NarayanganjToday

শিরোনাম

যাতায়তে একেবারে অনুপযোগী ঢাকা-না.গঞ্জ পুরাতন সড়ক


যাতায়তে একেবারে অনুপযোগী ঢাকা-না.গঞ্জ পুরাতন সড়ক

মহসীন আলম : ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি এখন পথচারী ও যাত্রী সাধারনের চলাচলের জন্য একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

এর জন্য অপ্রশস্ত সড়ক, মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন, তীব্র যানজট এবং অসহনীয় ধূলাকে দায়ী করছেন এ পথে চলাচলকারী সর্বস্তরের মানুষ।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, একসময় সড়কপথে রাজধানী ঢাকার সাথে নারায়ণগঞ্জবাসীর যাতায়তের একমাত্র পথ ছিল এই সড়কটি। কিন্তু পরবর্তীতে মানুষের সাথে পাল্লা দিয়ে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পুরাতন সড়কের উপর থেকে চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত একটি লিংক রোড নির্মান করে। পরবর্তীতে এই সড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে রোডস এ্যান্ড হাউওয়ে সড়কটি আরো প্রশস্ত করে মাঝখান দিয়ে ডিভাইডার দিয়ে দুই লেনে উন্নিত করা হয়। যেকারনে সকল প্রকার যানবাহন এ পথ দিয়ে সাচ্ছন্দে যাতায়ত করতে পেরে খুশি।

কিন্তু এর বিপরীতে বেজায় নাখোশ পুরাতন সড়কপথ দিয়ে যাতায়তকারী থেকে শুরু করে যানবাহনের চালক ও এ পথের পাশে বসাবাসকারী সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। কেননা এ সড়কটি বুড়িঙ্গা নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠার কারনে এ সড়কের আশেপাশে নানা শ্রেনীর বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে প্রতিনিয়ত এ সড়কে সবধরনের যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে। তবে অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় পন্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই প্রায় দুই তৃতীয়াংশ। তার উপর রয়েছে অগনিত অনুমদিত ব্যটারি চালিত অট রিক্সা। তার উপর সড়কটি জন্মলগ্ন থেকে ওয়ানওয়ে। আর এ কারনে এমন কোন দিন নাই যে, এ পথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে না। যানজটে আটকা পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনের যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

অন্যদিকে এরচাইতে বেশী ভোগান্তি পোহাতে হয় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে। কেননা থানটি একেবারেই এ সড়ক ঘেসা। যার ফলে থানার কোথাও বড় ধরনের কোন অপরাধ বা দূর্ঘটনা সংগঠিত হলে বা দাগী আসামীদেও সন্ধান পেলে যানজটের কারনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌচাতে পারেন না। যেকারনে সেই সুযোগে অপরাধাীরা পুলিশ পৌছার আগেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় প্রায়শই থানা পুলিশ এমন অভিযোগ করে থাকেন।

অন্যদিকে কেউ কেউ আবার এ সড়কটিকে ধূলার সড়ক বলে ডেকে থাকেন। কেননা ফতুল্লার পঞ্চবটির পর থেকে শ্যামপুরের আগ পর্যন্ত পচন্ড ধূলা উড়ে থাকে। কখনো কখনো ধূলার মাত্রা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছে যে, তখন কনকনে শীতের কুয়াশা বলে মনে হয়। ধূলায় অন্ধকারচ্ছন্ন হবার কারনে মাঝেমধ্যে ছোটখাট দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। আবার অতি মাত্রায় ধূলার কারনে মানুষের মাথার চুল নষ্ট হওয়া সহ নানা ধরনের রোগ ব্যধি দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ দাপা বালুঘাট থেকে শুরু করে শৈলকুড়া পর্যন্ত,আবার পাগলা বাজার থেকে শুরু করে তালতলা পর্যন্ত অসংখ্য বালুঘট ও ইট ব্যবসা সহ বিভিন্ন নির্মান সামগ্রীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এসব ব্যবসার কারনে যেমন ধূলার সৃষ্টি  তেমনি পন্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাও অতিমাত্রায় বৃদ্ধির কারণ। 

উপরোক্ত বিষয়গুলো সাথে একমত পোষন করে এ সড়কের পাশেরই বাসিন্দা  ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, প্রথমত এই সড়কের উভয় পাশে নির্মিত ফুটপাত নাই, দ্বিতীয়ত সড়কের পাশে বালুঘাটগুলো থাকার কারনে সড়কে অতিরিক্ত ধূলার সৃষ্টি হচ্ছে। তৃতীয়ত সড়কটি ওয়ানওয়ে হওয়ার কারনে যানজটগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সড়কটিকে ৪ লেনে উন্নিত করার কার্যক্রম সরকার গ্রহণ করেছে বলে শুনেছি। যদি সেটি বাস্তবায়িত হয় তবে আর কোন সমস্যা থাকবে না। 

এ প্রসঙ্গে ‘নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

১৯ মে,২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে