NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠজনের কাছে ধরাশায়ী সুফিয়ান


শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠজনের কাছে ধরাশায়ী সুফিয়ান

সংসদ নির্বাচন করবেন, এমন আশাতে বেশ কয়েকটি সভাও করেন। মনোনয়নপত্রও কেনেন আবু সুফিয়ান। অনেকের ধারণা ছিলো মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে মনোনয়ন পেলেও পেতে পারেন। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারাই নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন সুফিয়ান। কিন্তু সে আর হয়ে উঠেনি।

এবার বন্দর উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান। শোডাউন থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগও করেছেন বেশ কয়েকটি। এবার হয়তো সুফিয়ানই পাবেন নৌকা। এ কোনো সন্দেহ নেই। এমনটাই বলছিলেন সবাই। কিন্তু শেষতক সুফিয়ানের জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ধরাশায়ী হয়েছেন শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠ জন রশিদের কাছে।

এদিকে মনোনয়ন পাবেন কিনা বা না পেলে কি করবেন, শনিবার নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে সুফিয়ানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো। তবে, তিনি অত্যন্ত কৌশলে কিছুটা দাম্ভিকতার সাথেই উত্তর দিয়েছিলেন। তার উত্তরের ধরণ থেকে অনুমান করা গিয়েছিলো, তিনিই নিশ্চিত নৌকা পাচ্ছেন!

সুফিয়ান বলেছিলেন, “আমি ব্যক্তি সুফিয়ানকেও চিনি না। আমি নির্বাচন করবো নৌকার। এর বাইরে আমার আর অন্য কোনো কথা নাই।” তাই প্রশ্ন হচ্ছে এম এ রশিদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে তিনি নামবেন কিনা?

কেন না, এম এ রশিদ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ আর আবু সুফিয়ান হচ্ছে ওসমান পরিবার বিরোধী মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠজন। তাই এই প্রশ্নটা এখন সব থেকে বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে, এখন দেখার বিষয় সুফিয়ান তার বলা বক্তব্যের মতো নৌকার পক্ষে মাঠে নামেন কিনা।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মনোনয়ন জমাদানের শেষ তারিখ ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে, প্রথ্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং প্রতিক বরাদ্ধ দেয়া হবে ৩১ মে।

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এক বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ এবং মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ সালামের নাম প্রার্থী তালিকায় বাছাই করে যুক্ত করেন এবং তা কেন্দ্রে পাঠান।

এরমধ্যে রোববার (১৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণবভনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এম এ রশিদকে নৌকার মাঝি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন সুফিয়ান ও সালাম।

অপরদিকে সরকারদলীয় ওই তিনজনের বাইরে মাত্র একজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। আর তিনি হলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও একই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। তবে বিএনপি কোন উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিলেও এই প্রার্থী অংশ নেবার কথা রয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তিনি নিজেই ঘোষনা দিয়েছেন।

১৯ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে