NarayanganjToday

শিরোনাম

সাইলোতে বিআইডব্লিউটিএ’র খামখেয়ালিতে বন্ধ হওয়া পথে একটি স্কুল


সাইলোতে বিআইডব্লিউটিএ’র খামখেয়ালিতে বন্ধ হওয়া পথে একটি স্কুল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো গেইট এলাকায় নদীর তীরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত একটি ঘাট পাঁচতারা জুনিয়র হাই স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই ঘাটটির কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।

এমন অভিযোগ করেছেন পাঁচতারা স্মৃতি সংসদের সভাপতি আলী আকবর খান। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের পক্ষ থেকে উপরোক্ত ঘাট প্রসঙ্গে লিখিত আকারে একে একে তিনবার ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ’ নারায়ণগঞ্জ বরাবর আপত্তি জানানো হয়েছে।

তার দাবি, প্রথমবার ২০১৫ সালের ২০ মে, দ্বিতীয়বার ১৬ সালের ৮ মে এবং তৃতীয়বার ১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তাতেও কোনো ধরনের প্রতিকার না পেয়ে ১৮ সালের ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার চেয়ারম্যানের বরাবরও একই কায়দায় আপত্তি জানানো হয়। তাতেও কাজ হয়নি। এমনকি আপত্তির সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে রাষ্ট্রীয় ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কখনো ঘটনাস্থলেও পাঠায়নি।

আলী আকবর বলেন, নিজস্ব মালিকানাধীন ৩ শতক জমির উপর ১৯৭৯ সালে ‘সিদ্ধিরগঞ্জ পাঁচতারা স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৯৬ সালে ওই জমির উপর পাঁচতারা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা ২০১৫ সালে ৮ম শ্রেনীতে উন্নতি লাভ করে জুনিয়র হাই স্কুলে পরিণত হয়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার জন্য স্কুল ভবনের পাশ দিয়ে একটি রাস্তা রয়েছে। যার পুরোটাই স্কুলের সম্পত্তি। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ ২০১৫ সালে নিজস্ব রাস্তা নির্মান না করে নদীর তীরে একটি ঘাট প্রতিষ্ঠা করে। ওই ঘাট দিয়ে বড় বড় জাহাজ থেকে নিয়মিত পন্য খালাশ করা হয়। সেই খালাশকৃত পন্য বড় বড় ট্রাক, কভারভ্যান ও লড়ি দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানো হয় স্কুলের নিজস্ব রাস্তা দিয়ে। এর ফলে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হতে থাকে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এই স্কুল থেকে সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র ভর্তি করেন। যার ফলে এক সময় যেখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩ থেকে ৪’শ। অথচ এখন সেখানে ৫০ জনেরও কম ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অন্যদিকে একই কারণে কোনো অভিভাবক আর নতুন করে তাদের সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করছেন না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার যেখানে দেশের শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে সেখানে একটি সরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে সরেজমিনে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায় স্কুলটির রাস্তায় ট্রাক স্ট্যান্ড করে রাখা হয়েছে। স্কুলটির সামনে বেশ কয়েকটি ট্রাক দাঁড়ানো। এমনকি স্কুলটির মূল গেট বন্ধ করেও রাখা হয়েছে ট্রাক। যা শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়া পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এমনকি স্কুলের পাশেই শব্দ করে অশ্লীল শব্দও তারা উচ্চারণ করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, স্কুলটিতে আগে কয়েকশত শিক্ষার্থী ছিলো। বেশ জমজমাট ছিলো এটি। কিন্তু যেদিন থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয় স্কুল ভবনটির পাশে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করে। এখানে নিরাপত্তার অভাব থাকায় অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এ স্কুলে দিতে রাজি হচ্ছেন না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক গুলজার হোসেন ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’ কে বলেন, ঘাটতো আর আমি প্রতিষ্ঠা কারিনি, করেছে অথরিটি। তাছাড়া ঘাট নির্মান করা হয়েছে স্থানীয় জনসাধারনের সুবিধার্থে। এখন এর জন্য যদি স্কুলের কোনো সমস্য হয়ে থাকে তাহলে এটি সামাজিক সমস্যা। আর সামাজিক সমস্যার ব্যপারে লিখিত আকারে জানানোর দরকার কি। সাইলো থেকে আমাদের কার্যালয়তো খুব বেশী দূরে না। সুতরাং স্বশরীরে আসলে সামাজিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। 

১৪ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে