NarayanganjToday

শিরোনাম

সানি গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফরহাদ


সানি গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফরহাদ

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সানি গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা রয়েছ তার ব্যবসায়ীক পার্টনার আরেক শীর্ষ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ফরহাদ। বহু অপকর্মের হোতা এই ফরহাদ প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, মাদক ও চোরাই তেলের ব্যবসা করে আসছে।

৩০ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ আটক হয় সানি। সে ফরহাদের ব্যবসায়ীক পার্টনার এবং বাল্যবন্ধু।

সূত্র বলছে, ফতুল্লার ফাজিলপুর এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে ফরহাদের চোরাই তেল ব্যবসা দিয়ে অবৈধ ব্যবসার হাতেখড়ি। পরবর্তীতে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় সে জড়িয়ে পড়ে। এসব কারণে একাধিকবার ডিবি, র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলো। এমনকি তার বিরুদ্ধে সোর্স শাওন হত্যার অভিযোগও ছিলো।

সূত্র বলছে, ফতুল্লায় যে কজন মাদক বিক্রেতা রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ফরহাদ খান। একসময় চোরাই তেলে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সেবীদের কাছে ‘ইয়া ডন’ হিসেবেই সে পরিচিত।

তার উত্থান ২০০১ সালে জোট সরকার আমলে জনৈক প্রভাবশালীর হাত ধরে। এর আগে অনেকের কাছেই সে ছিলো টোকাই ফরহাদ। ফতুল্লার ই¯্রাফিল সরকারের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতো পুরো পরিবার নিয়ে। একমাত্র উপার্জনখম ছিলেন তাঁর বাবা রুস্তম আলী। তিনি ছিলেন সেসময় চোলাই মদ ব্যবসায়ী। মূলত এই চোলাই মদ ব্যবসার উপরই নির্ভর ছিলো তাঁদের ৬ সদস্য বিশিষ্ট সংসার।

সূত্র জানায় এরমধ্যে ফরহাদ নিজ ইচ্ছেতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বাসায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় পঞ্চবটির ডালডা মিল এলাকার আব্দুল মালেক মিয়ার বস্তিঘরে ৩০০ টাকা মাসে চুক্তিতে একটি রুম ভাড়া নেন। তবে অর্থকষ্টের কারণে সে ভাড়াটাও দিতে ব্যর্থ হতো ফরহাদ। তিনমাসের ভাড়া জমে যাওয়ার কারণে বাড়িওয়ালাও একদিন তাদের বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। তখন সময়টা ২০০০ সালের শেষের দিক।

এরপরই তার সখ্যতা গড়ে ওঠে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সাথে। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই প্রভাবশালীর বদৌলতে শুরু করে চোরাই তেল ব্যবসা। যা জোট সরকারের আমলে সরাসরি যমুনা ডিপোর ফেন্সি (তারের ঘের) কেটে পাইপ ও মটরের সাহায্যে তেলের ট্যাঙ্ক থেকে তেল চুরি চলতে থাকে। প্রতিরাতেই হাজার হাজার লিটার জ¦ালানি তেল চুরি করা হতো ফরহাদের নেতৃত্বে আর নেপথ্যে শেল্টার দিতেন ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ওই সময় তাদের আস্তানা ছিলো যমুনা ও মেঘনা ডিপোর মধ্যবর্তী স্থান এলাহী বক্সে। এখানে তেল চুরির পাশাপাশি হেন কোনো অপকর্ম ছিলো না যা এই ফরহাদের নেতৃত্বে ঘটেনি। মাদকের আখাড়াতেও পরিণত হয়েছিলো এই স্থানটি। একবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থা এক বস্তা ফেনসিডিলও উদ্ধার করে। তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূলহোতা ফরহাদ ও তার ‘গডফাদার’।

চারদিকে ফরহাদের ব্যাপক পরিচিত বাড়তে থাকে। তেল চুরি ও মাদকের ব্যবসা থেকে রাতারাতি টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যায় ফরহাদ। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে ফতুল্লার ফাজিলপুর এলাকায় দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ, আলিসান ফার্নিচারসহ একাধিক গাড়িও কেনেন সে। সেই সাথে তার সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজনকে কয়েকটি পালসারও কিনে দিয়েছিলো।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চোরাই তেল ব্যবসায় ভাটা পড়লে ফরহাদ শুরু করে ফেনসিডিলের ব্যবসা। তার সাথে সংযুক্ত হয় ফাজিলপুর এলাকার আল ইসলামের ছেলে স্বপন। এরমধ্যে কুমিল্লার সোয়াগাজিতে ফেনসিডিলের চালানসহ আটকও হয়েছিলো স্বপন।

সূত্র বলছে, ফরহাদ ও তার সিন্ডিকেট দমে যাওয়ার নয়। বরং আরও ব্যাপক পরিসরে মাদকের ব্যবসা শুরু করে। যুক্ত করে ইয়াবা। বহনে সুবিধা হওয়ার কারণে ইয়াবা ব্যবসাকেই জুঁতসই হিসেবে গ্রহণ করে সে। টেকনাফ থেকে নিয়ে আসে ইয়াবার চালান। সেই সাথে নিজেদের সংগ্রহে রাখে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রও। এরমধ্যে ফাজিলপুর পঞ্চায়েতের সামনে তার সহযোগি স্বপন প্রকাশ্যে এলাকায় ভীতি ছড়াতে অতর্কিত গুলি ছুড়ে। সে ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়।

এছাড়াও ফরহাদ ও স্বপন একাধিকবার মাদক ও অস্ত্রসহ র‌্যাব পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলো। এছাড়াও মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরেক মাদক ব্যবসায়ী চাড়াল মিনুফ বাহিনীর সাথে ফরহাদ বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মিনুফ বাহিনীর হাতে আহত হয়েছিলো ফহাদ। তাকে মৃত ভেবে মিনুফ বাহিনী চলে গেলে ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকায় ভর্তি করানো হলে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ফের এলাকায় ফিরে আসে সে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় ফিরে আসার পর আবারও সে শুরু করে মাদেকর ব্যবসা। এবারও তাকে শেল্টার দিতে থাকে তার সেই ‘গডফাদার’। মূলত প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি ছত্রছায়ায় থাকার কারণে ফরহাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো টু শব্দটিও করতে সাহস দেখায় না।

সূত্র বলছে, পুলিশের সোর্স শাওন হত্যাকা-ের সাথেও ফরহাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরিফ নামের এক কথিত সাংবাদিক এই হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর ফরহাদের নামে ওঠে আসে তার স্বীকারোক্তিতে। তবে প্রভাবশালী ওই মহলটির জন্য সুরক্ষিত থেকে যায় সে।

এছাড়া তেল চুরির ঘটনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে যমুনা ডিপোর কর্মকর্তা রবিউলকে কুপিয়ে জখমও করে ফরহাদ বাহিনী, এমন অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

৮ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে