NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রশংসিত ‘বাংলার সিংহাম’ এসপি হারুন, তবে...


প্রশংসিত ‘বাংলার সিংহাম’ এসপি হারুন, তবে...

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি দিয়ে ব্যানার সাঁটিয়েছিলেন মানুষ। বলা চলে এটা তার প্রতি, তার কর্মদক্ষতার প্রতি মানুষের অনুরাগ। কিন্তু চলচ্চিত্রের সিংহামের চারিত্রিক গুণাবলির থেকে যোজন যোজন দূরে রয়েছেন এই এসপি। এমনটিই মনে করছেন সচেতন মহল।

বলা হচ্ছে, এসপি হারুন অর রশীদ নারায়ণগঞ্জে আসার পর একটা বৈপ্লবিক পরিবতর্ন এনেছেন। যা ইতোপূর্বে অন্য কোনো এসপি দেখাতে পারেননি তা তিনি দেখিয়েছেন। গ্রেফতার করেছেন প্রভাবশালী ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠজনদের অনেককেই। শীর্ষ মাদক কারবারিদের অনেকেই এসপির অগ্নিমূর্তির কারণে গা ঢাকা দিয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরে। তবে, এরপরও প্রশ্নবিদ্ধ এসপি হারুন অর রশীদ!

সচেতন মহলের মতে, এসপি হারুনের অ্যাকশন কেবল সদর, ফতুল্লা কেন্দ্রিকই সীমাবব্ধ। বিশেষ করে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ক্ষেত্রে। কিন্তু জেলার অন্যান্য উপজেলার সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে এসপি হারুনের অ্যাকশন দেখা যায়নি। কারো কারো মতে, অন্যত্র এসপি হারুনের নমনিয়তা ছিলো লক্ষ্যনীয়। বিশেষ করে আড়াইহাজার প্রসঙ্গে এসপিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র মতে, মার্চের শেষের দিকে আড়াইহাজার থানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একটি জিডিকে কেন্দ্র পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রকাশ্যেই অসদাচারণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যে ভিডিও সর্বত্র ভাইরাল হয়। ভিডিওতে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে পুলিশকে হুমকি দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। থানার বাইরে বের হলে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে তারা থানা ত্যাগ করে।

ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার)-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর অনুসারি বলে জানা গেছে। কিন্তু পুলিশ সুপার ওই ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যা নিয়ে সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এর এক মাসের মধ্যে আড়াইহাজারে এক ইভটিজারকে আটক করায় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছিনিয়ে নেওয়া হয় আসামীকে। মারধর করা হয় পুলিশ সদস্যকে। এরাও এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর লোকজন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো অ্যাকশন নিতে দেখা যায়নি পুলিশ সুপারকে। যা পুলিশ সুপারের চমকপ্রদ অনেক কাজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জবাসী বলছেন, নারায়ণগঞ্জ শহর ও ফতুল্লা অঞ্চলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূলে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন এসপি হারুন অর রশীদ। তিনি জেলায় যোগদানের পর কাউন্সিলর আব্দুল করীম বাবু ওরফে ডিস বাবু, শাহ আলম গাজী টেনু, মীর হোসেন মীরু, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, কামরুল ইসলাম মুন্নাসহ বেশ কয়েকজন বিতর্কীতি, সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেন। যা ইতোপূর্বে অন্য কেউ পারেনি। এর ফলে অন্যান্য সন্ত্রাসীরাও নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়াও এসপি হারুনের অ্যাকশনের কারণে সদর ও ফতুল্লার মাদক কারবারিরাও দিয়েছেন গা ঢাকা। কমে এসেছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির ঘটনাও। ফুটপাতও রয়েছে হকারমুক্ত। যানজটও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু আড়াইহাজারের পরপর দুটি ঘটনায় তার এসব সাফল্য ম্লান করে দিচ্ছে বলেই মনে করেন অনেকে।

কারো কারো মতে, শামীম ওসমান অনুসারিদের জন্য নির্দয় হলেও নজরুল ইসলাম বাবু অনুসারিদের জন্য সদয় হারুন অর রশীদ। যা অনেকটা একপেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া তাকে বাংলার সিংহাম উপাধি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিংহাম কখনোই একপেশি ছিলেন না। সিংহাম মানেই অপরাধীদের যম। তাই সবাই প্রত্যাশা করছেন, এসপি হারুনকে সত্যিকার অর্থে সিংহামের চরিত্রেই অপরাধীদের যম হিসেবে দেখা যাবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের আলোচিত একটি চরিত্র ‘সিংহাম’। চলমান প্রেক্ষাপট ও পুলিশ প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবের চিত্র এ ছবিতে চিত্রায়িত হয়। পুলিশ প্রশাসনকে প্রাধান্য দিয়ে দক্ষিণী চলচ্চিত্রে এর দুটি সিক্যুয়েল করা হয়। পরবর্তীতে গল্পটি কপিরাইট সত্ত্ব কিনে নিয়ে আসা হয় বলিউডে। অজয় দেবগানকে পুলিশ অফিসার হিসেবে প্রধান চরিত্রে রেখে একে একে ‘সিংহাম’ এর দুটি সিক্যুয়েলই তৈরি করেন বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রোহিত শেঠি।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম ‘বাজিরাও সিংহাম’। এই চরিত্রে রূপদান করেন অজয় দেবগান। তিনি থাকেন একজন পুলিশ অফিসার। কাল্পনিক এই চরিত্রের ব্যক্তিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন, উপর মহলের তদ্বিরও সে পাত্তা না দিয়ে নিজ দায়িত্বে থাকেন একনিষ্ঠ।

১০ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে