন, এটা প্রকৃতির বিচার। প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।

১৭ এপ্রিল বন্দর থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন আব্দুল করিম বাবু রওফে ডিস বাবু। এরপর একে একে তার বিরুদ্ধে আর অর্ধডজন মামলা দায়ের হয়। একটি থেকে সে জামিন পেলেও আরেকটিতে দেখানো হচ্ছে শ্যোন অ্যারেস্ট। এরমধ্যে একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ডিস বাবুর বাড়ি থেকে তার লাইসেন্স করা একটি বিদেশী পিস্তল ও শর্টগানের সাথে ৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুক্তভোগি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। মোদ্দা কথা, ডিস বাবুকে ঠিক কতদিন কারা অন্তরিন থাকতে হবে তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারো মতে, তার মুক্তি প্রক্রিয়া দিন দিন জটিল থেকে আরও বেশি জচিল হচ্ছে।

সূত্র বলছে, আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু অর্থ আর ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদে যারপরনাই বেপরোয়া হয়ে উঠে। কাউকে তিনি শায়েস্তা করার চেষ্টা করলে নিজে যেমন বাহিনীর আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি কিছু অসাধু পুলিশদের মাধ্যমে মামলা বা অন্য উপায়ে ফাঁসিয়ে হয়রানি থেকে শুরু করে জেল পর্যন্তও তিনি খাটাতেন বলে ভুক্তভোগি সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়ণের মুসলিম নগরের বাসিন্দা মঈনুল হোসেন। তিনি ছিলেন একজন ডিস ব্যবসায়ী। সরকারি অনুমোদিত এবং ক্যাব এর একজন সদস্য। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই মঈনুল হোসেনকে ডিস বাবু আর ব্যবসা করতে দেননি। ওখানে তার বিকল্প হিসেবে আওলাদ ও মান্নানকে দাঁড় করিয়ে দেন।

সূত্র বলছে, আইনের আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ডিস ব্যবসা চালানোর জন্য চেষ্টা তদবির শুরু করেন মঈনুল হোসেন। তিনি বাবুর কুটকৌশলের কাছে মাথা নত করেননি। কিন্তু এতে ডিস বাবু তার উপর তীব্র ভাবে অসন্তোষ হন। আর এই অসন্তোষের কারণে একের পর এক মামলার আসামী হয়েছিলেন ওই মঈনুল। সব মিলিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি মামলার আসামী হতে হয় মঈনুলকে।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু সব থেকে বেশি ব্যবহার করতেন ডিবি পুলিশের কিছু আসাধু ব্যক্তিদের। তাদের মাধ্যমেই কখনো মাদক মামলা, কখনো ডাকাতি মামলার আসামী করতে মঈনুলকে। অথচ স্থানীয় ভাবে পৈত্রিক সূত্রেই ব্যাপক অর্থবিত্তের মালিক ছিলেন মঈনুল হোসেন। তার আয়ের মূল উৎসই ছিলো বাড়ি ভাড়া। সেই তাকে জেলাসহ জেলার বাইরে বিভিন্ন জেলায় দায়ের করা ডাকাতি মামলার আসামীও করা হয়। যা অনেকের কাছেই অমানবিক হলেও বাবুর কাছে সেসব বিষয়গুলো ছিলো উল্লাসের।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একের পর এক মামলার আসামী হয়েছেন মঈনুল হোসেন। এক মামলায় অ্যারেস্ট হলে জামিন পেলেও আরেকটি মামলায় হয় জেলগেট থেকে নয়তো জামিনপ্রাপ্তির এক থেকে দুদিনের মধ্যে ডিবি পুলিশ গিয়ে হানা দিতেন তার বাড়িতে। এভাবেই দীর্ঘ আটব বছর কাটিয়েছিলেন তিনি। শেষতক ২০১৬ সালে রোগে শোকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ঢাকার বারডেম হাসপাতালে। আর সেখানেই একজন মঈনুল হোসেন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

শুধু তাই নয়, ডিস বাবুর অন্যায়ের প্রতিবাদ কেউ করলে তাকেও মাদক বিক্রেতা কিংবা ডাকাত বানিয়ে ছাড়তেন তিনি। তার রোষানলে পাইকপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন দেওয়ান নামে একজন সাবেক ফুটবলারও। তাকে ১‘শ পিস ইয়াবা দিয়ে পুলিশ দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে বাবুর বিরুদ্ধে। যদিও এই ইয়াবা মামলায় এবার উল্টো আসামী হচ্ছেন ডিস বাবু।

এদিকে ক্ষমতার দাপটে আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর এতটাই আস্ফালন ছিলো যে সে ধরাকে সরা জ্ঞানে পরিণিত করার চেষ্টা প্রায় করতেন। আর তার কোমরে থাকা পিস্তল যেখানে সেখানেই প্রদর্শন করতেন। এমনিক অফিসে বসে বা অন্য কোথাও বসে কথা বলার সময় তিনি তার পিস্তলটি লোকজনকে ভয় দেখানোর মানসে তা টেবিলের উপর রাখতেন।

শুধু তাই নয়, তার কাছে থাকা দুটি লাইসেন্স করা অস্ত্র থাকলেও তার বাহিনীর কাছে এমন আরও অনেক অস্ত্র রয়েছে বলেও স্থানীয়রা মনে করেন। পুলিশ তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সে তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

১১ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে